সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রঙ বদলায় মগজ!

index-9নিউজ ডেস্ক: রাগ, দুঃখ, বিস্ময়, অভিমান সব অনুভূতি মুখে অভিব্যক্তি দেখে সহজেই অনুমান করা যায়। মনে নানা অনুভূতির নাকি মগজে প্রভাব ফেলে। মেঘের অনেক রঙের মতো নাকি অনুভূতির জন্য মগজেরও রঙ পরিবর্তন হয়। এমনটাই দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি ও নিউরো-সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক কেভিন লাবারের নেতৃত্বাধীন একদল গবেষক গবেষণাটি করেছেন।

‘ডিকোডিং স্পন্টানিয়াস ইমোশনাল স্টেটস ইন দ্য হিউম্যান ব্রেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘প্লস বায়োলজি’র ১৪ সেপ্টেম্বরের সংখ্যায়। মানুষের মগজে থাকা সাতটি অনুভূতির এলাকাগুলোর রঙিন মানচিত্রে এই প্রথম প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এতে বলা হয়েছে, লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ বা বেগুনি রঙে বদলে যায় আমাদের মগজ। তা বদলায় অনুভূতির ধরনের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মগজে থাকা সাতটি অনুভূতির রঙ নাকি রংধনুর সাত রঙের মতোর হয়। রেগে গেলে মগজের এক অংশ লাল রঙ হয়। আর দুঃখ পেলে একটি অংশ কমলা রঙ ধারণ করে। বিস্ময়ে একটি অংশ হয়ে ওঠে সবুজ।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে ভ্যানডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী গবেষক রফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা যখন একা থাকি তখন মনে সুখ-দুঃখ নানা ধরনের স্মৃতি মনে পড়তে শুরু করে। সব অনুভূতির স্মৃতি মগজের কোথায় কোথায় থাকে এমআরআই স্ক্যান করে এখন তা সবই দেখা যাবে সহজে। এটা অনেকটা মনে কথা পড়ে ফেলার মতো। এখন থেকে সহজেই বলা যাবে কে রাগ করেছে, আর কে ভয় পেয়েছে। রেগে গেলে মগজের কোন এলাকা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে বা কী রঙ ধারণ করে এই প্রথম গবেষণায় তা দেখানো সম্ভব হয়েছে। গবেষণায় এই প্রথম স্পষ্টভাবে দেখা গেছে কোন কোন অনুভূতির সময় মগজের কোন কোন দিক ‘সচেতন’ হয়ে ওঠে। আর কোন কোন দিক ‘অসচেতন’ থাকে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো-সায়েন্সের এক গবেষক বলেন, সাধারণত সাতটি মৌলিক অনুভূতি থাকে মগজের ভেতরে। সেগুলো হলো, সন্তুষ্টি, আনন্দের অনুভূতি, বিস্ময়, ভয়, রাগ, দুঃখবোধ ও নিরপেক্ষতা। এই সাতটি অনুভূতি মিলেমিশে গিয়ে আমাদের যাবতীয় অনুভূতির অবয়ব গড়ে তোলে। মগজের সবক’টি অংশকে সাতটি অনুভূতিতেই ব্যবহার করা যায় না। সাতটি অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে মগজের আলাদা আলাদা অংশ রয়েছে।

সহযোগী গবেষক জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হর্ষ রঙ্গনাথন বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে অনুভূতিগুলোকে যাতে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। যেমন হঠাৎ মাথা গরম হয়ে গেলে বা সামান্য ভয়ে রীতিমতো কাঁপতে শুরু করেন একদিন হয়তো ওষুধ দিয়েই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তবে সেজন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। মগজের কোন কোন অংশে কী ধরনের অনুভূতি কতক্ষণ পর্যন্ত সক্রিয় থাকে বা কখন সক্রিয় হয়ে ওঠে কিংবা এক অনুভূতি থেকে কীভাবে আরেক অনুভূতিতে বদলে যায় এবং এ থেকে মগজের রং বদলের খেলাটা আমাদের আরও সূক্ষèভাবে বুঝতে আরো কিছু সময় লাগবে। এটা আবিষ্কার করা গেলেই অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের উপায়ও সজহেই বের করা যাবে। সূত্র: এনসিবিআিই, প্লস জার্নাল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: