সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

২০ বছর বেতন পান না এক শিক্ষক

20bosorbetoncharaশিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ::
একটি জাতিকে আলোকিত করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করেন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকেরা। মহান শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষায় আলোকিত হয়ে এক সময় দেশ গড়তে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন সুশিক্ষিত এসব শিক্ষার্থীরা। অথচ নিজের দুঃখের বোঝা বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন অবহেলিত এসব শিক্ষক। এমনই উপেক্ষিত একজন শিক্ষকের নাম শামীম আখতার। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট বেগম জামিলা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা তিনি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে শিক্ষিত জাতি গঠনে অবদান রাখলেও বিনিময়ে তিনি প্রাপ্য বেতন পাচ্ছেন না সুদীর্ঘ ২০ বছর ধরে। বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে এই শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা। এখন তিনি তার প্রাপ্য বেতন চান।

২০ বছরের বেতন-ভাতা পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বেগম জামিলা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা।

শামীম আখতার তার বক্তব্যে বলেন, আমি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট বেগম জামিলা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে ১৭ ডিসেম্বর ১৯৮৪ সনে যোগদান করি। তারপর ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করলে আমি কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সুবিচার প্রার্থনা করে আবেদন করি। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড আমার পক্ষে আদেশ না দেওয়ায় আমি আবার স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের বিপক্ষে ১৯৯৯ সালে নিম্ন আদালতে মামলা করি। (দ্রষ্টব্য: মামলা নম্বর ২০/১৯৯৯)। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে নিম্ন আদালত স্কুল ও বোর্ডের বেআইনি বরখাস্ত বাতিল করে এবং আমাকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।

ওই সময় আইনি জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে, এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর আমাকে অবসর নিতে হবে। দীর্ঘ প্রায় বিশ বছর থেকে বেতন-ভাতা না পেয়ে দুঃখ ও হতাশায় জর্জরিত হয়ে আমি আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি। আমার জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। আমি বেগম জামিলা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানশিক্ষকা। হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ও ডিক্রি মোতাবেক ০১ নভেম্বর ১৯৯৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশ বছরের সরকারি ও বেসরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবিতে আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি করছি।

তিনি আরো বলেন, আমার জীবনের এই দুঃখকষ্ট ও হয়রানির অবসানে আমি আপনাদের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এ ব্যাপারে তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শামীম আখতারের একমাত্র ছেলে রেদোয়ানুর রহমান আশরাফী শোভন।

সূত্র : দৈনিক শিক্ষা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: