সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ : কোন পথে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন প্রণীত সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ?

muktijodda-logoআল-হেলাল,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক ইতিহাস রচিত হয়েছে। মুক্তি সংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের লক্ষ টাকা দিয়ে একজন মান্যবর আইনজীবী সর্বপ্রথম মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ নামে যে ইতিহাস রচনা করেছিলেন সেটি জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ ইতিহাস লেখতে গিয়ে লেখক প্রকাশকরা নিজেদের নাম ডাক জাহির করার পায়তারায় লিপ্ত ছিলেন। তাই সেটি ইতিহাস না হয়ে হয়েছে উপহাস। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমুচিত শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল অর্থাৎ একটি ভূল ইতিহাসকে শুধরে নিয়ে পরবর্তীতে সঠিক ইতিহাসের পথে পরবর্তী প্রজন্মকে আমরা ধাবিত করতে পারতাম নি:সন্দেহে। কিন্তু তাও হয়নি বরং এরপরে যারা একাজগুলো করেছেন তারাও হয়েছেন বুমেরাং। অল্পশিক্ষিত লেখকরা একটু আধটু ভূল করলেও তা মেনে নেয়া যায় কিন্তু শিক্ষিত লেখকরা ভূল করলে আর যাওয়ার জায়গা থাকে কোথায় ?

তাহলে কি আমাদেরকে ধরে নিতে হবে বাস্তবে কেউই সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে চাননা। কারো এ সাহস না থাকলে আমরা বলবো আমাদের আছে আমরা সত্য কথাই বলছি এবং বলবো। তথাকথিত ইতিহাস প্রণেতা লেখক গবেষকদেরকে সবিনয়ে বলবো পারলে আপনারাও সত্য কথা লিখুন নাহয় অতিরঞ্জিত মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন লেখার জন্য কেউই আপনাদেরকে ক্ষমা করবেনা। ইতিহাসের আস্তাকুড়ে আপনারা নিক্ষেপ হবেন। দেখাদেখি লেখক প্রকাশক সম্পাদক বনে কোন লাভ নেই। কারণ ইতিহাসবিদের ইতিহাস প্রণয়নের জন্যও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা দরকার। আর সেই লক্ষ্যটা সুস্পষ্ট হওয়া আরো বেশী প্রয়োজন। লজ্জার কথা যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা করছেন তাদের কারো বইয়ে কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য তুলে ধরাই হয়নি।

আমাদের মনে রাখতে হবে প্রত্যেক পুরুষই একদিন সন্তানের পিতা হতে চায় কিন্তু কেউই জারজ সন্তানের জনক হতে চায়না। এছাড়া ভূমিস্ট হলে যে সন্তান হবে পঙ্গু বিকলাঙ্গ বা জন্মান্ধ সেই সন্তানকে দুনিয়ার আলোর মুখ দেখাতে চায়না কোন দম্পতি। তাই ইতিহাস হতে হবে নির্ভেজাল সুস্থ ও সৃজনশীলতা সম্পন্ন। ভেজাল কথায় যারা ইতিহাস রচনা করতে চান তাদের মনে রাখা উচিত একবার তথ্যবিভ্রাট ঘটালে বংশ পরম্পরায় তাদেরকে গালি হজম করতে হবে। স্যাটানিক বার্সেস লিখে সালমান রুশদী বড় লেখক হওয়ার পরও সারা বিশ্বে আজ বিতর্কিত। আবুল আলা মওদুদী পবিত্র ধর্ম ইসলামের সকল বিষয়ে পান্ডিত্য প্রদর্শন করার পরও দেশের হক্কানী কওমী পন্থী আলেমদের বিষোধঘারের পাত্র হিসেবে চিহ্নিত।

তসলীমা নাসরিন সাড়া জাগানো লেখক হওয়ার পরও নির্বাসিত। সারা দেশের তৌহিদী মানুষের মুখপাত্র হওয়ার পরও একজন মহিলার বিকিনি পরিহিত ছবি প্রকাশের জন্য ইনকিলাব পত্রিকা তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। সুতরাং যারা ইতিহাস লেখবেন তাদের ধারনা থাকা উচিত লিখিত ইতিহাস আদৌ সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত হয় কিনা ? হামসে বড় কোন হায় নীতির ভিত্তিতে যাচ্ছে তাই লেখাকে কখনও ইতিহাস বলেনা। এক সময় টেলিভিশনে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার হতো “ইকনো লেখে চমৎকার এক কলমে মাইল পার” এতে বুঝানো হতো নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলেও ইকনোর কালি কখনও শেষ হয়না। আমাদের লেখক ইতিহাস প্রণেতারাও ঠিক সেরকম। ইচ্ছেমতো মনের মাধুরী মিশিয়ে রং রুপ দিয়ে কালোকে সাদা আর সাদাকে কালো বানিয়ে বাস্তবতা ও নৈতিকতা বিবর্জিত তথ্য উপস্থাপন করে মিথ্যা বানোয়াট কাল্পনিক রচনা দ্বারা সঠিক ইতিহাসের পরিবর্তে গাজাখুরী গল্প তথা জগাখিচুড়ী গাজীর গীত প্রকাশে সিদ্বহস্ত থাকেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে ইতিহাস প্রণয়ন করার বেলায় কখনও যে সীমা অতিক্রম করা যাবেনা সেটা অনেকে ভাবার চেষ্টা করেননা।

৭১ এর মহাণ মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশ ১১টি সেক্টরে ও ৩টি আলাদা ফোর্সে বিভক্ত ছিলো। ৫নং সেক্টরের অধীনস্থ বালাট সেক্টরটিও বিভক্ত ছিলো কয়েকটি সাবসেক্টরে। এক একজন সাবসেক্টর কমান্ডারের অধীনে কতজন কোম্পানী সেকশন ও প্লাটুন কমান্ডার কিভাবে কোথায় কোন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করেছেন তারও একটি নির্ধারিত গন্ডী ছিলো। অথচ আজ গন্ডীর বাইরে অনেকে আবুল তাবোল বকছেন বিশৃঙ্খলভাবে। এতে করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধটাকেই যে তারা বিকৃত করছেন তাও কার স্বার্থে সেটাও ভাবা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পরও শুনছি রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে। অনেক ভূয়া ও অমুক্তিযোদ্ধারাও আজ রাস্ট্রীয় সম্মানী মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগ করছে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে চাকুরী ভাগিয়ে নিচ্ছে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও দৌহিত্ররা। বিকৃতি ইতিহাস প্রণেতারাও আজ এদের কাতারে শামিল। কথিত মিথ্যা ইতিহাস লেখকদেরকে গালি দিতেও আমাদের লজ্জা হয়। তবে তারা যে,খারাপের চাইতে আরো বেশী খারাপ কাজ করে যাচ্ছেন এটা তাদের নিজেদেরও কেন বোধগম্য হয়না এটা ভাবতে কারনা লজ্জা লাগে। সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট জীব হচ্ছে কলাবাদুর কারণ তারা মুখ দিয়ে পায়খানা করে। বলতে দ্বিধা নেই আমাদের বিকৃতি মস্তিষ্কের ইতিহাস প্রণেতারাও এই কলাবাদুরের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী।

পরিশেষে আমাদের বক্তব্য এটাই বিকৃতি মন ও রুচীবোধের মানুষ দ্বারা জগাখিচুড়ি ছাড়া কখনও কোন ভাল কিছু মোটেই আশা করা যায়না। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে নি:সন্দেহে এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এজন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নাকি একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটিতে যারা আছেন তারা নিজেরাও জানেননা প্রশাসন আসলে কি করতে যাচ্ছে। আবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচিত হবে অথচ সেই কমিটিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডার হাজী নুরুল মোমেন,সহকারী কমান্ডার ও এইচ.এম.পি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাজী সৈয়দুর রহমান,স্বাধীন বাংলা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মুক্তি সংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের সেক্রেটারী ছালিক আহমদ,মালেক পীর আছেন কিনা তারা নিজেরাই জানেননা। দুএকজন সাংবাদিককে কমিটিতে রাখলেও জেলা শহরে কর্মরত আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আল-হেলাল তথাকথিত কমিটিতে উপেক্ষিত। সারা জেলার ইতিহাস লেখার দাবী করলেও জেলা সদরের বাহিরে অর্থাৎ ১১টি উপজেলার কোন প্রতিনিধি নেই কথিত কমিটিতে। আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীকে কথিত কমিটিতে রাখা হয়নি। কি তাদের অপরাধ জানতে চাইলে প্রশাসন মুখ খুলতে চাচ্ছেননা। জেলা জাসদের সভাপতি কমরেড আতম সালেহও এ সম্পর্কে কিছুই জানেননা।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত খসড়া একটি কপি আমাদের নজরে এলে আমরা দেখেছি সেখানে অনেক খাটি নিবেদিত নানকার বিপ্লবী,ভাষা সৈনিক, শিল্পী,সাংবাদিক,সাহিত্যিক,বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধিরা উপেক্ষিত রয়েছেন। যদি প্রশাসন চায় তাহলে তাদেরকে আমরা প্রত্যেকটি স্তরে স্তরে দেখিয়ে দিতো পারবো কোন কোন জায়গায় তারা ত্রুটি করেছেন। সাহস থাকলে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সামনে আসুক। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব সম্মত সার্বজনীন ইতিহাস। তাই সহজ সরল,শুদ্ধ সঠিক ও সাদা মনের মানুষ দ্বারা সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখা হউক। যে মানুষের প্রত্যাশা করে গানের স¤্রাট কামাল পাশা গেয়েছেন,
“ মন তুমি সরলভাবে রইবে রে মন তুই সরলভাবে চাইবে
সরলভাবে থাকবে যদি সরলে গরল না মিশিবে।।
মন হইয়া সরল ডাকিও বহাইয়া তোমার ত্রিবীনির জল
পাইবে তোমার সহায় সম্বল,অধরায় ধরা দিবে।।
সরলে ডাকিলে তারে সে হবে সরল,কাছেতে পাইবে তারে ঘুচিবে অনল
না হইলে সরল সবি বিফল, ডাকলে কি ফল হবে।।
সরল হইলো সব বন্দেগীর মূল
গরল ছেড়ে হইলে সরল পাইতে পারো কূল।
ভাঙ্গিলে তার মনেরী ভূল,তারে সরল দেশে পাইবে।।
সরল হইলে নাইরে কিছূ ভয়,সরল হইলে সরলজনার পাইবে অভয়।
কামাল কয় হইয়া সদয়,কাছেতে রাখিবে ”।।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: