সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জনবলের অভাবে সিলেট রুটের ৭টি রেলস্টেশন বন্ধ

1-daily-sylhet-0-6নিজস্ব প্রতিবেদক : জনবলের অভাবে রেলপথের সিলেট রুটে সাতটি রেলস্টেশন প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। আরো দুটি স্টেশনে শুধু রাতের বেলা বন্ধ রেখে দিনের বেলা খোলা থাকে। বন্ধ স্টেশনে চারটি ট্রেন চলাচল করে কিন্তু স্টেশন মাস্টার না থাকায় যাত্রীরা তাতে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলো নির্ধারিত ক্রসিং না হওয়ার কারণে অনির্ধারিত ক্রসিং করার ফলে ক্রসিংজনিত কারণে বিভিন্ন স্টেশনে বিভিন্ন ট্রেনের অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ঘটছে। এমনকি সিডিউলভাবে ট্রেন চলাচল করতে পারছে না।

শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জনবলের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৭টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে।

স্টেশনগুলো হলো- মৌলভীবাজার জেলার ভাটেরাবাজার, লংলা, টিলাগাঁও, মনু এবং হবিগঞ্জ জেলার লস্করপুর, শাহজীবাজার ও লস্করপুর রেল স্টেশন। আরো দুটি স্টেশন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর রাতের বেলা বন্ধ থাকে। এসব দুটি স্টেশন হচ্ছে- মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও রেলস্টেশন ও কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেল স্টেশন।

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্ধ হওয়া রেলস্টেশনগুলোতে কোনো কর্মচারী নেই। একটি স্টেশন সচল রাখতে যদি ৮ ঘণ্টা করে ডিউটি করান তাহলে কমপক্ষে তিনজন স্টেশন মাস্টার তিনজন পয়েন্টসম্যানসহ ৬ জন কর্মচারী লাগে। আর যদি ওভার টাইম দেন সে ক্ষেত্রে দু’জন স্টেশন মাস্টার, দু’জন পয়েন্টস-ম্যানসহ মোট চারজন কর্মচারী হলেই চলে। যেমন রশিদপুর, ভানুগাছ ও শমশেরনগর রেল স্টেশন ওরা দু’জন করেই ডিউটি করছে বিনিময়ে তারা ওভারটাইম পাচ্ছে। স্টেশনগুলোতে লোকবল না থাকায় বিনা টিকিটেই লোকজন যাতায়াত করছে।

তিনি বলেন, কুলাউড়া ও শমশেরনগর স্টেশনে বেশিরভাগ ট্রেন ক্রসিং হয়। মাঝপথে স্টেশন বন্ধ থাকায় খোলা স্টেশনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ট্রেন চলাচল করে। বন্ধ কোনো স্টেশনে মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারী না থাকায় সেসব স্টেশনে কোনো ট্রেন ক্রসিং করানো সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, গতকাল রোববার সিলেট থেকে মাত্র ১০ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম লাইনের পাহাড়িকা ট্রেন ছেড়ে আসে। শুধু লংলা স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে পারাবত আর পাহাড়িকার ক্রসিং হয় কুলাউড়াতে। সে কারণে পাহাড়িকা ট্রেনের ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মতো অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়। বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলো নির্ধারিত ক্রসিং না হওয়ার কারণে অনির্ধারিত ক্রসিংয়ের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ঘটছে। এমনকি সিডিউলভাবে ট্রেন চলাচল করতে পারছে না। অপরদিকে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোকে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে রাখতে হয়। তিনি জানান, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোতে চারটি ট্রেন থামে।

সিলেট-ঢাকা পথে চলাচলকারী সুরমা মেইল, সিলেট-চট্টগ্রাম পথে চলাচলকারী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ও সিলেট-আখাউড়া পথে চলাচলকারী কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ও ডেমু ট্রেন। এসব স্টেশনে যাত্রীরা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করেন। সরেজমিন একাধিক রেল স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ট্রেনে এসব স্টেশন থেকে কমপক্ষে ৫০/৬০ জন যাত্রী ওঠানামা করে। এসব ট্রেনে ভাড়া সর্বনিম্ন ৫ টাকা। তাই শ্রমজীবী মানুষেরা ট্রেন বেশি ব্যবহার করেন। স্টেশনে কোনো কর্মচারী না থাকায় যাত্রীরা টিকিট না কিনেই ট্রেন ভ্রমণ করেন। ট্রেনে টিকিট পরিদর্শক থাকলে সেখানে টিকিট করে নিতে হয় নতুবা যাত্রীরা বিনা টিকিটে চলাচল করেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে- ভাটেরাবাজার, লংলা, টিলাগাঁও, মনু এবং হবিগঞ্জ জেলার লস্করপুর, শাহজীবাজার ও লস্করপুর রেল স্টেশনে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, লোকবলের অভাবেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ চিত্রটি শুধু সিলেট-আখাউড়া রেলপথের নয়। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে। নিয়োগ হয়ে গেলে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো আবার আগের মতো পুরোদমে চালু হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: