সর্বশেষ আপডেট : ৫১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কাশ্মীরে নিহতদের লাশ আনতে গেলেই গুলি!

153741_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখার গা ঘেঁষেই পড়ে রয়েছে স্বাধীনতাকামীদের নিথর দেহগুলো। দু এক জন নয়। বুধবার দশ জন স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছে ভারতীয় সেনার গুলিতে।

অথচ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের এক জনের দেহও উদ্ধার করতে পারল না তারা। কারণ? সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জওয়ানরা ওই দেহগুলির ধারে কাছে গেলেই কাঁটা তারের ও-পার থেকে ধেয়ে আসছে গুলি।

তাই ভারতীয় জওয়ানরা কয়েক পা এগিয়েও ফের পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেশ কয়েক বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
গত রবিবার উরির সেনা ছাউনিতে এত বড় হামলার পর বুধবারও পাক সীমান্ত থেকে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল জনেক পনের। উরি সেক্টরের লাছিপোরায়। ভারতীয় সেনার পাল্টা জবাবে মৃত্যু হয় তাদেরই ১০ জন। অথচ বুধবার সারা দিন কেটে গেলেও তাদের এক জনেরও দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি ভারতীয় বাহিনী।

বুধবার সেনার তরফে বলা হয়েছিল, নিয়ন্ত্ররেখার কাছে একটি নালায় পর পর কয়েকটি দেহ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ওই দেহে বিস্ফোরক থাকতে পারে, তাই দিনের আলো না ফুটলে ওই সব দেহ উদ্ধারে হাত লাগাতে পারছে না তারা।

কিন্তু আজও তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নিহত দেহ তল্লাশি করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের আশায় ছিল ভারতীয় বাহিনী। কিন্তু সেনা কর্তাদের একাংশই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেহগুলির কাছে গেলেই ভারতীয় জওয়ানদের উদ্দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে আসছে ওপার থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওরা যেন চায় না আমাদের হাতে দেহগুলো আসুক।’ তবে সেই সঙ্গেই তার সংযোজন, ‘পুলিশের একটা বড় বাহিনী ঘটনাস্থল পৌঁছেছে। আমরা খুব শীঘ্রই দেহগুলো উদ্ধার করব।’

সেনা জানিয়েছে, আজ দ্বিতীয় দিনেও জঙ্গি দমন অভিযান জারি রয়েছে উরি সেক্টরে।

রবিবারের হামলার পর তিন দিন কেটে গেলেও ছন্দে ফিরতে পারছে না উরি। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় যে সব ছোট ছোট গ্রাম রয়েছে, আতঙ্কিত সেখানকার বাসিন্দারা।

আব্দুল রশিদ খাটানা উরিতেই একটি মুদির দোকান চালান। বলেন, ‘২০০৩ থেকে সংঘর্ষ-বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দু’দেশ। আমরা খুশি হয়েছিলাম তখন। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে মাঝেমধ্যেই গোলাগুলি চলে। পাল্টা জবাব দেয় এপারও। আর এদের রেষারেষির মাঝে পড়ে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবন কার্যত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’

৩৫ বছর ধরে উরিতে রয়েছেন আর এক আব্দুল। বছর ছাপান্নর প্রৌঢ় একটি ওষুধের দোকান চালান। ‘ভারত-পাকিস্তানের এই গোলা-বারুদের লড়াই সাধারণ কাশ্মীরিদের মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলছে। মাঝেমধ্যেই ঠাঁই ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হচ্ছে আমাদের। আর তার প্রভাব পড়ছে পারিবারিক জীবনে। মানসিকভাবে অসুস্থ আর আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছি,’ বললেন আব্দুল রশিদ।

সীমান্তের ধারে গারকোট গ্রামে থাকে নজির বাজাদ। ছোটখাটো ব্যবসা করেন। ‘আমরা তো রোজ মরে বেঁচে আছি। গুলিতে কবে প্রাণ যাবে, জানি না। দু’দিন আগে ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে যা হলো, আমরা চাই- শান্তি,’ বললেন নজির। শুধু তার একটাই প্রশ্ন, ‘দু’দেশের নেতারা সেটা শুনবেন কি?’

আনন্দবাজার অবলম্বনে

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: