সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাবার স্বপ্নের সৈকত

1474615860দেবব্রত মুখোপাধ্যায়: ময়মনসিংহের মিষ্টি, ময়মনসিংহের কৃষ্টি; সবই নামকরা।

সংস্কৃতির নানা শাখা থেকে শুরু করে খেলাধুলা; সব জায়গাতে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শহরের দারুণ অবদান। একসময় দেশের ক্রিকেটেও এই প্রাচীন নগর উপহার দিয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে তারকা। তেমনই ক্রিকেট তারকা বানানোর নেশায় মেতেছিলেন আবুল কাশেম সাহেব।

ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামের এই কর্মকর্তা এক হাতে নানা খেলা পরিচালনায় সারাটা দিনমান ব্যস্ত থাকতেন। আরেক দিকে নিজে ছোটদের নিয়ে একটা ক্রিকেট দল চালাতেন। স্বপ্ন দেখতেন—এই দল থেকে দু-একটা ছেলে একদিন বাংলাদেশের জার্সি পরবে।

সেই স্বপ্ন থেকেই একদিন বড় ছেলেটাকে মাঠে নিয়ে আসেন। ছেলেটাও তেমন। মাঠে এসেই ব্যাটে, বলে পাগল করে ফেললো সবাইকে। ক’দিন পর দেখাদেখি ছোট দুই জমজ ছেলে—সান আর মুনও আসতে শুরু করলো মাঠে। তিন পিচ্চি ছেলের দাপট দেখে হাসতে হাসতে আবুল কাশেম বলেন, ‘ছেলেরা আমার জাতীয় দলে খেলবে।’

নিয়তির কী নৃশংস পরিহাস!

আবুল কাশেম আজ পৃথিবীতে নেই। কাশেম সাহেবের সেই বড় ছেলে গতকাল ডাক পেলো জাতীয় দলে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দলে ডাক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আফসোসটা আরেকটু বাড়ানোর মতো তথ্য—সৈকতের ছোট দুই ভাই মোসাব্বের হোসেন সান ও মোসাব্বেক হোসেন মুন বিকেএসপি থেকে বেরিয়ে এখন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে এসেছেন। এর মধ্যে সান এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জাতীয় দলেও ছিলেন। দুই ভাই-ই আগামী মৌসুমে ঢাকার ক্রিকেট খেলবেন। মানে, ঢাকার ক্রিকেটে একসাথে তিন ভাইকে দেখার ঘোরতর সম্ভাবনা আছে।

বলাই বাহুল্য, আলোটা আপাতত সেই কাশেম সাহেবের বড় পূত্র সৈকতের ওপর। আগেই টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়ে গেছে। গতকাল তাকে ওয়ানডে দলে নেওয়ার পর প্রধান নির্বাচক অল্প কথায় বলছিলেন, ‘কিছু কিছু ক্রিকেটার আছে ট্যালেন্ট আগে থেকেই খেয়াল করা যায়। মোসাদ্দেক ঘরোয়া যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করেছে। লঙ্গার ভার্সনেও তার ভালো পারফর্ম আছে। দুই বছরে সে দারুণ খেলেছে। প্রিমিয়ার লিগেও তার পারফর্ম ভালো। আমরা মনে করি সে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে।’

সৈকতের মূল পরিচিতিটা ছিল লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটার। জাতীয় লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে গত কয়েক বছর রীতিমতো রানবন্যা বইয়ে দিয়েছেন। মারাত্মক ফর্মের কারণেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখনই সৈকত বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টি তার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা নয়। এমনকি রানবন্যা হলেও লঙ্গার ভার্সনও নয়, তার মূল আকর্ষণের জায়গা ওয়ানডে। এবার সেই ফরম্যাটেই ডাক পেলেন।

এই ডাক পাওয়ার তাত্ক্ষণিক কারণ অবশ্যই আবাহনীর হয়ে এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে ৭৭.৭৫ গড় ও ১০৪.৮৯ স্ট্রাইক রেটে ৬২২ রান করেছিলেন মোসাদ্দেক; উইকেট নিয়েছিলেন ১৫টি। এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ব্যাপার, আবাহনীর হয়ে এবার খেলেছেন নিজের নিয়মিত টপ অর্ডার পজিশন ছেড়ে ছয়-সাত নম্বরে। অন্তত গোটা চারেক ম্যাচে আবাহনী যখন নিশ্চিত হারের মুখে, তখন ওই নিচের দিকে নেমে ঝড় তুলেছেন ব্যাট হাতে। প্রকাশ করেছেন নিজের অদম্য তাড়নাটা।

এই তাড়নার গল্প বলছিলেন সৈকতের বাল্যবন্ধু, ক্রিকেটার হুসাইন মুহাম্মদ আফজাল, ‘সৈকতের যে ভালো করার চেষ্টা আর অসম্ভব পরিশ্রম, এটা বলে বোঝানো যাবে না। আঙ্কেল (সৈকতের বাবা) থাকতে তো তিনি সাপোর্ট দিতেন। ২০০৮ সালে হঠাত্ উনি মারা যাওয়ার পর ওকে বড় ধাক্কা হজম করতে হয়েছে। উল্টো ওকে মাঝে মাঝে ছোট ভাইদের সাপোর্ট করতে হয়েছে। ও অনেক কষ্ট করেছে এই পর্যন্ত আসতে। নিজে খেলেছে, প্র্যাকটিস করেছে, ছোট ভাইদের দেখেছে এবং পরিবারের পাশে থেকেছে।’

আজকের দিনে এমন গল্প খুঁজে পাওয়া কষ্ট। ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর সেই বাবার এবং নিজের স্বপ্নের পেছনে এমন করে ছোটা এবং ভাইদেরও সেই পথে রাখা; এটা নিশ্চয়ই অসামান্য এক গল্প। সেই গল্পের ফসল হিসেবে সাফল্যের সমুদ্রে প্রবেশ করতে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে সৈকতকে।

তবে নিশ্চিত করে বলা চলে যে, স্বপ্নের বালুকাবেলায় পৌঁছে গেছেন সৈকত। পরিশ্রমী মানুষের কাছে সাগর ধরা দেবেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: