সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গভীর সমুদ্র থেকে দুই হাজার বছর আগের নরকঙ্কাল উদ্ধার

dshuman-bonesডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
জলের গভীরে যে এমন ‘ইতিহাসের ভান্ডার ‘ লুকিয়ে আছে তা কে জানত! জায়গাটা গ্রিসের সমুদ্রতট লাগোয়া ভূমধ্যসাগর। সেখানেই পানিতে নেমেছিলেন ডুবুরিরা।

মাঝে মধ্যেই জলের তলায় নানাবিধ সুলুকসন্ধানে ডুবুরি নামানো হয়। ওই চত্বরে তেমনই ইঙ্গিত পেয়েছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সেই মতো নামানো হয় ডুবুরি। কিন্তু এ কী ? এ তো পুঁটি ধরতে নেমে হাতে চলে এলো বোয়াল !

জলের তলায় খোঁজ মিলল খ্রিস্ট পূর্বাব্দ প্রথম শতকের একটি জাহাজ। সেইসঙ্গে দু’হাজার বছরের পুরোনো একটি নর কঙ্কাল। যীশুরও জন্মের আগের এক ভদ্রলোকের খোঁজ মিলল জলের তলায়। মৃত্যুর সময় কঙ্কালটির বয়স ছিল কুড়ির কোঠায়। এবং তিনি পুরুষ। সমুদ্রের তলায় জাহাজের সন্ধান পেয়ে প্রথমে উৎসাহী হয়ে ওঠেন ডুবুরিরা।

জাহাজের ইতিউতি হাতড়ে বেড়াচ্ছিলেন তারা। তখনই হাতে আসে কঙ্কালটি। প্রথমে ঠাহর হয়নি। জমে থাকা পলি সরাতেই চমকে ওঠেন সকলে। চোখে পড়ে একটি খুলি। যদিও তা আস্ত নয়। সেইসঙ্গে দুটি হাতের হাড় , চোয়াল , তিনটি দাঁত ও বেশ কয়েকটি পাঁজরের টুকরো। মিলেছে একটি ব্রোঞ্জের বর্শা, কয়েকটি সোনার গয়না ও কিছু কাঁচের বাসনকোসন। খুবই সাবধানে জল থেকে ইতিহাসকে তুলে আনা হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জাহাজ ও কঙ্কালের বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত হন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। প্রত্যেকেরই চোখ তখন কপালে। প্রথমেই যে প্রশ্নটি মাথায় আসে, তা হল ভূমধ্যসাগরের খাঁজ কেটে ভেতরে ঢুকে আসা এই চত্বরে জাহাজটি ডুবল কী করে? মনে করা হচ্ছে প্রবল ঝড়েই তা হয় জাহাজটির। তবে জাহাজের চেয়েও নরকঙ্কালটি নিয়েই যেন বেশি আগ্রহ প্রত্নতাত্ত্বিকদের। সকলে আদর করে কঙ্কালটির নাম দিয়েছেন ‘প্যামফিলোস ‘। গ্রিক এই কথাটির মানে ‘সকলের বন্ধু’।

dshuman-boneseতবে ওই নরকঙ্কাল ঘেঁটে ইতিহাসকে খুঁজে বের করা যার তার কম্মো নয়। ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে প্রত্নতত্ত্বের দুনিয়ায় হ্যানস্ স্রোয়েডারের সঙ্গে। স্রোয়েডারের কথায় কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা করতে পারলে সব রহস্যের সমাধান হবে।

তবে কতটা দুই হাজার বছরের পুরোনো কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন খোদ স্রোয়েডারই। আসলে পানি থেকে তুলে আনার পরে কঙ্কালটি অন্য পরিবেশে এসে পড়েছে। দু’হাজার বছর পর! নতুন পরিবেশে কতটা মানিয়ে উঠতে পারবে খুলি আর হাড়গোড়, তা চিন্তায় রাখছে স্রোয়েডারকে। এ ক্ষেত্রে কানের ওপরে খুলির অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব চিন্তা কাটিয়ে যদি সত্যি ডিএনএ পরীক্ষা সম্ভব হয় ? স্রোয়েডার বলছেন তা হলে কেল্লা ফতে। ইতিমধ্যে কঙ্কালটি যে পুরুষের তা জানা গেছে।

এরপর আরও তথ্য বেরিয়ে আসা সম্ভব। যেমন খোঁজ মিলতে পারে কঙ্কালটির পূর্বপুরুষদেরও। তাছাড়া জাহাজে কোন দেশের লোক যাচ্ছিলেন, সে সম্পর্কেও সম্যক ধারণা মিলবে। সম্ভবত বাণিজ্য করতেই বেরিয়েছিল জাহাজটি।

ওদিকে জাহাজ ও নরকঙ্কাল নিয়ে প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ইতিহাসবিদরা। যে সময় জাহাজটি ডুবেছে তখন রোমান সাম্রাজ্যকে সরিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে রোমান প্রজাতন্ত্র। বিশ্বায়নের আদিযুগের সাক্ষী বহন করছে জাহাজটি।

অনেকেই বলছেন, আরও খোঁজ চালানো হোক। নিশ্চিত জাহাজের আরও যাত্রীর সন্ধান পাওয়া যাবে। খোঁজ মিলবে কেবিন ক্রুদেরও। খ্রিস্ট পূর্বাব্দের ইতিহাসকে সাক্ষী করতে গ্রিসের সমুদ্রতট লাগোয়া ভূমধ্যসাগরে এখন প্রত্নতাত্ত্বিকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: