সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ধর্মের রঙে চাপানো অর্থের যুদ্ধ’

unnamed-1রায়হান আহমেদ তপাদার::

পানামা পেপারস ফাঁসের পর দেখা গেল আইনের লোকরা মূলত বেআইনি পন্থা কিভাবে অবলম্বন করা যায়,তার পথ বাতলে দিয়েছেন। তারা বরং আরো এগিয়ে গিয়ে সারা বিশ্বের ধনী লোকদের খুঁজে বের করছেন তাদের অবৈধপথে পরিচালিত করার জন্য। আইনজীবী দের অনেকের প্রতি মানুষের এমনিতেই একটি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। ফলে আইনশাস্ত্র এবং এর উচ্চতর পড়াশোনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকছে।

একইভাবে বিষয় হিসেবে অর্থনীতিকে সম্পদ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা হিসেবে দেখা হয়। সম্পদের সুষম বণ্টনের চেয়ে এটি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে বেশি ব্যবহার হয়েছে প্রাচীন কাল থেকে। এর সাথে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কূটনীতি। অর্থনীতির একটি নেতিবাচক পরিভাষা পাওয়া যাচ্ছে ‘ইকোনোমিক হিটম্যান’ বলে। ইকোনোমিক হিটম্যান নামে পেশার কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের হয়ে কাজ করা জন পারকিন্স। অনেক বেশি অর্থ পাওয়া যায় এই পেশায়। এদের কাজ ছলচাতুরি করে বিভিন্ন দেশের সরকারি নীতি নির্ধারণে অন্যায় প্রভাব বিস্তার করা। এক ধরনের প্রতারণা করে হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রকল্প আদায় করে নেয় তারা।

দৃশ্যত তারা বিশ্বব্যাংক,আমেরিকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিল এবংবিদেশী সাহায্য সংস্থা থেকে গরিবদের জন্য অর্থায়ন করায়।প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের অল্প কিছু ধনী লোকের পকেট ভারী করার জন্য কাজ করে।পৃথিবী নামক গ্রহের যে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে,সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ অল্প কিছু ধনী ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়ার জন্যই তাদের যত শঠতা।তাদের ‘অস্ত্র’ হচ্ছে প্রতারণাপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন,নির্বাচনে কারচুপি মাধ্যমে অভীষ্ট গোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন,হাতিয়ার হিসেবে যৌনতা ও খুনের ব্যবহারও তারা করে।

বিশ্বায়নের যে জোয়ার চলছে,হিটম্যানরা এর পেছনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে।কারণ বিশ্বায়ন বহুজাতিক কোম্পানির বাজার সম্প্র্রসারণের মাধ্যমে সেই ধনী লোকদের সম্পদই বৃদ্ধি করছে।আত্মস্বীকৃত একজন ইকনোমিক হিটম্যান জন পারকিন্স।বিবেকের তাড়নায় জীবনের শেষ দিকে এসে সত্য বলতে চেয়েছেন।

তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ধর্ম নয়,অর্থের যুদ্ধ। ২০০৪ সালে প্রকাশিত কনফেশন অব অ্যান ইকনো মিক হিটম্যান বইটি ৭৩ সপ্তাহ ধরে বেস্ট সেলার ছিল। ১২ লাখ ৫০ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। ৩২টি ভাষায় বইটির অনুবাদ হয়েছে।ওই বইতে আমেরিকা নিজের করপোরেট স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে কিভাবে বিশ্বব্যাপী অন্যায় করে চলেছে তার বর্ণনা দিয়েছেন জন।তিনি লিখেছেন, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চাস.টি.মাইন এর একজন অর্থনীতিক হিসেবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল।

তার কাজ ছিল, দারিদ্র্যবিমোচন কৌশল নির্ধারণ ও পরামর্শ প্রদান।দারিদ্র্য মোচনের এই সাইনবোর্ড সামনে ঝুলিয়ে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট স্বার্থকে এগিয়ে নিতে তলে তলে কাজ করতেন।তার কাজের ক্ষেত্র ছিল ইন্দোনেশিয়া থেকে পানামা পর্যন্ত।ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তুলে ধরেন, কিভাবে আরেকটি তেলঅবরোধের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিশ্বব্যবস্থার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।অবরোধের সময়টি ছিল একটি যুগসন্ধিক্ষণ।এই সময় বিশ্বের শিল্প উৎপাদন বাড়ায় তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

অনেক দেশকে নিজেদের প্রয়োজনে তেল আমদানি কয়েক গুণ বাড়াতে হয়।অবরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ছিল সবচেয়ে করুণ।দেশটি তেলের সবচেয়ে বড় ভোক্তা।জ্বালানি না পেয়ে রাস্তায় মাইলের পর মাইল অপেক্ষমাণ গাড়ির লাইন পড়ে যায়। শিল্প উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

এ অবস্থায় তেল অবরোধের ভবিষ্যৎ আশঙ্কা রোধ করার জন্য এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব তাদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়। ১৯৭৩-এর আরব-ইসরাইল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সরাসরি ইসরাইলকে সহযোগিতা করেছিল এর প্রতি ক্রিয়া হিসেবে আসে তেলকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগের কৌশল। আরব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস সৌদি আরবের নেতৃত্বে এর প্রতিক্রিয়ায় তেল অবরোধ আরোপ করে। মূল্য বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাপী তেলের সঙ্কট দেখা দেয়। বিশ্বঅর্থনীতির বিপর্যস্ত অবস্থা। বিশ্বরাজনীতিকে নাড়িয়ে দেয়।মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে বিভক্তি তৈরি হয়। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং জাপান আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত এই দেশগুলো এর মাধ্যমে আরবদের তেল অবরোধ এড়াতে চাইছিল।আমেরিকার ইসরাইল সমর্থনের নীতির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করার মাধ্যমে তারা আরবদের করুণা পেতে চাইছিল।এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমেরিকান নিক্সন প্রশাসনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।জটিল অবস্থার উত্তরণে বিভিন্নমুখী প্রচেষ্টা নিলেন তারা।

প্রাথমিকভাবে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান হাইটস থেকে ইসরাইলকে দখলদারিত্ব প্রত্যাহার করাতে রাজি করায় নিক্সন প্রশাসন।এতে কাজ হয়।হিসাব মতে সামান্য মূল্যে ১৯৭৪ সালের মার্চে আরবরা তাদের তেল অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। আরবদের দ্রুত এক হয়ে যাওয়া এবংঅস্ত্র হিসেবে তেলকে যথার্থ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ আমেরিকার জন্য বড় হুমকি।এই ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি স্থায়ী সমাধান আমেরিকার চিন্তাভাবনার প্রধান প্রতিপাদ্য হয়ে ওঠে। ভবিষ্যতে কিভাবে তেল অবরোধ ঠেকানো যায় তার একটি স্থায়ী কর্মকৌশল তারা প্রণয়ন করে।

একই সাথে তাদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সৌদি আরবের তেল বেচা অর্থ।সত্তরের দশকের শুরুতে সৌদি আরব এক ব্যারেল তেল বিক্রি করত এক দশমিক তিন নয় টাকায়। ১৯৭৪ সালে অবরোধের সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় আট দশমিক তিন দুই ডলারে।দশকের শেষ প্রান্তে তা চার গুণ বেড়ে ৩২ ডলার হয়।ওই দশকের শুরুতে তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের আয় যেখানে ছিল চার শত কোটি ডলার, ১৯৮১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২০০ কোটি ডলারে।প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সর্বশেষ বাণিজ্যমন্ত্রী উইলিয়াম ই সাইমন সৌদি আরবকে ‘আমেরিকাকরণে’র মূল কারিগর। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর নিক্সন ক্ষমতা ত্যাগ করলেও সাইমন রয়ে যান জেরাল্ড ফোর্ডের প্রশাস নে এই মহাপরিকল্পনাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য।তেল অব রোধের সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করে দেয়ার পাশাপাশি পেট্রোডলার কিভাবে আমেরিকায় নেয়া যায়, তার মহা পরিকল্পনায় সেটিও প্রাধান্য পায়।

১৯৭৪ সালে নিক্সনের সর্বশেষ সফরে সাইমনের নকশা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি অ্যারাবিয়ান জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের মধ্যদিয়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর দ্বিমুখী লক্ষ্য ছিল। প্রথমত,তারা পশ্চাদপদ সৌদি আরবকে আধুনিক প্রশাসনিক পদ্ধতি শেখানোর ব্যবস্থা করে।এর বিপরীতে যত ধরনের সরকারি কন্ট্র্রাক্ট রয়েছে,তা যেন আমেরিকান কোম্পানি পায় সেটি নিশ্চিত করা হয়। এই কমিশন একটানা ২৫ বছর কাজ করেছে।তেল বিক্রি করে যে আয় করেছে এই সমঝোতার আওতায় দেখা গেল, তার প্রায় বেশির ভাগ অর্থই আমেরিকায় গিয়েছে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই বিশাল কর্ম চলেছে অনেকটাই আড়ালে। কারণ মার্কিন কংগ্রেশনাল কমিটির পর্যবেক্ষণের আওতা য় সৌদি-আমেরিকান ডিলকে রাখা হয়নি।এ নিয়ে দীর্ঘ সময়ে দেশ দু’টির মধ্যে কোথাও কোনো টুঁ শব্দও শোনা যায়নি।তবে সৌদি মার্কিন সম্পর্ক যে বিশ্বে নতুন এক উচ্চতায় উঠে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করেছে, সেটি বোধহয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।ওই কমিশনের লক্ষ্য ছিল শিল্পায়ন, বাণিজ্য,মানব সম্পদ প্রশিক্ষণ,কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ গুলো এর কার্যক্রমের মধ্যে গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলা হয়।অন্য দিকে এর পুরো কর্তৃত্ব নেয় আমেরি কার পক্ষ থেকে সাইমনের নিয়ন্ত্রণাধীন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ।এ বিষয়ে পরবর্তীকালে এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত কোনো বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি ছিল না।এটি মূলত ছিল অর্থ ব্যবস্থা পনা কর্মসূচি।

জিমি কার্টারের আমলে এ তৎপরতা সর্বোচ্চ গতি পায়।সেই সময় এমন কোনো দিন যায়নি, যেদিন কমপক্ষে আড়াই শ’ আমেরিকান সিভিল সার্ভেন্ট দেশটিতে প্রবেশ করেননি।তারা বন্ধুপ্রতীম দেশটির সহযোগী কর্মকর্তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবংঅভিজ্ঞতা স্থানান্তর করেছেন।এই বিশাল দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ড চলেছে সম্পূর্ণরূপে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের দৃষ্টির অগোচরে। কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বিভাগের একটি গোপন অস্ত্র ছিল;যা অনেক পরিকল্পনা করে তেল অবরোধের পর গড়ে তোলা হয়েছে। তাই জেকরের কর্মকর্তাদের কাজকর্ম ছিল দূতাবাসের অবগতির বাইরে।

১৯৭৯ সাল নাগাদ এর শুধু নির্দেশনা দিয়ে ক্ষান্ত থাকেনি। গুরুত্বপূর্ণ সৌদি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত হয়। এর মধ্যে ছিল দেশব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচাল নার মতো বড় কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নে। তিন দশকে উক্ত কমিশন সৌদি আরবকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করে। তত দিনে দেশটির জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে চলে যায়। জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাটি এখন দেশগুলোর জন্য বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভেতর থেকে যাতে একটি দেশকে কোনোভাবে দুর্বল করে দেয়া না যায়,সে জন্য ব্যাপক সতর্কতা দেখা যায়শক্তি শালী আরব ঐক্য এখন আর নেই। ওই ঐক্য মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থ রক্ষা করেছিল এবং ইসরাইলের আগ্রাসনকে কার্যকর ভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছিল।এখন ফিলিস্তিন অনেকটাই ইসরাইলের বন্দুকের নলচর্চার ক্ষেত্র।আর পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলো অনেকটাই তাদের ধামাধরায় পরিণত হতে চলেছে।

প্রত্যেকটি দেশ নিজেদের জাতীয় সম্পদকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।সৌদি আরবের সম্পদকে তারা সাফল্য জনকভাবে ড্রেন আউট করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে ক্ষান্ত হয়নি।এর ধারাবাহিকতা যাতে কোনোভাবে শেষ না হয়, তারও নিশ্চয়তা বিধান করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।একই ধরনের একটি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র তেলসমৃদ্ধ ইরাকের একনায়ক সাদ্দামের সাথে করতে চেয়েছিল;ঠিক যেমনটি করলে ইরাকের জাতীয় সম্পদ ড্রেন আউট হয়ে যুক্তরাষ্ট্র্র গিয়ে পৌঁছবে। পারকিন্স তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে জোর দিয়ে বলেছেন এমনটি করতে সাদ্দামকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিনিরা।

সমঝোতা প্রচেষ্টার পরবর্তী পদক্ষেপকে পারকিন্স শয়তানি ধূর্ত শৃগালের পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।এর পরবর্তী পদক্ষেপ হলো যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া।এর পরিণতি হিসেবে আসে,তরুণ আমেরি কানদের সেখানে পাঠাও; তারা মারুক ও মরুক। এ প্রক্রিয়ায় সাদ্দাম ক্ষমতা হারায় ও তাকে মর্মান্তিক ভাবে জীবন দিতে হয়।তার বিরুদ্ধে পাতানো অভিযোগ আনা হলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদ করার।মার্কিনীদের লক্ষ্য অর্জন যে, সম্পদ আহরণতা আরো পরে স্পষ্ট হয়ে যায়। বাগদাদে ১০৪ একর জমির ওপর স্থাপন করা হয় মার্কিন দূতাবাস।এটা বিশ্বের সর্ববৃহৎ দূতাবাস।সে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৫ হাজার।মূলত সেটি একটি সামরিক স্থাপনা যার ভদ্র নামকরণ করা হয়েছে দূতাবাস নিজেদের নিরাপত্তার নামে সেখানে জড়ো করা হয়েছে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও সাজসর ঞ্জাম।

লিবিয়ার শক্তি শালী একনায়ক গাদ্দাফীর পতনও একই কারণে।সম্প্রতি ফরেন পলিসি জার্নাল হিলারি ক্লিনট নের একটি ইমেইল প্রকাশ করেছে।মেইলের বার্তা অনুযায়ী,গাদ্দাফী চাচ্ছিলে ন স্বর্ণনির্ভর একটি মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করতে।ইউরো ও ডলারের বিপরীতে এ মুদ্রা কাজ করার কথা ছিল।

কিন্তু ক্লিনটন দাবি করেন,গাদ্দাফী নিজেদের দেশের জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্র করছিলেন। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।অথচ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সামরিক জোট ন্যাটোর হস্তক্ষেপে তার পতন ঘটেছে।এখন লিবিয়াও ইরাকের মতো,পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে ইসলামি মৌলবাদীদের ঘাঁটি। সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে আলকায়েদা দায়েশ আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর নামে। একচেটিয়াভাবে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে ইসলামকে। এই ধরনের সন্ত্রাস চালানোর জন্য ইসলামের স্বার্থ রয়েছে বলে ঘোষণাও করা হয়েছে।এই গোষ্ঠীগুলোর উগ্র কর্মকাণ্ড আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। অথচ একই ধরনের সন্ত্রাস চালায় খ্রিস্টান মৌলবাদী গোষ্ঠী লর্ডস রেজিট্যান্ট আর্মি। সুদান নাইজেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকার প্রজাতন্ত্রে তারা মুসলিমদের হত্যা করছে।ভারতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী বজরংদল কিংবা আরএস এস-এর বিভিন্ন নামে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিনাকা রণে হত্যা করছে নির্দোষ খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের।উগ্র বৌদ্ধরা মিয়ানমারে মুসলিমদের বাড়িঘর ও মসজিদ পুড়িয়ে দিচ্ছে।প্রতিক্রিয়াশীল ইহুদিরা ইসরাইলে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের হত্যা করছে। তাদের বাড়িঘর ও উপাসনালয় পুড়িয়ে দিচ্ছে।

লেখক: রায়হান আহমেদ তপাদার, লন্ডন

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: