সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘কখন যেন বড় হয়ে গিয়েছি টেরই পাইনি’

full_553706953_1474552093বিনোদন ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। সে বিষয়ে একটি ভারতীয় বাংলা দৈনিকে লিখেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা মিমি চক্রবর্তী। তার লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

”পাহাড়ের গায়ে এক চিলতে দেওমালিতে মিশে রয়েছে আমার ছেলেবেলার দুর্গাপুজো। অরুণাচল প্রদেশের একটি ছোট্ট বিন্দু দেওমালি। মূলত ট্রাইবাল এলাকা। মাত্র একটাই পুজো হত ওখানে। ওই অঞ্চলের সব বাঙ্গালি পরিবার মেতে উঠতেন সেই পুজোর আয়োজনে। এখন কেমন যেন স্বপ্নের মত মনে হয় সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে। ওই রকম একটা নির্জন জায়গায় বাইরে থেকে চাকরি করতে আসা মানুষদের (সারা বছর) রিক্রিয়েশনের কোনও ব্যাবস্থা ছিল না। একমাত্র পুজোর ওই কটা দিনই ভরপুর আনন্দে সবাই মেতে ওঠার সুযোগ পেতেন। খুব মজা হত। বাচ্চারাও ওই চারটে দিন বই খাতার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে প্যান্ডেলে কেবল খেলা আর খেলা।

তখন বেশ কিছু নতুন জামা হত আমার। কিন্তু তাতে আমার খুব একটা ইন্টারেস্ট ছিল না। নতুন জামা বিষয়টাই বুঝতাম না। তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ পেতাম ক্যাপ বন্দুকে। বাবা আমার জন্য প্রত্যকবার পুজোর সময় ক্যাপ বন্দুক এনে দিতেন। আর আমি প্যান্ডেলে ক্যাপ ফাটিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। এই ছিল আমার পুজোর শৈশব। আর একটু বড় হওয়ার পর আমরা চলে এলাম জলপাইগুড়িতে। সেখানে পুজোর চিত্রটা একদম আলাদা। কোথায় আমার সেই শান্ত নিঝুম ছোট্ট দুর্গাপুজো! এখানে তো সারা শহরে বিশাল বিশাল পুজো প্যান্ডেল! প্রত্যেক পাড়ায় আলাদা আলাদা পুজো! কত ধুমধাম! কত মানুষের ঢল! পুজোর সময় প্রচুর অনুষ্ঠান হত জলপাইগুড়িতে। সেসব দেখার একটা তাগিদ থাকত। দেওমালিতে ভাবতেই পারতাম না যে দুর্গাপুজো এমনও হয়!

পুজোর ছুটিতে আমার সব ভাই-বোনরা আসত জলপাইগুড়ির বাড়িতে। সারাদিন রাত গান-বাজনা, আড্ডা, আনন্দ করে কাটাতাম। সবাই মিলে রাত জেগে ঠাকুর দেখতে যাওয়া, পরদিন সকালে একটু ঘুমিয়ে আবার রেডি হয়ে প্যান্ডেলে যাবার জন্য। কোনও ক্লান্তিই অনুভব করতাম না!

সবচেয়ে বেশি মজা পেতাম ভাইবোনেরা মিলে যখন ঠাকুর দেখতে যেতাম। এই ভাবেই একটা একটা করে পুজোর মধ্যে দিয়ে কখন যেন বড় হয়ে গিয়েছি টেরই পাইনি। স্মৃতিগুলো বড্ড মধুর। বিশেষ করে দশমীর পর সবার বাড়ি গিয়ে নাড়ু খাওয়াটা এখন খুব মিস করি।

এখন পুজোর ঠিক পরই কোথাও একটা বেড়াতে চলে যাই। এবারও যাবো। কয়েকটা দিন একটু রিল্যাক্স করা, নিজের মত করে কাটান। এমনিতে চারটে দিন বাড়িতে রান্না, খাওয়া দাওয়া, আড্ডা দিয়ে কাটাই। অনেক সময় কাজের কিছু মিটিং থাকলে সেগুলো করি। বন্ধুদের বাড়ি যাই। আমার কম্পলেক্সে পুজো হয়, সেখানেও অনেকটা সময় কাটে।

এই বছর পুজোয় ৭ অক্টবর আমার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। তাই নিয়ে আলাদা একটা উত্তেজনা তো রয়েছেই। ভেঙ্কটেশ ব্যানারের ছবি। পরিচালক বির্সা দাশগুপ্ত। হিরো হিসেবে জশের ডেবিউ ফিল্ম। খুব মন দিয়ে সবাই মিলে কাজ করেছি। এখন শুধু দর্শকের ভালো লাগার অপেক্ষা। সবার যেন ভালো লাগে এই ছবি, মা দুর্গার কাছে এটাই কামনা।”

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: