সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে

32504_b1আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা টগবগ করে ফুটছে। দু’পক্ষই কাশ্মীর ইস্যুতে একে-অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলেছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের উরিতে সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সামরিক কোনো পদক্ষেপ নেয়া না-ও হতে পারে। দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে এমনটাই লিখেছে যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সিএনবিসি। তবে বিবিসি সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে ভারত! কাশ্মীরের উরি’তে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পাকিস্তানে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) সকল ফ্লাইট বাতিল করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ)। কি কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পরিষ্কার করে জানানো হয় নি।

ওদিকে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ টেলিফোনে কথা বলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। নওয়াজ শরীফ এখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে। কাশ্মীরের উরিতে সেনাঘাঁটিতে হামলার পর এ দু’নেতার এটাই প্রথম আলাপ। ওদিকে বিবিসি বলেছে, পাকিস্তানের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে যে, ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ক্রমশই সরে আসছে। পাকিস্তানে যেকোনো সময় ভারত হামলা চালাতে পারে বলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছে, বুধবার থেকে পিআইএ তার উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে টুইটারে জানিয়েছেন পিআইএ’র মুখপাত্র দানিয়েল গিলানি। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত সে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যায় নি।

তবে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের হুমকির মুখে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো উড্ডয়ন ও অবতরণ রিহার্সেল চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, রোববার সকালে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে উরি এলাকায় আর্মি ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার্সে চার জঙ্গি হামলা চালায়। তারা হত্যা করে ১৮ ভারতীয় সেনা সদস্যকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক অস্ত্রধারী এ দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সীমিত কিন্তু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। তারা এর মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে চায়। পিআইএ যেসব ফ্লাইট বাতিল করেছে সেগুলো হলো- পিকে ৪৫১ ইসলামাবাদ-স্কারদু, পিকে ৪৫২ স্কারদু-ইসলামাবাদ, পিকে ৬০৫ ইসলামাবাদ-গিলগিট, পিকে ৬০৬ গিলগিট-ইসলামাবাদ, পিকে ৬০৭ ইসলামাবাদ-গিলগিট, পিকে ৬০৮ গিলগিট-ইসলামাবাদ, পিকে ৬০৯ ইসলামাবাদ-গিলগিট, পিকে ৬১০ গিলগিট-ইসলামাবাদ, পিকে ৬৬০ ইসলামাবাদ-চিত্রাল-পেশোয়ার, পিকে ৬৬১ পেশোয়ার-চিত্রল-ইসলামাবাদ।

রোববার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের উরি শহরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে হামলা চালায় চার বন্দুকধারী। এক দশকের মধ্যে এটিই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা বলে দাবি করছেন অনেকে। এ হামলার দায় কেউই স্বীকার করেনি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ করেছে। রোববার হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সমর্থনের জন্য পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে মোদি সরকার।

ভারতের দাবি, বন্দুকধারীরা জৈশ-ই-মোহাম্মদের (জিইএম) সদস্য, যেটি পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ভারত শাসিত কাশ্মীরে এ সংগঠনটি সক্রিয়। তবে ভারতের অভিযোগ সমপূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির বক্তব্য, ভারত শাসিত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি থেকে মনোযোগ অন্যত্র প্রবাহিত করতে এটি ভারতের কৌশল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দু’টি দেশের কলহ জাতিসংঘের চলমান সাধারণ অধিবেশনেও পৌঁছেছে। গতকাল নিজ বক্তৃতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের এ প্রসঙ্গ তোলার কথা ছিল।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের সঙ্গে ৮০০ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্তে অন্তত ৮ জঙ্গিকে হত্যা করেছে। এমন আরও লড়াই হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। তবে কৌশলবিদদের মতে, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের আশঙ্কা থাকায় পূর্ণোদ্যমে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারছে না মোদি সরকার। রোববারের হামলার ফলে ভারতে মানুষের মধ্যে ক্রোধ বাড়ছে। অনেক বিক্ষোভকারী পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়েছে, প্রতিশোধ নেয়ার দাবি তুলছে। সোমবার পিউ রিসার্চ সেন্টার একটি জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, অর্ধেকের মতো মতামত প্রদানকারী পাকিস্তানের সঙ্গে মোদি সরকারের সমপর্ক ভালোভাবে নেয়নি। অপরদিকে প্রতি পাঁচ জনের তিন জনই বলপ্রয়োগের পক্ষে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: