সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পুনরায় চালু হচ্ছে চিলমারী নদী-বন্দর

1474552027নিউজ ডেস্ক: চিলমারী নদী-বন্দর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম সফরকালে এক জনসভায় দেয়া প্রতিশ্রুতির দু’সপ্তাহের মধ্যে সরকার ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান নৌ বন্দরটিকে পুনঃচালুকরণে ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার চিলমারীতে আসছেন। তিনি উপজেলার রমনা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে থানাহাট এ,ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় পাটের কারবারের জন্য বিখ্যাত ছিল কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর। ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বন্দরটি পাট বেচাকেনা, প্রসেসিং, দেশী-বিদেশী জাহাজের আসা-যাওয়ার পাশাপাশি দেশের নানা অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ী ও পাইকারদের আনাগোনায় সে-সময় রাতদিন মুখরিত থাকতো।

এই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে, চিলমারী বন্দরের পাটের কারবার শুরু হয় তিরিশের দশকে। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় রাজ্য আসামের সাথে এক সময় ছিল ফেরি চলাচর সার্ভিস, ছিল কাস্টমস বিভাগের দপ্তরও। ওই সময় জুট ট্রেডিং কর্পোরেশনসহ ৩০টি পাটকল কোম্পানি এখানে কারবার করতো। এজন্য স্থাপিত হয় বিশাল বিশাল পাট গুদাম। পাট প্রসেসিং ও বেল তৈরির মেশিনও স্থাপন করা হয়।

তথ্যমতে পাট ক্রয়, বাছাই ও বেল তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিল ৯০০ শ্রমিক। এর বাইরে শত শত ব্যাপারী, কৃষক ও ফড়িয়াদের আগমন হতো এখানে। প্রায় ৩০০ গরুর গাড়ি দুর দূরান্ত থেকে এখানে পাট আনতো। এখানকার পাট খুলনা, দৌলতপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ নানা জায়গায় সরবারহ করা হতো। বিদেশেও রফতানি হতো উন্নতমানের পাট।

১৯৬৭ সালের দিকে বন্দর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র হয়ে ওঠে। ‘৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময় নিশ্চিহৃ হয়ে যায় বন্দরটি। লুটপাট হয় অনেক পাট কোম্পানির মালামাল। দেশ স্বাধীন হবার পর বিলীন হওয়া বন্দরের ৩ কিলোমিটার দুরে রমনা বাজারে কয়েকটি গুদাম ও অফিস নির্মাণ করে আবারও সীমিত আকারে শুরু হয় পাটের কারবার।

১৯৭২ সালে জেটিসি, জিএমসি, লাকি জুট মিলস, বাংলাদেশ জুট মিলস, লতিফ বাওয়ানী, পাল কোম্পানি, হক কোম্পানি, জুট ইন্টারন্যাশনাল এবং বাওয়া জুট মিলসের ব্যবসা জমে ওঠে। এক পর্যায়ে বেসরকারি পাট কোম্পানির ওপর পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা, সীমিত ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ নানা কারণে ধীরে ধীরে চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী পাটের কারবার স্তিমিত হয়ে পড়ে। রমনা বাজারের একাংশও ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় বন্দরের কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হলেও এখনও কুড়িগ্রামের সীমান্ত থেকে ব্রহ্মপুত্রের নৌ-রুটে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ সীমিত আকারে আসাম থেকে কলকাতা যাতায়াত করে। কিন্তু নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এই রুটে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমে গেছে। ভারতের জাহাজগুলো মূলত: এই পথে আসামের শীলঘাট থেকে চাঁদপুর-বরিশাল হয়ে কলকাতা যায়।

এছাড়াও ভারত বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্ট আমদানি করে এই রুট দিয়ে। তাদের এই পথ প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার। চিলমারীতে রাজস্ব আদায়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি শুল্ক ষ্টেশন রয়েছে। কিন্তু জাহাজের সংখ্যা একেবারে কমে যাওয়ায় বন্দরের কোন কর্মমূখরতা নেই।

২০০৯ সালে চিলমারী বন্দরের উজান ও ভাটিতে ৮০ কিলোমিটার নৌ-রুটে নব্যতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ- সমীক্ষা চালালেও পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। ফলে ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরটি মৃত বন্দরে পরিণত হয়। তবে বন্দরটি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশের অন্যান্য নৌ-রুটে সহজ যোগাযোগের কারণে পণ্য আনা নেয়া সহজতর হতো বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: