সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘রাতারাতি বদলে গেল মোদির বাড়ির ঠিকানা’

modi20160922124412আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
রাতারাতি বদলে গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাড়ির ঠিকানা! দিনভর দফতরে বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের বাসভবনে ফিরলেন, ততক্ষণে তার বাড়ির ঠিকানা বদলে গেছে। রেসকোর্স রোডের নাম হয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ।

ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পর থেকে সাত নম্বর রেসকোর্স রোডে থাকতে শুরু করেন রাজীব গান্ধী। এরপর বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের আমলে সিদ্ধান্ত হয়, এখানেই পরের সব প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। দিল্লিতে রেসকোর্সের ঠিক উল্টো দিকে এই রোডটি তখন থেকেই জনসাধারণের নাগালের বাইরে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কড়া নিরাপত্তা।

কিন্তু এই রাস্তার নাম বদলানোর জন্য কয়েক দিন ধরেই সক্রিয় ছিলেন বিজেপির নয়াদিল্লি কেন্দ্রের সাংসদ মীনাক্ষী লেখি। ‘রেসকোর্স’ শব্দটি ভারতীয় ‘সংস্কৃতি’র সঙ্গে খাপ খায় না এই অভিযোগ তুলে তিনি রাস্তাটির নাম ‘একাত্ম মার্গ’ রাখার প্রস্তাব দেন। সঙ্ঘ পরিবারের তাত্ত্বিক নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষে তার প্রচারিত মানবতাবাদ, যাকে ‘একাত্ম মানব’ বলা হয়, তাকে স্মরণ করতেই এই সুপারিশ করেন মীনাক্ষী। তার যুক্তি ছিল, এর ফলে দীনদয়ালের আদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে।

রেসকোর্স রোডটি নয়াদিল্লি পুরনিগমের আওতায়। তাই নাম পাল্টাতে গেলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেখানেই। আজ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে নয়াদিল্লি পুরনিগমের বৈঠকে স্থির হয়, ‘একাত্ম মার্গ’ নয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের রাস্তার নাম হবে ‘লোক কল্যাণ মার্গ’। কেন্দ্রের সঙ্গে নিরন্তর বিবাদ থাকলেও খোদ কেজরিওয়াল মীনাক্ষী লেখিকে পাশে রেখেই এই ঘোষণা দেন। আর রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে নাম বদলের জন্য কেজরিওয়ালের তারিফ করেন লেখিও।

পরশু থেকে কেরালার কোজিকোড়ে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক শুরু হচ্ছে। তিন দিনের বৈঠক শেষ হচ্ছে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন ২৫ সেপ্টেম্বরে। সে দিনই প্রধানমন্ত্রী মোদি এক বছর ধরে দীনদয়ালের নামাঙ্কিত ‘অন্ত্যোদয়’ প্রকল্পকে বিশাল আকারে রূপায়ণ করার ডাক দেবেন। যার মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সেবা। ক’দিন আগে মোদির জন্মদিনকেও ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়েছে। সেই হিসেবে একান্ত মার্গের বদলে ‘লোক কল্যাণ মার্গ’ নামটি নিয়ে আপত্তি তোলেনি বিজেপি। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু বরং এই নাম বদলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

কিন্তু আম আদমি পার্টি সহজে বিজেপির প্রস্তাব মেনে নেয়নি। লেখির প্রস্তাব আরএসএস ঘেঁষা দেখে কেজরিওয়াল বলেন, আমার কাছেও এই রাস্তার নাম গুরু গোবিন্দ সিংহ মার্গ করার প্রস্তাব ছিল। আপের এক বিধায়ক ওই রাস্তার নাম আরএসএস ঘনিষ্ঠ কারও নামে না করে ৬৫ সালের যুদ্ধের এক সৈনিকের নামে করার দাবি তোলেন। কেজরিওয়ালের বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত ‘লোক কল্যাণ মার্গ’-নামেই সংখ্যাগরিষ্ঠের সিলমোহর পড়ে।

তবে নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে এর যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্কও ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কয়েক মাস আগে দিল্লির আওরঙ্গজেব রোডের নাম বদলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের নামে করা হয়েছে। তার নেপথ্যেও ছিলেন দিল্লিতে বিজেপির আর এক সাংসদ মহেশ গিরি। গুড়গাঁও-এর নাম গুরুগ্রাম করার বিতর্কের রেশও এখনও থামেনি। যে আকবর রোডে কংগ্রেসের সদর দফতর, সেই রাস্তাকে মহারানা প্রতাপের নামে করার দাবি এখনও রয়েছে। ফলে নাম বদল করে ইতিহাস মুছে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন উঠে এসেছে আবার। এরই মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার কটাক্ষ, নাম বদলের হিড়িক দেখে মনে হচ্ছে, পৃথিবীতে বাকি সব কিছু ঠিক চলছে!

সূত্র : আনন্দবাজার।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: