সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখার শাহবাজপুর স্কুল মার্কেটে আগুন পরিকল্পিত, অভিযোগ ব্যবসায়ীদের (ফলোআপ)

barlekha-fire-s-pur-bazarবড়লেখা প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর বাজারের স্কুল মার্কেটে গত ২৫ জুন রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২১টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে যাবার ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে রাজি নয় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের অনেকেই। তাদের ধারণা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অথবা বিশেষ কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নাশকতাকারীরা পরিকল্পিত ভাবে এই অগ্নিকান্ড ঘটিয়েছে।

বিশেষ করে করমপুর গ্রামের বয়োঃবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন দৃঢ়তার সাথে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের মাধ্যমে মূলতঃ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে পথে বসিয়ে দেবার জন্যই এলাকায় তাঁর শত্রু বলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটা ঘঠিয়েছে। কারো বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ থাকলে তার নাম বলতে অনুরোধ করা হলে আব্দুল মতিন বলেন, আমাকে কেন নাম বলতে হবে, আমাকে কারা দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, আমার নিরপরাধ বড় ছেলেকে কারা মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়েছিলো, কাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে আমার সহজ সরল ছেলে পারভেজকে চা বাগানের ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী করা হয়েছে তা সকলেরই জানা। আমি তো কাউকে দেখিনি আমি নির্দিষ্ট করে কারো নাম বলবো কিভাবে কিন্তু এই অগ্নিকান্ডে আমার মেয়েজামাই মস্তুফা কামালের বিছমিল্লাহ স্টোর আমার ইউনিভার্সেল ফার্মেসী আমার ভাতিজার ঘরের নাতনিজামাই কালাম উদ্দিনের তামান্না স্টোর আমার চাচাত ভাই আব্দুল হালিমের সুমাইয়া বস্ত্র বিতান শতভাগ জ্বলে ছাঁই হয়ে গেছে। এটা কিন্তু আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে ধ্বংসের জন্যই করা।’
অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেবা ফার্মেসীর স্কুল শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, অগ্নিকান্ডটা পরিকল্পিত হতে পারে আবার না ও হতে পারে। তিনি মনে করেন কারো প্রতি বিশেষ শত্রুতা থেকে কেউ এই অগ্নিকান্ড ঘটিয়ে থাকলে ২১/২২ টা দোকানের সব তো আর তার শত্রু নয়। অপর দিকে জয়নাল স্টোরের মালিক জয়নাল আবেদিন ও তার ভাই সফিক উদ্দিন বলেন, এটা ইলেকট্রিক শর্টসারকিটের কারণেই হয়েছে এবং ফটো ডিজিটালের দোকানের মালিকের অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, ফটো ডিজিটালের মালিককে আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তীর সম্মুখিন করার দাবী জানান তারা।
শাহবাজপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও এই স্কুল মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুল মানিক বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটুর জন্য তার ব্যবসা প্রতিষ্টান রায়হান স্টোর রক্ষা পায়।
তিনি বলেন, অগ্নিকান্ডটি পরিকল্পিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি জানান বাজার চৌকিদারদের সাথে আলাপ করে তিনি জেনেছেন অগ্নিকান্ড আনুমানিক রাত ২টার সময় সংঘঠিত হয় তারও ঘন্টা খানিক আগে অস্বাভাবিক ভাবে কয়েকটি মটর সাইকেল বাজারের মধ্য দিয়ে দুই তিন চক্কর দেয়। এভাবে গভীর রাতে অপরিচিত কয়েকটি মটর সাইকেলের আসা যাওয়াই নাশকতা সন্দেহের আসল কারণ।

13508969_1601836086812715_4397136655783644895_n

শাহবাজপুর ইউনিয়ন চেয়রম্যান আকবর আলী এই অগ্নিকান্ডকে পরিকল্পিত ভাবতে নারাজ। তিনি বলেন ‘কোন ভাবেই এই অগ্নিকান্ডকে পরিকল্পিত ভাবার সুযোগ নেই, শাহবাজপুরের মানুষ শান্তিপ্রিয় ভালো মানুষ। শাহবাজপুরের কোন মানুষ এভাবে কারো ক্ষতি করতেই পারেনা।’

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কমর্কর্তা(তদন্ত) আকবর হোসেনের সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, তাদের কাছে এ বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি, নির্দিষ্ট কাউকে অভিযুক্ত করে তাদেরকে কিছু জানানো হলেই পরে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। আকবর হোসেন আরো বলেন ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা কোন নাশকতার প্রমাণ পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে দেখবো।’

বড়লেখা ফায়ারসার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার হিমাংশু রঞ্জন সিংহ প্রথম থেকেই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বললেও ঠিক কোন দোকানে প্রথমে অগুন লেগেছিলো নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। মার্কেটের কোন সাইড থেকে আগুন লেগেছিলো প্রশ্নেও তিনি দ্বিধান্বিত।
পূর্ব পশ্চিমে প্রায় ২০০ মিটার লম্বা এই মার্কেটের জ্বলে যাওয়া অংশ প্রায় ৮৫ মিটার। আশ্চর্য্য জনক ভাবে হলেও সত্য খুব দ্রুত আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টায় লেগে গেলেও মার্কেটের এই অংশটা জ্বলে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে আগুন যদি যেকোন একটি জায়গা থেকে লেগে থাকে তা কি এতো দ্রুত মার্কেটের এতো বড়ো একটা অংশকে জ্বালিয়ে দিতে পারবে? নাকি অভিযোগকারীদের কথা সত্য, আগুন কি তবে ২/৩ জায়গা থেকে লেগেছিলো বা লাগানো হয়েছিলো? কোন অভিযোগ না পেলেও কি আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে যাবেন না কিংবা অভিযোগকারীরাই বা কেন একটি লিখিত অভিযোগ করবেন না।

উল্লেখ্য, শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর বাজারের স্কুল মার্কেটে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২১টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে, রাস্তায় বসে গেছে ২১ টি অসহায় পরিবার। ঈদ সামনে রেখে এই চরম ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতে পারা ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে শাহবাজপুরের হাওয়া।

এতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানিয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: