সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিদেশে রফতানি হচ্ছে শ্রীমঙ্গলের ‘অক্টোপাস’

sreemangal-news-daily-sylhetনিজস্ব প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের অক্টোপাসসহ ১৫টি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ৩৭টি দেশে। এতে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে প্রায় ৪০০ নারী। এর মধ্যে হাইল হাওরপাড়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০০ নারী রয়েছেন। যারা তাদের বাড়ির আনুষাঙ্গিক কাজের ফাঁকে এবং লেখাপড়া চালিয়ে তৈরি করছেন এসব পণ্য। জানা যায়, ইউএসএইড এর অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস কর্তৃক বাস্তবায়িত ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিলো এসব নারীদের। তারা দীর্ঘ দুই মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে হাতে বুননের বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজ। ইতোমধ্যে তাদের তৈরি বেশকিছু পণ্য ব্রিটেনসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রফতানি করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ২৫ জন নারীর একটি গ্রুপের কাছে অর্ডার আছে অক্টোপাসের। উপজেলার মীর্জাপুর এলাকার দক্ষিণ পাচাউন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি রুমের মধ্যে ১৫/২০ জন নারী গোল হয়ে বসে সুতা দিয়ে তৈরি করছেন অক্টোপাস। এ সময় কথা হয় দক্ষিণ পাচাউনের কলেজপড়ুয়া মেয়ে সুরভী ভৌমিকের সাথে। সে জানায়, তারা একটি গ্রুপে ২৫ জন মেয়ে ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে দুই মাস হাতে বুননের প্রশিক্ষণ পেয়ে বর্তমানে কাজের অর্ডার পেয়ে কাজ করছেন। রভি বলেন, বর্তমানে ৫০টি অক্টোপাসের অর্ডার আছে। প্রতিটি অক্টোপাসে মেটেরিয়েলস বাদে মজুরি পাচ্ছি ৩০ টাকা। এর আগে বেশ কিছু পুতুল তৈরি করেছি আমরা। তবে আরও বেশি বেশি অর্ডার পেলে এবং আমাদেরকে মজুরি আরেকটু বেশি দিলে হলে ভালো হয়।

মীর্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী লুবনা আক্তার জানান, আমি স্কুলের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমার দলে কয়েকজন কলেজের মেয়ে ও এলাকার ভাবীরা মিলে ২৫ জন আছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশকিছু পুতুল তৈরি করেছি। এখন ৫০ পিসের ছোটো একটি অর্ডার আমরা পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে আমি আমার পড়াশোনার খরচ নিজেই চালিয়ে নিতে পারবো। ক্রেল প্রকল্পের কমিউনিকেশন অফিসার ইলিয়াস মাহমুদ পলাশ জানান, ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল না থেকে স্বাবলম্বী করা যায়, হাইল হাওরতীরবর্তী গ্রামসমূহের নারী-পুরুষ তাদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা নারীদের পাশাপাশি হাওরপাড়ের পুরুষদেরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি।

ক্লাইমেট চেঞ্জ এণ্ড প্রটেকটেড এরিয়া ম্যানেজমেন্ট অফিসার পলাশ সরকার জানান, ক্রেল প্রকল্প হাইল হাওরের চারদিকের বিভিন্ন গ্রামে আধুনিক পদ্ধতিতে জলবায়ুসহিষ্ণু সবজি চাষ করেছে, যা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এছাড়াও হাওর নির্ভরশীলদের তালিকা করে ক্রেল প্রকল্প গত চার বছরে হাইল হাওর সাইটের ২৮টি গ্রামের ১ হাজার ৩৮৯ জনকে বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে- সবজি চাষ, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, হাতে বুনন, মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

হাইল হাওর কর্ম এলাকার কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, হাওর নির্ভরশীলদের হাওরের উপর নির্ভরশীলতা অনেক কমে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রশিক্ষণ পেয়ে হাইল হাওরতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এখন বর্ষাকালেও সবজি চাষ করছে। এছাড়া মেয়েরা হাতে বুননের কাজ করছে।

হাতে বুননের কাজের রুরাল সেন্টার ম্যানেজার রেজোয়ান কাউসার জানান, আমরা হাওরপাড়ের বেকার ও গরিব অন্তত ৪০০ মেয়েদেরকে হাতে বুননের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এসব মেয়েরা বাসাবাড়ির সকল কাজের ফাঁকে প্রতিদিন ২/৩ ঘণ্টা করে কাজ করলে মাসে অন্তত ১৫’শ থেকে দুই হাজার টাকা বাড়তি আয় করতে পারবে। আর ফুল টাইম কাজ করলে মাসে অন্তত ৫/৬ হাজার টাকা আয় করতে পারবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: