সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের প্রতীক তালগাছ

14429551_10205651558727255_749044527_nনিজস্ব প্রতিবেদক ::
বাংলা ও বাঙালির জনপ্রিয় ফল তাল। সেই তাল ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে পাকে বলে তালকে বলা হয় ভাদ্রের ফল। আর ভাদ্র মাসের গরমকে বলা হয় তালপাকা গরম। বছর ঘুরে ভাদ্র মাস এলেই পাকা তালের মোহনীয় গন্ধ জানান দেয় এই বুঝি এলো ভাদ্র মাস। বাঙালিরা পাকা তাল দিয়ে মুখরোচক খাবার তৈরি করে। তার মধ্যে অন্যতম হলো-তালের পিঠা, তালের বড়া, তালের ক্ষির এগুলো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। যুগ যুগ ধরে বাঙালিরা এসব খাবার তৈরি করে নিজেরা খায় এবং অতিথি আপ্যায়নও করে থাকে।

ভাদ্র মাসের তাল না খেলে কালে ছাড়ে না বলে বাঙালি সমাজে প্রবাদও রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন ভাদ্র মাসের পূর্বেই বাজারে পাকা তাল উঠতে দেখা যায়। এ বছর শ্রাবণের প্রথম দিক থেকেই বাজারে পাকা তাল উঠতে শুরু করেছে। দামও অত্যন্ত চড়া। একহালি পাকা তালের দাম হাকা হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। তাল খেতে দুধ, চিনি, গুড়, কিশমিশ, বাদাম, নারকেল, সাগুদানা, আলুবুখারা ও বিভিন্ন গরম মসলার মতো বিভিন্ন দামি উপকরণ প্রয়োজন হয় বলে সাধারণ মানুষ এমনিতেই তাল খেতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। এর উপর তালের দাম শুনে সাধারণ মানুষ এর ধারেকাছেও যায় না। মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় একসময় ব্যাপক তালগাছ দেখা যেতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন অার সেই তালগাছ খুব একটা চোখে পড়ে না।

বাংলাদেশে তালের প্রাচুর্য ও জনপ্রিয়তার কারণে বাঙালির শিল্প-সাহিত্যে তাল ও তালগাছের উপর রচিত হয়েছে অনেক গল্পকথা, কল্পকথা, গান, কবিতা, প্রবাদ, প্রবচনসহ বিভিন্ন রচনাবলী। প্রবীণজনেরা জানান, আজ থেকে ৩ দশক পূর্বেও বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে প্রচুরসংখ্যক তালগাছ ছিলো। দিগন্ত বিস্তৃত গ্রামগুলোতে তালগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো। সে সময় গ্রামগুলো চিহ্নিতকরণের প্রতীক ছিলো তালগাছ। কবি তাই নিজের গ্রামকে পরিচিত করেছেন ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ বলে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে। এসব আকাশছোঁয়া তালগাছে প্রচুর তাল ধরতো। পাকা তাল কখনও বাজারে বিক্রি হতে দেখা যেতো না।

বাজারে তালের আষাঢ়ীও বিক্রি হতো না। মাঝে কাঁচা তাল রাখালরা দু’একটা আষাঢ়ী অতিকষ্টে গাছ থেকে পেড়ে কাঁছি দিয়ে কেটে খেতো। তাল ও তালগাছ নিয়ে বাঙালি সমাজে অনেক সুন্দর সুন্দর প্রবচন ও প্রবাদ রয়েছে। যেমন-তালপাখার ব্যবহার। গ্রামের নববধুরা ভাদ্রের প্রচণ্ড গরমে তালের পাখা দিয়ে বাতাস দিয়ে নতুন বরকে ঠাণ্ডা করেন। শহরের অলি-গলিতে বিক্রি হয় তালের আষাঢ়। যার ফলে তাল বলতে এখন আর বেশি কিছু অবশিষ্ট থাকে না। বলতে গেলে দেশে এখন পাকা তালের খুবই সঙ্কট। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা হালির তাল এখন বিক্রি করছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা হালি দরে। এছাড়াও তালে রয়েছে বিভিন্নমুখী অর্থ। তালের একটি অর্থ হচ্ছে এক বিঘৎ পরিমাপ। যেমনভাবে তালগাছ ও তাল হারিয়ে গেছে ঠিক তেমনভাবে হারিয়ে গেছে এসব নাম। কারণ, আগে আমাদের পাঠ্যবইসহ অনেক বইতে তালের তালগাছ নিয়ে অনেক গল্প, কবিতা ছিলো যা কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে। কেননা, যে হারে তালগাছ নিধন হচ্ছে এতে না থাকার-ই তো কথা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: