সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, দাম কত?

full_2067538921_1474448272নিউজ ডেস্ক: মেঘনা নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। তাই দীর্ঘ অপেক্ষার পর হাসি ফুটেছে মেঘনা পাড়ের জেলেদের মুখে। ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর গোটা উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার জেলে পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। জেলার বৃহত্তম মতিরহাট মাছ ঘাটে ২৪ ঘণ্টাই বেচাকেনা চলছে ইলিশের। দাম কম হওয়ায় স্বস্তিতে ক্রেতারাও।

ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের আকারও বেশ বড়। এখন পাঁচশ গ্রাম সাইজের প্রতি হালি (৪টি) ইলিশের সর্বোচ্চ দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, এক কেজি সাইজের প্রতি হালি দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, জাটকার কেজি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অক্টোবর মাস থেকে ২৪ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই এ সুযোগে যে যা পারছে ইলিশ কিনে মজুদ করছে। দাম নাগালে থাকায় ইলিশ কিনে সাধারণ মানুষ খুশি।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মেঘনা উপকূলীয় নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিছুদিন আগে নদীতে ইলিশের আকাল থাকলেও বর্তমানে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তারা ভীষণ খুশি। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর উপকূলের হাজার হাজার জেলে এবং ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত।

কমলনগর উপজেলার মেঘনা পাড়ের মতিরহাট ঘাটটি বর্তমানে বৃহত্তম নোয়াখালীর ইলিশ বেচাকেনার সবচেয়ে বড় ঘাট। প্রতিদিন দেশের প্রায় ৪০ জেলা থেকে জেলে, ক্রেতা-বিক্রেতার আগমনে মুখরিত থাকে এ ঘাট। যেখানে ইলিশ মৌসুমে প্রতিমাসে কমপক্ষে দেড়শ কোটি টাকার ইলিশ হাতবদল হয়ে থাকে।

শুধু মতিরহাট নয় বৃহত্তর নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতির মেঘনাপাড়ের ৬০ কি.মি. এলাকার আরও ১০টি ঘাটে ইলিশ বেচাকেনার একই চিত্র পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট, কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, বাত্তিরঘাট, কটরিয়া, লুধুয়া-ফলকন, রামগতি উপজেলার রামগতি ঘাট, টাংকীর বাজার ঘাট, আলেকজান্ডার সেন্টার খাল, রায়পুরের চরবংশী এবং চর আবাবিলের ঘাটে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। আবার লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ৩০টি মাছঘাটে জেলেরা মাছ বিক্রি করছেন। মেঘনা নদীর মাছের ওপর নির্ভরশীল সরকারি তালিকায় ৩৬ হাজার ৭০০ জেলে থাকলেও নদী ও মাছ নির্ভরশীল জেলের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার হবে বলে দাবি জেলে কমিউনিটির।

মজুচৌধুরীর হাট মাছঘাটের জেলে ফোরকান আলী বলেন, ‘নদীতে অন মেলা মাছ, আল্লা হারাবছর এরুম রাইখলে আঙ্গো আর অভাব থাইকতোন’।

আড়তদার হারুন ব্যাপারী জানান, মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় আনন্দের কমতি নেই। এভাবে চলতে থাকলে সবার ভাগ্য বদলে যাবে। বর্তমানে মাছের দর উঠা-নামা করছে। ছোট-বড় মিলিয়ে গড়ে এক পন (৮০টা) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা করে। মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের আশা, নদীতে এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে গত বছরের দেনা পরিশোধ করে লাভের মুখ দেখতে পারবেন তারা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: