সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৮ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যুবকের গ্রাহকদের পাওনা মেটাতে আজ জরুরি বৈঠক

jubok-md20160920224054ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান যুবকের (যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি) প্রতারিত গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে যেকোনো একটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে সরকার। এ সংক্রান্ত পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আজ বুধবার বিকেল ৪টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ইতোপূর্বে যুবকে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। এরপরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে আজকের বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

যুবকের কার্যক্রম বন্ধের ১০ বছর পর বঞ্চিত গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব ঠিক করতেই এ বৈঠক। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আশা করছি বুধবারের বৈঠক থেকে চূড়ান্ত একটা সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসবে।’

এদিকে যুবক কমিশনের প্রতিবেদনসহ যুবকের ওপর এ পর্যন্ত যতগুলো প্রতিবেদন হয়েছে, সব কটিতেই যুবকের সম্পত্তি রক্ষার্থে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ এসেছে। প্রশাসক যুবকের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি ও দেওয়ানি দায় সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

আইন মন্ত্রণালয়ও গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, যুবকে প্রশাসক নিয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু একজন প্রশাসকের পক্ষে ওই দায়িত্ব পালন কতটা বাস্তবসম্মত, সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

গত ৫ এপ্রিল যুবক বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের যৌথ স্বাক্ষরিত এ সার-সংক্ষেপে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে যুবকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

ওই সারসংক্ষেপের ওপর গত ২৪ এপ্রিল মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করুন। এরপর বিষয়টি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে গড়ায় এবং গত ২৬ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রীকে বলা হয়, দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকায় যুবকের গ্রাহকেরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

আর এই পর্যায়ে ঈদের আগে ৫ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রীর কাছে আরেকটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতেও প্রশাসক নিয়োগের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবকের নিবন্ধন যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছে, যুবকের গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্বও শেষ পর্যন্ত ওই মন্ত্রণালয়ের ওপরই আসবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এখানে কিছু করার নেই।

রাজধানীর শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেটে কয়েকটি দোকান ভাড়া নিয়ে ১৯৯৪ সালে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে যুবক। ১৮৬১ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নেয় প্রতিষ্ঠানটি এবং পরে উচ্চ সুদের বিনিময়ে আমানত সংগ্রহ ও ঋণদান কর্মসূচি চালু করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তে যুবকের প্রতারণামূলক কার্যক্রমসহ অবৈধ ব্যাংকিংয়ের চিত্র উঠে আসে ২০০৬ সালে। তখনই এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

ফরাসউদ্দিন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১১ সালের ৫ মে সাবেক যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় দুই বছর মেয়াদি যুবক কমিশন। মেয়াদ শেষে ২০১৩ সালে কমিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং প্রশাসক নিয়োগসহ ১৪টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে। কিন্তু কোনো সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি।

যুবক কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে যুবকের ৯১টি জমি, ১৮টি বাড়ি ও ১৮টি কোম্পানি রয়েছে এবং তিন লাখ তিন হাজার ৭০০ গ্রাহকের কাছ থেকে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন যুবকের কর্তাব্যক্তিরা।

কমিশনের সুপারিশের সূত্র ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির পুরো দায়িত্ব দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তখন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অতি মুনাফালোভী ও সহজ-সরল বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত লোক অতি সহজে যুবকের পাতা ফাঁদে ধরা পড়েন এবং একপর্যায়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: