সর্বশেষ আপডেট : ৫০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তামাবিলের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর অযত্ম আর অবহেলায়

daily-sylhetএম আর সরকার, গোয়াইনঘাট::
১৯৭১ সালে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার স্বাধীনতা লক্ষে যে অকোতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন বাজি রখে পাক-হানাদারদের বিরোদ্ধে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। জাতির সেই বীর-সেনাদের গণ কবর আজ অযত্ম আর অভহেলায় পড়ে রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সৌন্দর্য্য বর্ধন ও আধুনিকায়ন হয়নি শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের এই গণ কবরটি।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অবস্থিত এই গণকবর কেবল সাইনবোর্ড আর কাটা তারের বেড়ায় আটকা পড়ে আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক বাহিনীর হাতে নিহত হওয়া ১৩ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে একত্রে সমাহিত করা হয় ওই গণ কবরে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময় থেকে দীর্ঘদিন গণ কবরটি অরক্ষিত অবস্থায় থাকলেও গেল কয়েক বছর ধরে নাম মাত্র একটি কাটা তারের বেষ্টনি তৈরী করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, পর্যায় ক্রমে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা সমূহ আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। অথচ স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত শহীদ মুক্তি যোদ্ধাদের তামাবিলের গণ কবরটি রয়েছে সাইনবোর্ড সর্বস্ব।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীণ সময়ে রাধানাগর ও কাফাউরা এলাকায় পাক বাহিনীর সাথে সম্মূখ যুদ্ধে মজিবুর রহমান, পাটোয়ারী, আবুল হোসেন, ইব্রাহিম মিয়া, আব্দুর রহমান, আসমান মিয়া, ফজলুল হক, ফরমান আলী, আব্দুল আজিজ উরফে আজিম মিয়া ও দুলাল মিয়া উরফে তুলা মিয়া সহ মোট ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা পাক বাহিনীর হাতে নিহত হন। এরপর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ তামাবিলে গণ কবরে সমাহিত করা হয়।

এব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান তামাবিলের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণ কবরটি শুধু স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবস আসলেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। এছাড়া সারা বছরই থাকে প্রায় জরাজীর্ণ অবস্থায়। তাই মাতৃভূমি স্বাধীন করার জন্য যে মুক্তি যোদ্ধারা দেশের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তাদের সমাধিস্থলের সৌন্দর্য্য বর্ধন ও আধুনিকানের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন তিনি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তামাবিলের গণ কবরটি আমি পরিদর্শণ করেছি। এই গণ কবরটি রক্ষণা-বেক্ষন ও আধুনিকায়ন করার লক্ষে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই এই গণ কবরের আধুনিকায়ন করতে পারবো। পাশাপাশি তামাবিল শুল্ক কার্যালয় থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণ কবর পর্যন্ত প্রায় দুইশত ফুট রাস্তা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: