সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চামড়ার দর পতনে দায়ী আন্তর্জাতিক বাজার : লোকসানে ব্যবসায়ীরা

152187_370ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমায় মাথায় হাত মৌসুমী ব্যবসায়ীদের। আগের বছর গরুর চামড়া ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এ নিয়ে চরম লোকসান আশঙ্কায় হতাশায় রয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া গরুর চামড়ার দাম গতবারের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম মিলেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা একটি গরুর চামড়া ১ হাজার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন; যা গত বছরের চেয়ে গড়ে ৫০০ টাকা কম। ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার চামড়ার কম দামের জন্যে আন্তর্জাতিক বাজারই দায়ী। বাংলাদেশের চামড়া রফতানি না হওয়ায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশে বাংলাদেশের চামড়া রফতানি করা যায়নি। পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশ থেকে চামড়া কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো।

অথচ বাংলাদেশের রফতানি হওয়া চামড়ার ৪০ শতাংশই যায় ইইউ-এর বাজারে। আর সেজন্যেই দেশে চামড়ার দাম কমে গেছে। হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারে স্থাপিত চামড়া শিল্প পার্কে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে চামড়া নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ইইউ। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সাবেক সভাপতি আবু তাহের বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে চামড়ার রফতানির নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখানে দাম পড়ে গেছে। ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে এ শিল্পে সুদিন ফিরবে না। ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে যেত পারবে না। কারণ আমাদের দেশের পশুর চামড়ার মূল বাজার এটাই।এদিকে লবণের দাম বাড়ায় চামড়ার মান ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাজারীবাগের চামড়া ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ী তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত বছর কোরবানি ঈদে লবণের যে বস্তার দাম ছিলো সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ এখন তা ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় কম লবণ ব্যবহার করছেন। যার প্রভাব পড়বে চামড়ায়। এ দিকে সরকারকে নজর দেওয়া উচিত।ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। যার বেশির ভাগই হয় কোরবানির সময়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার। অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে খাসির লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা ও ছাগলের ১৫ টাকা। অথচ গত বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০-৫৫ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকায় কিনেছেন।আর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত মহিষের চামড়ার দাম ছিলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির ক্ষেত্রে মূল্য ছিলো ২০ থেকে ২২ টাকা, ১৫ থেকে ১৭ টাকায় কেনা হয় বকরির চামড়া।

ট্যানারি মালিক, পুরান ঢাকার পোস্তার চামড়ার আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার দাম কমে যাওয়ার কারণÑচামড়ার বাজারে অর্থের সংকট। ট্যানারি মালিকেরা এ বছর আড়তদারদের পাওনা অর্থের বড় অংশ পরিশোধ করেননি। ফলে আড়তের মালিকেরা আগের মতো বেশি পরিমাণে চামড়া কিনতে পারেননি। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকেরা নিজেরাও সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। ফলে বাজারে চাহিদা কম ছিল। এ ছাড়া লবণের চড়া দামের কারণেও ব্যবসায়ীরা চামড়ার বেশি মূল্য দিতে চাননি।ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের দিন গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মধ্যরাতের আগ পর্যন্ত চামড়ার দাম মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু মধ্যরাতের পর দাম ব্যাপকভাবে কমতে থাকে। পোস্তায় যানজটের কারণে যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ীর চামড়া আড়তে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে, তাঁদেরই লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। কারণ, আড়তে নিয়ে চামড়ায় দ্রুত লবণ দিতে না পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বাজারের পরিস্থিতি না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনে পরে লোকসানে বিক্রি করেছেন।

জানতে চাইলে হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান মৃধা গ বলেন, এবার চামড়ার দাম কম থাকবেÑএটা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজারে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে প্রতিটি ১ হাজার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকা দরে; যা গত বছর ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ছিল। তিনি বলেন, ‘যারা নিয়মিত চামড়া কেনাবেচা করে, তারা বাজার বুঝতে পারে। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তা পারে না। ফলে এবার তারা বেশি দামে চামড়া কিনলেও সে অনুযায়ী বিক্রি করতে না পেরে লোকসান দিয়েছে।ট্যানারি মালিকদের কেউ কেউ সরাসরি বাজার থেকে চামড়া কিনেছেন। অনেকে মাদ্রাসাগুলো থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। হাজারীবাগের সবচেয়ে বড় ট্যানারি ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিনস দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে প্রায় ২৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করেছে। ওই ট্যানারির পরিচালক জে এ খোকন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিটি চামড়ার দাম পড়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। গত বছর দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

চামড়ার দাম এত কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে খোকন ভূঁইয়া বলেন, এবার চামড়ার ক্রেতা কম ছিল। তাই দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনেক কমে গেছে। চামড়া কিনে তা বিক্রি করতে না পারলে ট্যানারি মালিকেরা কী করবেন? দেশে বছরে যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়, তার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ আসে ঈদুল আজহায়। সবচেয়ে ভালো, সুস্থ, সবল ও দেখতে সুন্দর গরুগুলো কোরবানিতে জবাই হয় বলে এ সময় চামড়ার মান ভালো থাকে। চামড়া কেনার প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহও বেশি থাকে এ সময়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় গত বছরের ৩০ শতাংশ চামড়া এখনো মজুত রয়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। একই কারণ দেখিয়ে এ বছর চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করেছিলেন তাঁরা।

কোরবানির তিন দিন আগে শুক্রবার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা দরে কেনা হবে বলে জানায় চামড়া খাতের তিন সংগঠন। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৫ টাকা ও মহিষের চামড়া ২৫ টাকা করে কেনা হবে বলেও জানানো হয়। গত বছর ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ট্যানারি মালিকেরা বলেছিলেন, নির্ধারিত দরে তাঁরা ট্যানারি পর্যায়ে এ চামড়া কিনবেন। তবে বরাবরের মতো এবারও এ দর কার্যকর থাকেনি। আড়তের মালিকদের দাবি, আড়ত পর্যায়ে প্রতি বর্গফুট চামড়ার খরচ পড়েছে ৭০ টাকার কাছাকাছি। বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. টিপু সুলতান বলেন, ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বর্গফুট দরে ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করতে পারলে তাঁদের প্রতিটি চামড়ায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ থাকবে। গত বছর কোরবানির চামড়া তাঁরা প্রতি বর্গফুট ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। যদিও নির্ধারিত দর ছিল ৫৫ টাকা।

লবণের চড়া দামে চামড়ায় খরচ বেড়েছে: চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় ঈদের দিন রাতে লবণের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ঈদের দিন মধ্যরাতে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণের দাম ২ হাজার টাকায় উঠেছিল; যা গত বছর ছিল সাড়ে ৫০০ টাকা। একটি চামড়ার আড়তের ক্রয়কর্মী মো. হুমায়ূন বলেন, একজনের কাছে লবণ আছে জেনে আমরা তাঁকে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা করে দাম দিতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি ২ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করতে রাজি হননি। অবশ্য বৃহস্পতিবার দাম পড়ে গেছে।ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিটি গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৮ থেকে ১০ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। এবার প্রতিটি চামড়ার পেছনে গড়ে ১০০ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে লবণের চড়া দামের কারণে।গত দুই মৌসুমে ভালো উৎপাদন না হওয়ায় দেশে লবণের দাম বেড়ে যায়। সরকার এখন পর্যন্ত দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সে লবণ কোরবানির আগে দেশে পৌঁছায়নি।টিপু সুলতান বলেন, লবণ নিয়ে সরকারের আরও আগেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল

গত মঙ্গলবার ঈদের দিন বিকেলে বগুড়া শহরের চকযাদু সড়কে কোরবানির পশুর চামড়া জড়ো করা হয় বিক্রির জন্য ষ বগুড়া অফিসদেশের বিভিন্ন জেলায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের এবার ব্যাপক লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। ঈদুল আজহার দিন পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম থেকে চামড়া কিনে আড়ত বা হাটে নিয়ে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কেনা দামের তুলনায় সেখানে দাম অনেক কম। অনেকে অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন হাটে পাইকারি ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে আড়তমালিক ও পাইকারদের দাবি, ট্যানারিতেই দাম কম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই বেশি দামে কেনার সুযোগ নেই।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, ভোলায় এক-একটি গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৭০০ টাকা, জয়পুরহাটে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা,পঞ্চগড়ে ভালো চামড়া সর্বোচ্চ ১ হাজার ও সাধারণ চামড়া ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ঈদের দিন নীলফামারীর বড় বাজারে প্রতিটি গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত বুধবার সকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে চামড়া বিক্রি হয় গড়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। দুপুরে দাম কমে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় নেমে যায়। এ বছর ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ২০ ও ছাগলের চামড়া ১৫ টাকা দরে কেনার কথা জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। গরুর চামড়ার দাম কিছুটা মিললেও বিভিন্ন জেলায় খাসি ও ছাগলের চামড়া নামমাত্র দামে কেনাবেচা হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: