সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রিজার্ভ চুরির ১২০ কোটি টাকা ফেরত পেল বাংলাদেশ

90f6ab2a7468dd6a02d3cdab090131cf-56e7172570c3aডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের যে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপিন্সের একটি আদালত। এই অঙ্কের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে যা ১২০ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশের পর এই টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ফেব্র“য়ারিতে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে নেওয়া হয়েছিল। এই অর্থের অধিকাংশ জুয়ার টেবিলে চলে গেলেও তার মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্স উদ্ধার করেছে। ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে গতকাল সোমবার আদালতের আদেশ হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির সরকারি এক আইনজীবীর বরাত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও এ তথ্য জানিয়েছে। এই খবর আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ফিলিপিন্সের আদালতের রায়ের খবর আমরা পেয়েছি। পরে বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্বিক বিষয় জানানো হয়।

বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আনোয়ারুল ইসলামও এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট (ন্যাশনাল ক্যাপিটাল জুডিশিয়াল রিজিওন) গতকাল সোমবার শুনানি শেষে ইতোপূর্বে বাজেয়াপ্ত ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত ৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ৪৮৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসো বাংলাদেশের অনুকুলে অবমুক্ত করার আদেশ জারি করেছেন। ফিলিপাইন সরকার বনাম কাম সিন ওয়াং এর মামলায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।

এ আদেশের ফলে বাংলাদেশ দেড় কোটি ডলার ফেরত পাচ্ছে। অবশিষ্ট অর্থ আইনুনাগ প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফিলিপাইনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায়-সম্পূর্ণ স্টোলেন অ্যাসেট অচিরেই বাংলাদেশ আদায় করতে সমর্থ হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)মহাব্যবস্থাপক দেব প্রসাদ দেবনাথ,কমিউনিকেশন্স ও পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এফ এম মোকাম্মেল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ফেব্র“য়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে গোটা বিশ্বে তোলপাড় হয়। চুরি যাওয়া অর্থের বেশির ভাগই চলে যায় ফিলিপাইনে। এদিকে এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গত ফেব্র“য়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ সরানো হয়েছিল ফিলিপিন্সের রিজল রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি)। ওই ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে ফিলিপিন্স সরকার তৎপর হলে দেড় কোটি ডলারের সন্ধান মেলার পর তা জব্দ করে। তা রাখা হয় ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে।

এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই অর্থের মালিকানা দাবি করে ফিলিপিন্সের আদালতে আবেদন করা হয়। ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের প্রধান কৌঁসুলি রিকার্দো পারাস রয়টার্সকে বলেছেন, বাংলাদেশ এই অর্থের প্রকৃত মালিক বলে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে। ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংকো সেন্ট্রাল ন পিলিপিনাস (বিএসপি)’ কে বলা হয়েছে, এই অর্থ বাংলাদেশকে হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিতে।

এই অর্থ এখন বিএসপির ভল্টে রয়েছে। গত মে মাসে ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির তদন্তের সময় এক ‘ক্যাসিনো জাংকেট’ এই দেড় কোটি ডলার ফেরত দেন; যদিও তার জুয়ার আখড়ায় বাংলাদেশের রিজার্ভের সাড়ে ৩ কোটি ডলার গিয়েছিল বলে মনে করা হয়। আট কোটি ১০ লাখ ডলারের বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তার হদিস এখনও মেলেনি।ফিলিপিন্স সরকার জুয়ার আখড়ার আরও আড়াই কোটি ডলার জব্দ করেছে, ওই অর্থের দাবি বাংলাদেশ করলেও তার সুরাহা এখনও হয়নি। নিউ ইয়র্কের অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্স থেকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল। এর আগে দেশটির বিচার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই পরিমাণ অর্থের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলার সঙ্গে জমা দেওয়ার জন্য একটি হলফনামা তারা তৈরি করেছেন বলে প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল।রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও আব্দুর রব ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসাইন ম্যানিলায় যান। প্রতিনিধি দলটির চারদিনের সফর করেন।

গেল ৪ ও ৫ই ফেব্র“য়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে এক কোটি ৮০ লাখ ডলারের হদিস পাওয়া গেছে, যার দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের কাছে রয়েছে। আর বাকিটা ফিলিপিন্সের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে।রয়টার্স বলছে, দেশটির বিচার বিভাগ দেড় কোটি ডলারের মালিকানা দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধি দলকে মামলা করতে বলেছে। তবে ক্যাসিনোর ওই অর্থ উদ্ধারের জন্য ভিন্ন প্রচষ্টা চালাতে হবে। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের তৈরি করা হলফনামায় ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে লেখা নিউ ইয়র্ক ফেডের একটি চিঠির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকেই ওই অর্থ হয়েছে বলে রিজার্ভ ব্যাংক বলেছে।

আদালতে মামলা করার জন্য ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের কাছে ওই হলফনামা দেওয়া হবে। ম্যানিলায় প্রতিনিধি দলকে সহায়তাকারী ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ দেড় কোটি ডলার এক মাসের মধ্যেই ফেরত পাওয়া যাবে বলে রয়টার্সের কাছে আশার কথা বলেন। গত ফেব্র“য়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়।এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। আর একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ভুয়া এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। রিজল ব্যাংকে যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ পরে ফিলিপিন্সের জুয়ার টেবিলে চলে যায়। এর মধ্যে এক ক্যাসিনো মালিক যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্স সরকারের হাতে ফেরত দিয়েছেন, তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল ম্যানিলায় রয়েছেন।

ঐ সময় রাষ্ট্রদূত গোমেজ বলেন, আমরা দেড় কোটি ডলার উদ্ধারের শেষ ধাপে রয়েছি। তবে বাকিটার বিষয়ে ফিলিপিন্সের সিনেটে আবার শুনানি শুরু হবে বলে আমাদের আশা, যাতে ঘটনার বিষয়ে আমরা আরও বিস্তারিত জানতে পারি। বাংলাদেশের এই অর্থ চুরির বিষয়ে ফিলিপিন্সের সিনেটে যে শুনানি চলছিল দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে তা মে মাসে বন্ধ হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুয়ের্তে ক্ষমতায় আসার পর শুনানি শুরুর তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি করে নেওয়া ওই অর্থ ফিলিপিন্সের জুয়ার টেবিলে চলে যাওয়ার পেছনে শুধু কিছু কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ত্রুটিই নয়, আরসিবিসির পদ্ধতিগত ব্যর্থতাও দায়ী। গত মার্চে সিনেটে শুনানিতে ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: