সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : গুলিবিদ্ধসহ আহত শতাধিক

biswanathpic0মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ ::
বিশ্বনাথ ও সিলেট সদর উপজেলাবাসীর মধ্যে দেড় ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে পুলিশ ও গুলিবিদ্ধসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার লামাকাজি এম এ খান সেতুর ওপর বিশ্বনাথ উপজেলার মির্জারগাঁও গ্রামবাসী ও সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামবাসীর মধ্যে এঘটনা ঘটে। এতে সিলেট সদরের মোগলগাঁও ইউনিয়নের পক্ষে যুগীরগাঁও, ধনপুর, হাউসা, চানপুর, খিত্তারগাঁও, লালারগাঁও, চৌধুরীগাঁও, তালুকপাড়া, লামারগাঁওসহ ১০-১২টি গ্রামের লোকজন, অন্যদিকে লামাকাজি ইউনিয়নের পক্ষে মির্জারগাঁও, মাতাবপুর, লামাকাজি, কাজিরগাঁও, দিঘলীসহ ১২-১৫টি গ্রামের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৩৪ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের পর বিক্ষোদ্ধ সিলেট সদর উপজেলাবাসী সুনামগঞ্জগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-০৮৪৫) ও একটি লেগুণা (সিলেট-থ ১১-২২৬৪) ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আহতরা হলেন-হামিদুর রহমান, মৌরশ আলী, আরশ আলী, মারুফ মিয়া, পাভেল আহমদ, সোহেল আহমদ, তারেক আহমদ, তামিম আহমদ, জাহেদ মিয়া, তাজুল ইসলাম, শিশু মিয়া, রুহুল আমিন, খসরু মিয়া, মতিন মিয়া, সোহেল মিয়া, মোহন মিয়া, চাদনুর, সুহেল মিয়া, মুন্না, আব্দুল কালাম, হায়দর আলী, মুসাদ্দিক হোসেন, আব্দুল কাহার, রিয়াজুল ইসলাম, আকমল, জাকারিয়া, বশারত আলী, ছাদিকুর রহমান, আলমগীর হোসেন, বাবুল মিয়া, ছাদেক আলী, সোহাগ মিয়া, জাহেদ মিয়া, আল-আমিন, কামরুল হোসেন, আব্দুল্লাহ, আজির উদ্দিন, মুক্তার মিয়া, আফাজ আলী, আব্দুল করিম, রুবেল, ময়না, মারুফ মিয়া, আলা উদ্দিন, রফিক আলী, বাদল মিয়া, আব্দুল হামিদ, এরশাদ আলী, সৈয়দুর, লিটন মিয়া, বুরহান, আব্দুল মালিক, আনোয়ার হোসেন, কাইয়ুম, নানু, মুকিত, আল-আমিন, ফুজায়েল, আব্দুস শহিদ, জাকির হোসেন, আব্দুল মুছব্বির, ফকির আলী, রহিম উদ্দিন, ছমির আলী, জসিম, রিয়াজুল হক, আলিম উদ্দিন, সারুক, আলী আহমদ, জায়েদ, নাজমুল, নাইম, ছয়ফুল, রুহুল, জাবের, লিগার, রুহুল আমিন, তামিম, ছামির, মুস্তফা, জুয়েল, সুহেল, তোফায়েল, ফয়েজ, রাহিম, জাহেদ, উমর আলী, আবু-বক্কর, হাবিবুর, লায়েক, চমক আলী, মাঈনুল, ইয়াসিন, কামরুল, ছয়দুল, জাহেদ, সুন্দর আলী, আব্দুল করিম, জাকির, লালসাদ,সুন্দর আলী, রিয়াজুল হক, আব্দুল কাদির, জুনেদ, রপিক মিয়া। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েল ও আফজল’কে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

biswanathpic1সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আহতরা হলেন- ফার্মেসী ব্যবসায়ী আখতার হোসেন, মনির মিয়া, উকিল আলী, মিজানুর রহমান, মকদ্দুছ আলী, আখতার হোসেন, আব্দুর রহমান, জাহেদ মিয়া, দিলোয়ার হোসেন, সালমান, হুছাম উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, আজমল হোসেন, বারিক মিয়া, আব্দুল মাইল্লা, জসিম উদ্দিন, মাচুম আলী, আল-আমিন, ইউসুফ আলী, মানিক মিয়া, খছির মিয়া, জাহিদ মিয়া, হুসিয়ার আলী, ওলিউর রহমান, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আহতরা হলেন বিশ্বনাথ থানার এসআই হাবিবুর রহমান, শুভ্র সাহা, কনষ্টেবল খালিকুজ্জামান, গোলাম কিবরিয়া, মানিক মিয়া, রানা হোসেন, সালেহ আহমদ। এরই মধ্যে গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকার খবর পেয়ে সকাল থেকে ওই এলাকায় জনপ্রতিনিধি,প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত হন। কিন্তু তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথার বলার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে শতশত গাড়ি আটকা পড়ে। প্রায় দুই ঘন্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানাbiswanathpic2 গেছে, গত শনিবার বিকেলে লামাকাজী বাজার পয়েন্টে ফার্মেসীর সামনে অটোরিকশা গাড়ি রাখা নিয়ে ফার্মেসীর মালিক সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের আখতার হোসেন ও বিশ্বনাথের লামাকাজি পয়েন্টের অটোরিকশা ষ্ট্যান্ডের ম্যানেজার বিশ্বনাথ উপজেলার মির্জারগাঁও গ্রামের আবদুস শহিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনার জের ধরে গত দুইদিন ধরে লামাকাজি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। গত রোববার সকাল থেকে ওই দুই উপজেলাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের আশংকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু সোমবার সকাল ৯টা থেকে ফের উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এমন খবর পেয়ে সকাল থেকে থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ১১টায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শুরু হয়। এসময় লামাকাজির পক্ষ নিয়ে ওই এলাকার আরও কয়েকটি গ্রামবাসী ও হাউসা গ্রামবাসীর পক্ষ নিয়ে আরও কয়েকটি গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে লামাকাজি বাজারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লে তারা দোকানপাঠ বন্ধ করে নিরাপথ স্থানে চলে যান। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার আখতার হোসেনের পক্ষ নিয়ে সদর উপজেলা ও আব্দুশ শহিদের পক্ষ নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলার এলাকাবাসীর মধ্যে গত ২দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে। ফলে অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে লামাকাজী ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে পুলিশ মোতায়ের করা হয়।

সোমবার সকালে উভয় পক্ষ নদীর দুই তীরে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য দুই উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রশাসন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্বন্নয়ে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। এক পর্যায়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর কাছে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাব দেন। তাতে বিশ্বনাথবাসীও সাড়া দেন। এরপর বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সদর উপজেলাবাসীর কাছে যান। উভয় উপজেলার চেয়ারম্যান, উভয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, রাজনৈতিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সদর উপজেলাবাসীর কাছে আপোষ প্রস্তাব প্রদান করেন। উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা চলাকালে সদর উপজেলাবাসীর একটি অংশ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর উপর হামলা করতে এম এ খান সেতুর উপর আসলে তা প্রতিরোধ করেন বিশ্বনাথবাসী। এসময় প্রায় দেড় ঘন্টা উভয় পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এক পর্যায়ে বিশ্বনাথবাসীর প্রতিরোধে পিছু হটে সিলেট সদর উপজেলাবাসী। এসময় পুলিশ ব্রিজের মধ্যখানে অবস্থান নিয়ে দুই উপজেলাবাসীকে দু’দিকে সড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের পূর্বে উভয় উপজেলায় অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার ফয়ছল মাহমূদ, সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (উত্তর সার্কেল) ধীরেন্দ্র মহা পাত্র, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর মাহবুবুল আলম, বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার, বিশ্বনাথ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম, গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক একেএম দুলাল, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নুর উদ্দিন, কান্দিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী, রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর, খাজাঞ্চী ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, মোগলগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম টুনু, অলংকারীর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল।

এদিকে, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠক করে সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৬-৭ পুলিশ আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে ২০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৩৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: