সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই

unnamed-5রায়হান আহমেদ তপাদার:: পৃথিবীর অন্যতম জনসংখ্যা বহুল একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ওপরের দিকে বলা যায়। এখানে সীমাবদ্ধ ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটির কাছাকাছি।একজন মানুষ যখনই চাকরির জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেন তখনই তার আগ্রহ দক্ষতা বিবেচনায় একটি নির্দিষ্ট পেশা স্থির করতে হবে।আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী একজন মানুষ তার পছন্দ ও যোগ্যতানুযায়ী যে কোনো পেশায় যদি নিজেকে প্রশিক্ষিত।দক্ষ ভাবে উপযোগী করে তোলে তবে সঠিক কাজ পাওয়া সহজতর হবে।পেশা স্থির করে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে উপযোগী করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণের বিকল্প নেই।একজন কর্মী যদি নিজেকে কার্পেন্টার বা পেইন্টার বা নার্স বা পছন্দের যে কোনো পেশায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযোগী করে তোলে তবে সঠিক কাজ পাওয়া,কাজের মাধ্যমে তার দক্ষতার প্রমাণ ও দক্ষতা অনুযায়ী সন্তোষজনক।

একজন নাগরিক দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই কর্মে নিয়োজিত হোক না কেন, তার কর্মদক্ষতা বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবে তার উপার্জন বা বেতন ভাতার পরিমাণ।এ জন্য দেখা যায়,একই কাজে নিয়োজিত কর্মিরা দক্ষতার কারণে কমবেশি আয় করে থাকে।অনুগ্রহ করে কেউ কাওকে অর্থ দেয় না,আর তাইতো শ্রমের বিনিময়ে তা অর্জন করতে হয়।আর এর জন্য দরকার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ।বাস্তবিক অর্থে প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।এটা স্বতঃসিদ্ধ যে,একজন সাধারণ কর্মীর চেয়ে একজন প্রশিক্ষিত কর্মীর উপার্জন তিন থেকে চার গুণ বেশি হয়ে থাকে।তাছাড়া প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন কর্মী সবদিক থেকেই একজন সাধারণ কর্মীর তুলনায় তার নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অনেক বেশি স্বচেতন হয়ে থাকে।তাই প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলা দেশ,ভারত,নেপাল,পাকিস্তান এবংশ্রীলঙ্কা থেকে যাওয়া অভিবাসী কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখ করার মতো।তবে লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে,এসব দেশের অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অদক্ষ কর্মী যায় বাংলাদেশ থেকে।আর এ কারণে কর্মীসংখ্যার অনুপাতে আমাদের প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।গত বিশ বছরের উপাও থেকে দেখা যায়,

বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে অদক্ষ কর্মীর সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি আর মাত্র এক তৃতীয়াংশের মত ছিল দক্ষ কর্মী।সুতরাংসাভাবিক ভাবেই বুঝা যাচ্ছে আমাদের কি করণীয়।সাধারণভাবে বলতে গেলে বাংলা দেশের প্রায় সতেরো কোটি মানুষের এ বিশাল জনগুষ্টিরকে আমরা একটি বড় বোঝা বলেই মনে করি।লক্ষ লক্ষ বেকার যেমন কর্মের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছে,তেমনি দিন দিন বেড়েই চলছে বেকারের সংখ্যা।তাই যে যেভাবে পারছে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা সহজতর হবে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪-৫ লাখ কর্মী বিদেশে চাকরির উদ্দেশে পাড়ি জমায় সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায়। নিজেদের ও পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার পাশাপাশি এসব কর্মী ভাইবোনেরা দেশের জন্য বেশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে রেমিট্যান্সপ্রবাহে চমৎকার গতির সঞ্চার করছেন।বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও শিক্ষিত কর্মীর চাহিদাই বেশি থাকে সব সময়ে এবংতাদের পারিশ্রমিকও থাকে উচ্চহারে, এটা কাঙ্ক্ষিতও বটে।সুশিক্ষিত, অভিজ্ঞ, দক্ষ কর্মীরা খুব সহজেই নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।এ নিয়ে কোনোরকম অনিশ্চিয়তা কিংবা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন না তারা।

বিদেশের যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেন।বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চাকরির জন্য যাওয়া কর্মীদের মধ্যে এখনো স্বল্পশিক্ষিত, অদক্ষ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাই বেশি।তাদের বেশিরভাগই গ্রামের মানুষ।এসব জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশ নিজেদের ও পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনার জন্য পাড়ি জমায় শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন দেশে।এমনকি বিদেশে যাওয়ার পথে অনেকে প্রাণও হারাচ্ছে।কিন্তু এ জনসংখ্যাই হতে পারে একটি অফুরন্ত সম্পদ,যদি আমরা তাদেরকে তৈরি করতে পারি।আর সেটি যে খুব একটা কঠিন কাজ,তা কিন্তু নয় তবে সেটি করতে হলে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারিভাবে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন আর এ ক্ষেত্রে সরকারকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্তায় পরিবর্তন আনার সময় এসেছে প্রথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।তবে যেসব পরিবার দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে,সেসব পরিবারের সন্তানদের জন্য এমন ব্যবস্তা করা যেতে পারে,যাতে ওই সব পরিবার এ জন্য কোনো চাপে না পড়ে বা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।আসলে শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ভাবে বাস্তব ভিত্তিক,কর্মমুখী উত্পাদনমুখী এবংসর্বোপরি সৃষ্টিশীল।স্কুল,কলেজ বা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে কেউ যেন বেকার না থেকে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারে,কর্ম সংস্থানের সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।বেকারত্বের বোঝা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো ক্রমেই শিক্ষার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।বরংএকটি মেধাসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই হবে এর মূল লক্ষ্য।আর এ লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষম হতে পারলেই বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে বা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।সরকার অবশ্যই প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি সরবরাহ করবেন।স্থায়ী প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিদেশে কর্ম শেষে ফেরত আসা দক্ষ স্থানীয়দের প্র শিক্ষণের কাজে লাগানো যেতে পারে।এ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ ব্যয় অনেক লাগব হবে বলে আমার বিশ্বাস।প্রয়োজন মনে করলে সরকারি ভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।এমনকি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোও এগিয়ে আসতে পারে।এ ছাড়া সরকারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বেসরকারি পর্যাযে়ও এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্তা করা যেতে পারে।আমার বিশ্বাস,এভাবে এগুতে পারলে কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশকে একটি দক্ষ জনশক্তি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হব।

সত্যি বলতে কি,বিশ্বে দক্ষ কর্মীর যেমন খুব চাহিদা রয়েছে,তেমনি তাদের উপার্জন ও অনেক বেশি।আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে,প্রশিক্ষণ যাতে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হয়।আর সে আলোকেই প্রশিক্ষণের জন্য সিলেবাস প্রণয়নসহ যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে।তাছাড়া প্রশিক্ষণের মান বিশ্ব-শ্রম-বাজারের চাহিদা মতো সময়ে সময়ে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে হবে,যাতে আমাদের প্রশিক্ষিত কর্মীদের চাহিদার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকে।তাই সব প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে অংশগ্রহণ কারীদের তথ্যাদি সরকারের কেনদ্রীয় ডাটা ব্যাংকে (ট্রেড বা কর্মক্ষেএ অনুযায়ী) সংরক্ষণ করা হবে।আমার একান্ত বিশ্বাস,প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর অনেকেই যেমন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সংস্থান করতে সক্ষম হবে,তেমনি কেউ আবার নিজেই নিজের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্তা করে নেবেন।আর যারা বিদেশে কর্মপ্রত্যাশী,তাদের সংরক্ষিত ডাটা নির্বাচিত করে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে বিধায় আমরা যত তাড়াতাড়ি প্রযোজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিকল্পনাটি বাস্তবায় করতে পারি ততই তা দেশের ও দেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস।তার সাথে সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাও সচল হবে বইকি।কিন্তু এ কথাও সত্য যে,চাহিদানুযায়ী আমাদের দেশে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেনদ্রের স্বল্পতা রয়েছে।নিজেদের ও পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনার জন্য পাড়ি জমায় শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন দেশে।বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক অভিবাসনের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীই অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ:যারা যে কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছে সে কাজে তাদের জ্ঞান বা দক্ষতা থাকে সীমিত।স্বল্প শিক্ষাই এর মূল কারণ বলে পরিগণিত হয়।

গ্রামাঞ্চলে এতদিন ধরে শিক্ষা লাভ এবংনানা কাজের দক্ষতা অর্জনের কোনো সুযোগ ছিল না।তবে আজকাল সরকারি উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হওয়া সবার জন্য দক্ষতা বাড়ানোর অনেক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।সুশিক্ষিত অভিবাসী কর্মীই পারে তার কারিগরি দক্ষতা শানিত করতে এবংপ্রবাসে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কৌশলে নিজস্ব দক্ষতা অর্জন করে তার প্রবাস জীবনকে নিরাপদ করতে। বিদেশে উপার্জিত অর্থই শুধু নয় অর্জিত জ্ঞান,বিভিন্ন কৌশল ও অভিজ্ঞতাকেও তারা দেশে ফেরার পর জাতীয় উন্নয়নে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে ব্যবহার করতে পারে।

আর তাই সময় নিয়ে হলেও দেশের ও দেশের মানুষের কথা বিবেচনায় এনে এ ব্যাপারে সচেষ্ট ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিদায় চাইছি আমি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: