সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কক্সবাজারে পর্যটন খাতে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা!

unnamed-1-29-537x550নিউজ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ভ্রমণে আসেন অন্তত ছয় লাখ পর্যটক। এখনো পর্যটকেরা আসছেন। আগামী সোমবার পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের দাবি, বিপুলসংখ্যক পর্যটক ঘিরে পর্যটন খাতে ব্যবসা হয়েছে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা।

হোটেল–মালিকেরা জানান, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক আসা শুরু হয়। ভ্রমণের এই আনন্দ উৎসব শেষ হচ্ছে আগামীকাল সোমবার।
গত শনিবার বিকেলে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকের পদচারণে গমগম করছে চারপাশ। কেউ বালুচরে হেঁটে, কেউ ছাতার নিচে বসে সাগরের বিশালতা উপভোগ করছেন।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গত রোজার ঈদে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে আসেন। তখন নানা খাতে ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। এবার কোরবানির ঈদের টানা ছুটিতে ছয় লাখের বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। এতেও কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। তবে পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও পর্যটকদের বিনোদন সুবিধা তেমন বাড়েনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৯৮ শতাংশ পর্যটক বাড়ি ফেরার সময় কক্সবাজার থেকে শুঁটকি, আচার, রাখাইনদের তৈরি কাপড় এবং শামুক-ঝিনুকের গয়না কেনেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা যায় এমন বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি সপ্তাহে পর্যটন খাতে ২০০ কোটি টাকা আয় সম্ভব।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান জানান, সৈকতসহ শহর এলাকার ৪৮০টির বেশি হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে দৈনিক রাত কাটাতে পারেন ৯৮ হাজার পর্যটক। এর বেশি হলে তখন পর্যটকদের আবাসন–সংকট দেখা দেয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, গত শনিবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করে ফিরে গেছেন। আগামী সোমবার পর্যন্ত আরও লাখো পর্যটক ভ্রমণে আসবেন। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও পালন করছে।
হোটেল–মালিকেরা বলেন, ছুটিতে ছোট আকারের হোটেলগুলো ব্যবসা করেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। মাঝারি আকারের হোটেলে ১৫ লাখ। আর বড় হোটেলগুলো ব্যবসা করেছে সর্বোচ্চ তিন কোটি টাকা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে সাত দিনে হোটেলে ব্যবসা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির উপদেষ্টা নঈমুল হক চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের খাবার পরিবেশনের জন্য শহরে প্রায় ২০০ রেস্তোরাঁ আছে, শহরের বাইরে আছে আরও শতাধিক। প্রতিদিনের দুইবেলা খাবার ও এক বেলা নাশতার বিপরীতে একজন পর্যটকের গড়ে ৫০০ টাকা করে খরচ হয়। সেই হিসাবে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, এবারের ঈদের টানা ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবী, হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনও সৈকত ভ্রমণে আসার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি রামুর বৌদ্ধপল্লি পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, এই ঈদের ছুটিতে ছয় লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। পর্যটকেরা নিরাপত্তা পেয়ে খুশি। পাশাপাশি অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর ছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে সক্রিয় ছিল। এ কারণে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: