সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রুপসপুর গ্রামের আট লাশ দাফন

unnamed-1কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:: ঢাকা বিয়ে করতে যাওয়ার পথে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কমলগঞ্জের রুপসপুর গ্রামের আট লাশের জানাজায় রাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। পুরো গ্রাম জুড়ে যেন ছিল জানাজার ময়দান। শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটায় আট মরদেহ গ্রামে পৌছলে এক হৃদয় বিদাড়ক অবস্থার সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১০টায় গ্রামের বন্দের বাজারে এক সাথে আট লাশ সামনে রেখে কয়েক সহ¯্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে নামাজে জানাজা শেষে দক্ষিণ রুপশপুর দিঘীর পার কবরস্থানে এক সাথে সারিবদ্ধভাবে কবর দেওয়া হয়। শুক্রবার সাড়ে সাত টায় এক যুগে আটটি মরদেহ আসার পর গোটা রুপশপুর গ্রাম জুড়ে ছিল শোকের মাতম। হাজারো মানুষ ছুটে আসেন লাশ দেখতে। আশপপাশ ও স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। গ্রামের চর্তুদিকে রাস্তা দিয়ে জনতার ঢল নামে। জানাজার নামাজে নিহতদের আত্মীয় স্বজন ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক উপস্থিত হন। দিঘীরপার বাজারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পুরো গ্রামের যে যেখানে পেরেছে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছে। কেউ কেউ ঘরের ভিতর থেকেও জানাজার নামাজ আদায় করেছেন। রাত সাড়ে দশ টায় জানাজার নামাজে শরীক হন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, কমলগঞ্জ পৌর সভার মেয়রসহ উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। গ্রামের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আব্দুল মালিক জানাজার পড়ান।

শনিবার দেখা যায়, কমলগঞ্জে রুপুসপুর গ্রামটি শোকে মুহ্যমান। যেন শোকের সাগরে ভাসছে রুপসপুর। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। যারা সান্তনা দিতে আসছেন তারা ও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। স্বজনদে দেখতে ছুটে আসছে এলাকাবাসী। শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা হতে ছুটে আসেন স্থানীয় এমপি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। তিনি দুঘর্টনায় নিহত পরিবারকে ব্যক্তিগত ভাবে এবং প্রশাসনের পক্ষ হতে ১ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগীতা করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন উপার্জনক্ষম হারানো ব্যক্তিদেও পরিবারের মা- চাচা, স্ত্রীরা।

unnamed-2সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর মাওলানা আবু সুফিয়ানের পরিবার, তার চাচা মতিউর রহমানের পরিবার, দুরুদ মিয়ার পরিবার ও মাওলানা সাইদুর রহমানের পরিবার একেবাওে চলছে শোকের মাতম। উপাজর্নক্ষম মানুষজনকে হারিয়ে ৪টি পরিবার প্রায় নিঃস্ব। আবু সুফিয়ানের মা সুনারা বিবি জানান দুর্ঘটনায় বড় ছেলে আবু সুফিয়ান, স্বামী হাদিউর রহমান সরফর, দেবর মতিউর রহমান মুর্শেদ, মুর্শেদের ছেলে আলী হোসেন(১২) ও মুর্শেদের মামা হাজী আব্দুল হান্নান মারা গেছেন। এক ছেলে তারিকুল ইসলাম কামরান আশঙ্কা জনকভাবে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। বাড়িতে ৯ম শ্রেণীতে পড়–য়া ছোট ছেলে শাহনুর আহমদ আছে। স্বামী হাদিউর রহমান ছোট ১টি চা দোকান থেকে আয় করে সংসার চালাতেন। এখন উপার্জনের আরও কেউ রইলো না। মতিউর রহমান মুর্শেদের স্ত্রী অজুফা বেগম জানান, ১ ছেলে ১ মেয়েকে নিয়ে ছোট সংসার ছিল। স্বামী মুর্শেদ রাজমিস্ত্রিরি কাজ করতেন। দুর্ঘটনায় একমাত্র ছোট ছেলে আলী হোসেন সহ স্বামী মারা গেছেন। বাড়িতে নবম শ্রেণি পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে রুবিনাকে নিয়ে তিনি এখন পুরোদমে অসহায়। সংসার চালানোর আর কেউ নেই পরিবারে। নিহত দুরুদ মিয়া পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। ১ ছেলে ও ৫ মেয়ের মাধ্যে বসত ভিটের এক অংশ বিক্রি করে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। ২ মেয়ে কলেজে পড়ে। দুর্ঘটনায় দরুদ মিয়া মারা যাওয়ায় এ সংসার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় নিহত মাওলানা সাইদুর রহমানের ১ ছেলে ও ১ মেয়ের ছোট পরিবার ছিল। বয়সে ছেলে মেয়েরা খুবই ছোট। বড় মেয়ে চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ে। বাবা বৃদ্ধ। তিনি হাউমাউ কওে কাদছেন। একমাত্র ছেলে মাওলানা সাইদুর মারা যাওয়ায় সংসারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে।

নিহত হাজী আব্দুল হান্নান ও আব্দুল মুকিত চৌধুরী ওরফে মোক্তাদিরের পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে আছেন বলে পরিবারটি অনেকটা স্বচ্ছল। নিহত বর আবু সুফিয়ানের মা জরিনা বেগম কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের বলেন, ৩ ছেলের মাঝে সে বড় ছেলে ছিল। বিয়ে করে ঘরে ফিরে আনন্দ করার কথা ছিল। মা জরিনা মাতম করে আরো বলতে তাকেন, এ আমার কি হইল রে। আমার ছেলে বিয়ে করে বউ নিয়ে বাড়ী ফিরে আনন্দ করা কথা। তা না হয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আমার পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। আমি এখন কারে নিয়ে বাঁচমো ? জরিনা’র মতো বাকি ৪ পরিবারে ও একই আহাজারী। তাদের অত্মীয়-স্বজনার যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সান্তনা দেয়ার ভাষা ও হারিয়ে ফেলেছেন তারা। স্থাণীয় ইউপি সদস্য আবুল মিয়া বলেন, হাসিখুশিতে ভরপুর রুপসপুর গ্রামটি এখন কান্নার গ্রামে পরিনত হয়েছে।

এদিকে শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ) শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ আব্দুস শহীদ এমপি, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক,কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিদ্দেক আলী, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদারও রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমদ রুপশপুর গ্রামে যান। নিহতদের পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যদের সাথে কথা বলে সমবেদনা জানান।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পর সাংসদ আব্দুস শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার কারণে যে ৪ টি পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে সেই পরিবারগুলোকে স্বচ্চল রাখার একটি পরিকল্পনা মাফিক চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

পরে সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদের পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ জানান, তিনি বর আবু সুফিয়ান ও মতিউর রহমাম মুর্শেদের পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা করে, দরুদ মিয়ার পরিবার ও মাওলানা সাইদুর রহমানের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষে বর আবু সুফিয়ান ও তার চাচা মতিউর রহমান মুর্শেদের পরিবারকে নগদ ১০ হাজার করে, দুরুদ মিয়া ও সাইদুর রহমানের পরিবারকে ৫ হ্জাার টাকা করে ও হাজী আব্দুল হান্নানের ও আব্দুল মুকিত চৌধুরীর পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: