সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে প্রেমে একাত্ম হতে চায় কাশ্মির

kashmir-subinspector-marriage-550x306আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘যুদ্ধ’ ও ‘প্রেম’ এ দুইয়ের অবস্থান সম্পূর্ন বিপরীতমুখী। তা সত্ত্বেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিবাদমান কাশ্মিরে সম্প্রতি এ দুইয়ের সহাবস্থানের এক নজির সৃষ্টি হয়েছে। কারণ রণাঙ্গনের মধ্যেই ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের সাব ইন্সপেক্টর ওয়েইস প্রেম করে সম্প্রতি বিয়ে করেছেন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফরবাদের মেয়ে ফাইজাকে। স্বাধীনতাকামী হিজবুল সদস্য বুরহান ওয়ানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অশান্ত কাশ্মিরে এই প্রেমের বিয়েটিও আলোচনার কেন্দ্রে। এই বিয়ের সূত্র ধরেই দুই কাশ্মিরে সম্প্রিতির সুবাতাস বইবে এমনটাই আশা অনেকের।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে এ আশাই আবার ব্যাক্ত করেছেন ওয়েইস ও ফাইজার পরিবারের সদস্যরা।

সাক্ষাতকারে এনডিটিভির উপস্থাপিকা শর্মনী ভট্টাচার্য্য ওয়েইসের পরিবারের সদ্যদের যখন জিজ্ঞেস করেন, দুই দেশের সম্পর্কের যে বাস্তবতা সেখানে আপনারা সীমান্ত পার হয়ে বিয়ে করছেন এতে কোন সমস্যা হতে পারে, এমনটা ভাবেননি? এর উত্তরে ওয়েইসের মা বলেন, আমরা সবসময়ই আশা করি দুই দেশের সম্পর্কের যে অবস্থা তা আরো স্বাভাবিক হওয়া উচিত এবং আমার বিশ্বাস এই সম্পর্ক একসময় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই বিশ্বাস থেকেই আমরা দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক গড়েছি।
বিয়ের সময় বর্ডারের পরিবেশ কেমন ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন পরিস্থিতি আরও ভালো ছিলো। আমরা বাসে করে সীমান্ত পার হয়েছি। দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকেও কোন সমস্যা ছিলো না।

জানা গেছে, গত ২ বছরে বেশ কয়েকবার বিয়েটি পিছাতে হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের অস্থিরতার কারণে। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সাব-ইন্সপেক্টর ওয়েইস গিলানি বিয়ে করেই ফেললেন মুজাফরাবাদের মেয়ে ফাইজা গিলানিকে। নিকটাত্মীয় ছাড়া বিশেষ কেউ বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না। ওয়েইসের বাবা শাবির গিলানিও ছিলেন পুলিশ অফিসার। যিনি ২০১৪ সালে এসএসপি পদে অবসর গ্রহণ করেন।
ওয়েইসের বাবা শাবিরকে শর্মিনী জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি যখন পুলিশের পোশাক পড়তেন তখন তো মোজাফফরবাদ যাওয়ার কথা চিন্তাও করতেন না। পাকিস্তানের পুলিশ আর্মি ছিলো আপনার বিপক্ষে। এখন সেই পাকিস্তানেই আপনি ছেলেকে বিয়ে করাতে গেছেন এটা আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?

উত্তরে সাবেক পুলিশ বলেন, আমরা দুই পরিবারের মিলিত হওয়ার জন্য পাকিস্তান গেছি। আমার রিটায়ার্ড করার পর পুলিশ জীবনের কাহিনী শেষ হয়ে গেছে। এটা আমার আলাদা জীবন।
শাবির জানিয়েছিলেন, ১৯৪৭ সালে যখন ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ হয় তখন মুজাফরাবাদের অংশ ছিল সীমান্ত সংলগ্ন কারনা গ্রামটি। কিন্তু বিভাজনের পর কারনা পরে ভারতের মধ্যে। সে সময় শাবির এবং তার বাবা ভারতেই ছিলেন। তাদের পরিবারের বাকিরা ছিলেন মুজাফরাবাদে।

শাবির বলেন, ‘আমার ঠাকুরদা যখন মারা যান সে সময় দু’দেশের মধ্যে কোনও যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বাবা ঠাকুরদার মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। আমি ২০১৪ সালে ঠাকুরদার কবরে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। সে সময় পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গেও ফের মিলিত হই। সেখানেই ফাইজাকে দেখি।

পুত্রবধূ হিসাবে ফাইজাকে পছন্দ করার পর ছেলে ওয়েইস-কে ফোন করে সম্মতি চান তিনি। ওয়েইস ‘হ্যাঁ’ বলায় বিয়ে পাকা হয়ে যায়। তবে নানা কারণে অনুষ্ঠান করা যায়নি। গত ২ মাস টানা অস্থিরতার মাঝেই একপর্যায়ে বাস সার্ভিস স্বাভাবিক হওয়ার পর মুজাফরাবাদ থেকে ফাইজা এবং তার কিছু আত্মীয়স্বজন কাশ্মীরে আসেন। অবশেষে মিলিত হয় চার হাতের। আলোচিত ওই বিয়েকে কেন্দ্র করেই দুই কাশ্মিরের শান্তিপ্রিয় মানুষেরা এবার স্বপ্নে জাল বুনে চলেছেন। সূত্র : এনডিটিভি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: