সর্বশেষ আপডেট : ৩০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নেত্রী দেশে ফিরলেই কঠোর আন্দোলন: গয়েশ্বর

1457883350নিউজ ডেস্ক : বিএনপি কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি আওয়ামী লীগ বছরের পর বছর ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে যাবে। জনমনে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে অদুরদর্শিতায় দলটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। শুধু তাই নয় সাংগঠনিকভাবে তারা এখন আর শক্তিশালী কোনো দল নয়। দলটি কোনো ইস্যূ কাজে লাগাতে পারছে না। এমনকি প্রয়োজনীয় কোনো কর্মসূচী নিয়ে দাঁড়াতেও পারছে না। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নেত্রী (খালেদা জিয়া) দেশে ফেরার পর তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে নামবে।

তাদের পতন শুরু মূলত ২০০৭ সাল থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বিএনপি নেতাদের জেল-জরিমানা হয়। পালিয়ে যায় বহু ডাক সাইটের নেতা। নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে দলের মাঝারি ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগ নিরুঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। তারাও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা অব্যাহত রাখে। বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা করলে সরকার কঠোভাবে দমন করে। ফলে তারা ২০০৯ থেকে ২০০৪- এ ৫ বছর মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি প্রতিহত করার ঘোষা দিলেও আওয়ামী লীগ এক তরফাভারেব নির্বাচন করতে সক্ষম হয় এবং পুনরায় সরকার গঠন করে। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া বিএনপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যার্থ হয়ে জামাতের ইন্ধনে আগুন সন্ত্রাস শুরু করে। লাগাতার অবরোধের নামে নাশকতা ও ধ্বংসাতœক কর্মকা- চালায়। এতে দলটি ভীত আরো নড়বড়ে হয়ে যায়। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত দেশের অন্যতম রাজনৈতিক এ দলটি দিন দিন আকার ও কলেবরে ছোট হতে থাকে। এছাড়াও ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার কথিত জন্মদিনের কেককাটা এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেক রহমানের অশালিন মন্তব্য ও কটুক্তি বিএনপিকে আরো জনিবিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর কারণ হচ্ছে জাতীর জনক বঙ্গন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শকে লালন করে দেশের কোটি কোটি মানুষ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয় এমন লাখো মানুষ বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। এমনকি বিএনপিতেও লাখো নেতা-কর্মী আছেন-যারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি দুর্বল। এরা মুখে বলতে না পারলেও খালেদা জিয়ার কেককাটা ও তারেক রহমানের খিস্তিখিউরিকে ভালভাবে মেনে নিতে পারেনি।

মা ও ছেলের এই গোয়ার্তুমি বা ‘হামবড়া’ ভাব তাদের দলীয় ও ব্যক্তি ইমেজকে শুন্যে কোঠায় নামিয়ে এনেছে। ভুল হতেই পারে। কিন্তু ভুল শুধরানোর মানসিকতাও খালেদা জিয়্ াও তারেক রহমানের নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটির অনেক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বলেছেন, ওয়ান মেন শো। দলীয় স্থায়ী কমিটিতে বেশক’জন জাদরেল নেতা আছেন-যারা নেত্রীর চেয়ে অনেক সিনিয়র এবং রাজনৈতিক বোদ্ধা। তাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিলে বএিনপির এমন করুন পরিণতি হতোনা বলে ওই নেতা মনে করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মুঠোফোনে আমাদের সময় ডট কমকে বলেন, নেত্রী হজ্জ থেকে ফিরুক। দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কমিটি হওয়ার পর নেতা-কর্মীরা এখন অনেকটাই চাঙ্গা। নেত্রী আন্দোলনের ডাক দিলে এখন মাঠে নেতা-কর্মীরা নামবে। আর তা ছাড়া সরকারের জনপ্রিয়তাও অনেকটা কমে এসেছে। বিএনপি জনগণের পালস বুঝে কর্মসূচী দিবে এবং সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ৭ বছরে ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব ক্রাইসিস অতিক্রম করেছে-বিএনপি কোনো ইস্যূকে কাজে লাগাতে পারেনি। বিএনপির এ দুর্বলতায় সরকার সেসব ক্রাইসিস থেকে উতরে গেছে। সর্বশেষ জঙ্গি নিয়ে সংকটে পড়ার পড়ও কৌশলী সরকার সেটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। অনেকেই বলছেন, বিএনপির যে অবস্থা। তারা এখন বিবৃতি, প্রেস রিলিজ সর্বস্ব একটি রাজনৈতিক দল। শীর্ষ নেতৃত্বে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত বিএনপিকে দুর্বল, ভঙ্গুর পরমুখাপেখী ও মেরুদন্ডহীন রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে। যাকে থেকে ঘুরে দাড়ানো বিএনপির জন্য কঠিন- অনেক কঠিন ব্যাপার।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: