সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চামড়ার বাজারে ধস

1473970728নিউজ ডেস্ক: রংপুর, পঞ্চগড় ও নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলে পানির দামে পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

রংপুর: চামড়ার দাম অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় বেশি দামে চামড়া কিনে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনছেন রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের খুচরা ও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা না থাকায় কম দামে ও বাকিতে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি লবনের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করায় চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে আড়তদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারি মালিকের সিন্ডিকেটের কারণে ধস নেমেছে রংপুরের চামড়ার বাজারে। বাজার মূল্য কম এবং সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ জানান, কোন অবস্থায় রংপুর বিভাগের সীমান্ত দিয়ে কোন চামড়া পাচার করতে দেয়া হবে না। চামড়া পাচার রোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অপারেশন অফিসার লে. কর্নেল মো. শফিউল আলম খান জানান, চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। যে সকল রুটে চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে সেখানে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিজিবির নজরদারিসহ টহল জোরদার করা হয়েছে। চামড়া পাচার রোধে ঈদ আগ থেকে এই অভিযান চলছে। এই অভিযান ১ মাস ধরে চলবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় নগরী রংপুরের প্রধান চামড়া বাজার শাপলার চামড়াপট্টি ঘুরে দেখা যায়, চামড়াপট্টি এলাকার টার্মিনাল সড়কের পাশেই চামড়ার স্তুপ। সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখা হাজার হাজার পিস ওইসব চামড়ায় দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। নেই ক্রেতা। চামড়া বিক্রির অপেক্ষায় অলস সময় কাটাচ্ছেন মৌসুমী বেপারীরা।

রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান জানান, ঢাকার বেঙ্গল, এশিয়া, এনামসহ বেশ কয়েকটি ট্যানারি মালিকদের কাছে রংপুর বিভাগের ছোট-বড় চামড়া ব্যবসায়ীর পাওনা প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এ টাকা আদায় করতে না পারায় এবার টাকার অভাবে ব্যবসায়ীরা চামড়া ক্রয় করতে পারেনি। গত বছর কোরবানি পশুর প্রায় ৩ লাখ পিস চামড়া ক্রয় করা হলেও এবার টাকার অভাবে ১’শ ব্যবসায়ী মাত্র দেড় লাখ পিস চামড়া কিনতে পেরেছেন।

রংপুর সদর উপজেলার সাতগাড়া এলাকার খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী আলিম উদ্দিন জানান, হাজার ১২’শ থেকে ১৫’শ টাকায় চামড়া কিনে আড়তদাররা তার দাম করছেন ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা। যা গত বছরের চেয়ে অর্ধেক। গাই গরুর চামড়ার দাম ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। আর খাসি ও বকরীর চামড়ার দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা। ফলে চামড়ার বাজারে এই ধ্বস নামায় রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বগুড়া:বগুড়ায় কোরবানী ঈদে চামড়ার বাজার এর এ বছরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণই আলাদা। ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত দরের চেয়ে বগুড়ার বাজারে প্রতিবর্গফুট চামড়া প্রায় দ্বিগুণ দামে কেনা বেচা হলেও বিগত ১০ বছরের তুলনায় বাজারে চামড়ার দাম ছিল এবছরই সবচে কম কম। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের বেধে দেওয়া দামের কারণে বগুড়ার মাঠ পর্যায়ে গত বছরের চেয়ে শতকরা প্রায় ৩০ শতাংশ কমমূল্যে কেনাবেচা হয়েছে কোরবানির চামড়া। ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবার মূল্য ধসের মূল কারণ। ফলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই চামড়া মূল্যে এই ধস। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বাজার ধসের জন্য ঢাকায় ট্যানারি স্থানান্তর এবং ঈদের আগে চলতি বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দর নির্ধারণ করে দেওয়াকে দায়ি করেছেন।

বগুড়ায় চামড়ার বাজারখ্যাত বাদুড়তলা, চকসুত্রাপুর ও চকযাদু রোড় ঘুরে দেখা গেছে, ভালমানের বড় আকৃতির গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকায়, মাঝারি আকৃতির এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। আবার নিম্নমানের গরুর চামড়ার চাহিদা না থাকায় বিক্রি হয়েছে ৩শ’ থেকে মাত্র ৪ শ’ টাকায় । এ ছাড়া ছাগলের চামড়া আকৃতি ভেদে প্রতিটি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার জানান, ঢাকায় ট্যানারি স্থানান্তর, জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের টাকা ট্যানারি মালিকরা আটকে রাখা এবং লবনের বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোই এবার চামড়ার বাজার ধসের কারণ।

সৈয়দপুর (নীলফামারী):চামড়া সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে পানির দামে কোরবানির ঈদের পশুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিভিন্ন বাসাবাড়ির মানুষজন। পাঁচ হাজার হতে ১৬ হাজার টাকা মূল্যের খাসির চামড়া ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। আর ৭০ হাজার হতে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৪০০ টাকা।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা এই দামেই চামড়া কিনছেন। কেউ কেউ চামড়ার দামে মন্দা দেখে গোটা চামড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছে।

গরুর চামড়া ঢাকার বাইরে বর্গফুট প্রতি ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে এ দামে চামড়া কিনলে প্রতি পিস চামড়ার দাম হয় ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। তাতে গরুর মালিকদের কম দামে বিক্রয় করতে হয়েছে বলেও জানান খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক।

পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলায় এবার চামড়ার দাম নেই। ক্রেতা না থাকায় দাম কম বলে জানিয়েছেন কোরবানিদাতারা। সরকারিভাবে চামড়ার দাম নির্ধারণ করায় এবারে হাটবাজারগুলোতে ক্রেতাই খুঁজে পাচ্ছেন না কোরবানিদাতারা। দাম কম হলেও প্রচুর পরিমাণে চামড়া আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

হাট-বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সবচেয়ে ভালো গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায়। সাধারণ মানের গরুর চামড়ার দাম ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। বলদ বা গাই গরুর চামড়ার দাম নেই বললেই চলে। সর্বোচ্চ ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এসব চামড়া। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা দামে।

পঞ্চগড় শহরের চামড়া ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আতা, হাসিবুল ইসলাম ও উসমান গণি জানান, চামড়া সংরক্ষণের লবণের দামও বেড়ে গেছে। আবার নাটোর, ঢাকাসহ সব জায়গায় চামড়ার দামও কমে গেছে। বেশি দামে কিনে চামড়া বিক্রি করতে পারব কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় আছি। এজন্য কম দামে চামড়া কিনে মজুদ করছি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: