সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কাঠমিস্ত্রীর ছেলের সহকারী জজ হওয়ার গল্প

judgeamar_24125শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ::
দারিদ্রের কাছে মানুষ চিরকালই অসহায়। কেউ একে জয় করতে পারে, আবার কেউ এর ছোবলে বিপথগামী হয়ে পড়েন। দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করেই সমাজের উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন শেরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের সাদ্দাম হোসেন।

কঠোর অধ্যবসায় আর প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে তিনি সফলতা পেয়েছেন। তার বাবা ছিলেন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন একজন কাঠমিস্ত্রী, আর তিনি হতে যাচ্ছেন সহকারী জজ।

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মালিঝিকান্দা দেবোত্তর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী সেকান্দর আলী’র স্বপ্ন ছিল তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে ‘বড় সাহেব’ অর্থাৎ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা বানাবেন। সে লক্ষেই সেকান্দর আলীর আয়ের সিংহ ভাগ খরচ করে স্থানীয় মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল একাডেমিতে ভর্তি করেন ছেলেকে। সেখান থেকে সাদ্দাম হোসেন ২০০৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এতে সাদ্দামের বাবা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

এবার স্বপ্ন দেখেন ছেলেকে ভালো কলেজে ভর্তি করার। তার আশার প্রতিফলনে সাদ্দাম ভর্তি হন জেলা শহরের শেরপুর সরকারি কলেজে। সেখানে তিনি ২০০৯ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান।

পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে সাদ্দাম তার বাবার স্বপ্ন পুরণে আরো উদ্যমী হয়ে ওঠেন। সাদ্দামের কঠোর পরিশ্রমের ফলে ওই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। বাবা সেকান্দর আলীর স্বপ্নটা আরো বাস্তবতার দিকে এগোয়।

তবে সাদ্দামের বাবার জানা ছিল না উচ্চ শিক্ষার খরচ কেমন। সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর বুঝতে পারলেন। তবে হাল ছাড়েননি সেকান্দর আলী। নির্ভীক আত্ম প্রত্যয়ী বাবা সাহস হারাননি।

ছেলেকে তিনি বুঝাতেন আর বলতেন, ‘বাবা তোমার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনে আমার শেষ রক্ত বিন্দু দিতেও রাজি আছি, তবুও তুমি হাল ছাড়বে না। ভালো করে পড়াশোনা করো। টাকার চিন্তা করো না, আমি আছি, প্রয়োজনে সব জমি বেঁচে দেব, তবুও তোমাকে পড়াশোনা করতে হবে।’

বাবার এমন প্রতিজ্ঞার কথা চিন্তা করে সাদ্দামের উদ্দম আরো বেড়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সাদ্দাম সংকল্প করেন তাকে এ পথ যেভাবেই হোক যতো কষ্টই হোক পাড়ি দিতে হবে।

সাদ্দামের বাবার স্বপ্ন যখন প্রসারিত হতে থাকে ঠিক তখনই সাদ্দামের পড়াশোনার খরচের তালিকাও বড় হতে থাকে। সাদ্দামের বাবার একমাত্র সম্বল ৫০ শতক জমির দিকে হাত বাড়ান। ছেলেকে যে করেই হোক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজের অক্ষর জ্ঞানের শূন্যতা পূরণ করতে চান তিনি। তার ছেলেকে বড় সাহেব বানাতেই হবে। তাই জমি বিক্রি করে ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করা শুরু করেন।

প্রথম শ্রেণিতে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হন সাদ্দাম। এদিকে বাবার এক খন্ড ভিটে-বাড়িটি ছাড়া সব জমি বিক্রি করা শেষ হয়ে যায়।

সাদ্দামের অনার্স পরীক্ষা চলাকালে ২০১৩ সালে তার বাবা সেকান্দর আলী মারা যান। মাস্টার্সে পড়াশোনার সময় সাদ্দাম আবারো অর্থ সংকটে পড়েন। তবে নানা জনের সহযোগীতা নিয়ে সাদ্দাম তা কাটিয়ে ওঠেন।

একদিকে বাবার স্বপ্ন পুরণ অন্যদিকে অভাবের হাতছানি দুইয়ের সঙ্গে লড়াই করে সাদ্দাম এগিয়ে যান।

বাবার মৃত্যুর কিছুদিন পর সাদ্দামের সামনে সহকারী জজ পদে চাকুরির সুযোগ এল। এতে তিনি অংশ গ্রহণ নিয়ে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন বেশ ভালো ভাবেই। বর্তমানে তিনি সহকারী জজ (সুপারিশ কৃত) হিসেবে পেষ্টিংয়ের অপেক্ষায় আছেন।

তবে সাদ্দামের বড় আফসোস নিজের আয়ের টাকায় বাবাকে দু’মোটো খাইয়ে দিতে পারেননি।

সাদ্দাম বলেন, আমার বাবার অক্ষর জ্ঞান না থাকলেও একমাত্র তার অনুপ্রেরণায় আমি ভালো ছাত্র হতে পেরেছি। আমি মনে করি অভাব কোন বিষয় নয়, মনের ইচ্ছা শক্তি থাকলে অভাব নিয়েও ভালো ফলাফল করা যায় এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। তবে আমার বাবা মতো দেশের সকল অভাবী বাবার যদি সন্তানদের লেখা-পড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকে তবে কোন গরীব ঘরের সন্তানই পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে থাকবে না।

মোদ্দাকথা, ‘কথা ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়’।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: