সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে চাঁদের আলোয় শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ

14344732_1759747287600118_232245278567093796_nশ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা: শ্রীমঙ্গল ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পানিতে দাড়িয়ে গানে গানে সিলেটের প্রখ্যাত বাউল সম্র্রাট শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ করেছে শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিল্পীরা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন করতে চাঁদের আলোয় পানির উপরে দাড়িয়ে আয়োজন করা হয় গানে গানে শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ ও আলোচনা সভার।
শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লন্ডন প্রবাসী মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক রজত শুভ্র চক্রবর্তী, ফারিয়া সভাপতি দেবব্রত দত্ত হাবুল, সঞ্জয় কুমার দে, সাংবাদিক সুমন বৈদ্য, বিক্রমজিৎ বর্ধণ, কাউছার আহমদ রিয়ন, শিমুল তরফদার, তোফায়েল আহমদ, অরবিন্দ দেব, তানিসা চৌধুরী, রিজভী আহমদ ও তুর্য পাল প্রমূখ।

সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব শ্যামল আচার্য্যের পরিচালনায় গানে গানে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন প্রান্থ আচার্য্য, সজল ঘোষ ও সুমন দাশসহ শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিল্পীরা।

সভায় বক্তারা বলেন, ভাটি বাংলার মানুষের প্রাণের স্পন্দন ছিলেন শাহ্ আব্দুল করিম। তাদের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসা আর বিনোদনের পাশাপাশি তার গান কথা বলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনের। সকল অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর জাগতিক জড়তা বিরূদ্ধে। এসময় আয়োজকরা আরো জানান, বাউল আব্দুল কমির ভাটি বাংলার মানুষ। তিনি ভালোবাসতেন কালনী নদীকে। বর্ষায় নৌকায় বসেই গান ধরতেন। তাই শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ী ছড়ায় নেমে চাঁদের আলোয় এই গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা। অনুষ্টানে কুশিলব ও দর্শক শ্রোতা সবাই পানিতে দাড়িয়ে তা উপভোগ করেন।
সম্প্রতি সময়ে শত শত শিল্পী তার গানের মাধ্যমে এ্যালবাম বের করে জনপ্রিয় হয়েছেন।

জীবন সংগ্রামী শাহ আব্দুল করিম দারিদ্রের কষাঘাতে ঘর্ষন খেতে খেতে প্রায় নিস্পেশিত ছিলেন। তবুও মানুষেরে তিনি দিয়ে গেছেন জীবন ভাবনার দর্শন। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের সংসার ও জাগতিক মায়ায় আবদ্ধ থাকি। নিজের জীবনকে নিয়ে, জগতকে নিয়ে ভাবনার বা পরপারের সঞ্চয়ের চিন্তা থেকে আমরা আজ আনেক দুরে। আর এই দুরত্ব কমানোর বিশাল কাজটুকু করে গেছেন আধ্যাতিক বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিম। জীবদশায় তিনি রচনা ও সুর দিয়ে গেছেন হাজার হাজার গানের। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার গান ও গানের সুর সংরক্ষিত হয়েছে। ভাটি বাংলার মানুষের মুখে মুখে আজো তার অ সংরক্ষিত গান শুনা যায়। তার উল্লেখযোগ্য গান হলো, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, বন্দে মায়া লাগাইছে, ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূর পংকী নাও।

বাউল শাহ আবদুল করিমের বেশ কিছু গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আফতাব সঙ্গীত (১৯৪৮), গণ সঙ্গীত (১৯৫৭), কালনীর ঢেউ (১৯৮১), ধলমেলা (১৯৯০), ভাটির চিঠি (১৯৯৮), কালনীর কূলে (২০০১), শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র (২০০৯)। এ ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে তার রচনা সমগ্র “অমনিবাস” ও সাংবাদিক ও গবেষক সুমন দাশ সম্পাদিত “শাহ্ আব্দুল করিম স্মারক গ্রন্থ”।
তার এ কর্মের মুলায়ন হিসেবে রাষ্টের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদকসহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইব্রাহীম আলী ও মাতার নাম নাইওরজান। বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু করেন ছেলেবেলা থেকেই। তাঁর প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। যাকে তিনি ‘সরলা’ নামে ডাকতেন।

বিভিন্ন লেখকের লেখা থেকে জানাযায়, তিনি তার গানের অনুপ্রেরনা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শন থেকে। যদিও দারিদ্রতা তাকে বাধ্য করে কৃষিকাজ করতে। কিন্তু দারিদ্রের শতকষাঘাত তাকে গান সৃষ্টি থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি আধ্যাতিœক ও বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেন কামাল উদ্দীন, সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকস এর কাছ থেকে। তিনি একই সাথে শরীয়তী, মারফতি, নবুয়ত, বেলায়া সহ সবধরনের বাউল গান এবং সংগীতের অন্যান্য ধারারও চর্চা করেছেন।

খ্যাতিমান মানবভাবুক এই বাউল সম্রাট শাহ্ আবদুল করিম ২০০৯খ্রি.র ১২ই সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের একটি ক্লিনিকে মৃত্যু বরণ করেন।
বাউল শাহ আব্দুল করিম এ সমাজের জন্য অসংখ্য কৃর্তি রেখে গেলেও তার এ স্মৃতি সংরক্ষনে হিমসীম খাচ্ছেন তার একমাত্র পুত্র বাউল সাধক নূর জালাল। তিনি হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান রেখে গেলেও আজও বাঁশের বেড়ায় আবৃত্ত তার সমাধি। সল্প পরিসরে পড়ে আছে তার ব্যবহৃত সামগ্রী। তাঁর সমাধি ও স্মৃতি সংরক্ষনে একটি যাদুঘর স্থাপনে প্রয়োজনীতা উপলব্দি করলেও এখনও সে ভাবে কেউই এগিয়ে যাননি। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারের সহায়তা। নূর জালাল নিজেও আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: