সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারবাসীর অতি আপনজন মায়ার  প্রানপ্রিয় নেতা সৈয়দ মহসীন আলী

unnamedসেলিম আহমেদ, সৌদি আরব:: সদ্য প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার তথা সিলেট বিভাগের এক ক্ষনজন্মা পুরুষ বীরমুক্তিযোদ্ধা সমাজসেবক রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধি। বহুগুনে গুনান্বিত প্রয়াত সৈয়দ মহসীন আলী কে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাহিরে বিদেশের বিভিন্ন দেশে তার স্মরণে শোক সভা করে স্মরণ করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তাকে স্মরণ করেছে সারা বাঙ্গালী জাতি। কারন তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি কর্মজীবনে মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

তিনি একাধারে তিনবার মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান পুননির্বাচিত হয়েছিলেন। পৌরবাসীর অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারতেন বিধায় পৌরবাসী তাকে বারবার পৌর পিতা নির্বাচিত করতেন। তিনি মনে প্রানে একজন আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। যার ফলে তিনি মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির ব্যাপারে তাকে কখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগতে দেখা যায়নি। তিনি যেটা সঠিক মনে করতেন সেই সিদ্ধান্তে তিনি অটল থাকতেন সবসময়। এমন সময় গেছে বিএনপি সরকার তাকে অনেক প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। তিনি সেই ফাদে পা দেননি। বরং সকল লোভ লালসাকে পদদলিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে লালন করে গেছেন সারাজীবন. যখন মৌলভীবাজার -৩ আসন তথা সদর ও রাজনগর নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতিক নিয়ে বারবার পরাজয় বরন করেছিল। তখন তিনি জয়লাভের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিএনপির ডাক সাইটের নেতা সাবেক অর্থ মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে সংসদ নির্বাচন করে দলকে বিজয়ী করতে এগিয়ে এসেছিলেন।

তখন অবশ্য অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তিনি এম সাইফুর রহমানের বিপক্ষে দাড়িয়ে জয়লাভ করতে পারবেন। কিন্তু সৈয়দ মহসীন আলী সকল জল্পনা কল্পনাকে ধূলোয় মিশিয়ে প্রমাণ করলেন। সৎ আদর্শের শক্তিতে সবকিছু অর্জন করা সম্ভবপর। তারপর সাংসদ হিসেবে বিজয়ী হয়ে তিনি পৌর পিতা থেকে জাতীয় নেতা হিসেবে আবিভুত হলেন। প্রথম বার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে দলের জন্য মনে প্রানে কাজ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার মনকে নাড়া দিতে সক্ষম হলেন। তিনি পরের বার বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় সাংসদ নির্বাচিত হয়ে পৌঁছে গেলেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন। এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব অর্পন করলেন। ধাপে ধাপে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে দেশের সমাজকল্যাণে দেশকে অগ্রগতি করতে নিরলসভাবে কাজ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে শুরু হলো পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন রকমের লেখালেখি। যেটা হয়তো এতোটা লেখা দরকার ছিলনা। তাকে মন্ত্রীত্ব থেকে অবসারনের দাবিও উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সবকিছু কে উপেক্ষা করে সৈয়দ মহসীন আলী তার নিজস্ব ট্রাইলে রাজনীতি করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আস্তে আস্তে সব লেখালেখি বন্ধ হতে লাগলো। তার মানব সেবায়। যে অবদান রাখছিলেন সেদিকে কোন প্রকার নজর রাখলেন না কোন প্রচার মাধ্যম। তিনি অনেক অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। সাহায্য সহযোগিতা করেছেন সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষকে। এমনকি তার ঢাকার বাড়ি সমাজের দুস্থদের চিকিৎসা সেবায় দান করে গেছেন। তার এই মানবিক কর্মকান্ড প্রচার মাধ্যমের অগোচরেই চালিয়ে গেছেন। কখনো তিনি এসবের ব্যাপারে ডাক ঢোল পেটানোর দরকার মনে করেননি। তিনি আমাদের কে অনেক কিছু শিখিয়ে গেছেন। তার বাসভবন ছিল দুস্থদের একধরনের আবাসস্হল।

সবচেয়ে যে জিনিসটি গুরুত্বপুর্ন তাহল তার বাসায় যেতে কখনো অনুমতির প্রয়োজন হতো না। যে কেউ যে কোন সময় তার সাথে দেখা করার সুযোগ পেতেন। এরকম দৃষ্টান্ত বর্তমানে খুবই বিরল। মন্ত্রী হলে অনেকেই জীবনের ছন্দ পরিবর্তন করে নেন। কিন্তু সৈয়দ মহসীন আলী ছিলেন এ ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয়। যেমন ছিলেন পৌর মেয়র তেমনি ছিলেন মন্ত্রী হিসেবে। আজন্ম তিনি ছিলেন গনমানুষের সাথে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়ানো। একজন সত্যিকারের জননেতা। সৈয়দ মহসীন আলীর মতো এমন মানবতাবান্ধব কোন নেতার আর এ সমাজে জন্ম হবে কিনা তা বলা সহজনয়। তিনি চলে গেছেন এই ভাবজগত্ ছেড়ে। সকল কিছুকে ইতিজানিয়ে। কিন্তু তার অমরকীর্তি চিরদিন থাকবে মৌলভীবাজার বাসীর হৃদয়ের গভীরে। তিনি যে মৌলভীবাজার বাসীর অতি আপনজন মায়ার একজন প্রানপ্রিয় নেতা ছিলেন তা দেখেছে সবাই তার জানাজার নামাজে অসংখ্য মানুষের সমাগমের মাধ্যমে। তার এই চলে যাওয়ায় দলের এবং এলাকায় যে শুন্যতা তৈরী হয়েছে। তা হয়তো কোন দিনও পুরন হবেনা। কিন্তু হয়তো তার রেখে যাওয়া কীর্তি থেকে কেউ না কেউ শিক্ষা নিয়ে আগামীতে আরেকজন রাজনীতিক জনপ্রতিনিধি সৈয়দ মহসীন আলীর জন্ম হবে। এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। আল্লাহ তাহালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: