সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের পর্যটকদের জন্য অপেক্ষায় ‘মায়াবন’

1-daily-sylhet-0-7ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::  বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, জাফলং আর রাতারগুলকে ছাড়িয়ে এখন পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করছে জুগিরকান্দি ‘মায়াবন’। মায়াবনের চারদিকে অথৈ পানিতে ভাসমান মন ভুলানো সবুজ প্রকৃতি। এখানে নেই কোনো কোলাহল, আছে শুধু পশু-পাখির ডাক। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাসে জলাভূমির ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ে গাছের সঙ্গে। হিরন্ময় নীরবতার মাঝে সেসব শব্দে পর্যটকদের মুগ্ধ করছে মায়াবন ।
জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজল, জাম, বরুন, করচ গাছের বিশাল এক জঙ্গল। এতোই ঘন জঙ্গল যে ভেতরের দিকটায় সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুঁতে পারে না।

মেঘ-পাহাড়ের দেশ সিলেট। আর সিলেটকে দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে সীমান্ত উপজেলা গোয়াইনঘাটের নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট।

666-600x403গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নে জুগিরকান্দি হাওরে অবস্থিত এ নয়নাভিরাম বনের নাম স্থানীয়ভাবে দেয়া হয়েছে ‘মায়াবন’ । প্রায় ১ হাজার একর ভূমি জুড়ে বিস্তির্ণ এ বন তার রূপের মায়াবী ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করছে। মায়াবনের নিবিড় প্রকৃতি মনকে নিয়ে যায় রূপকথার অজানা দেশে। যেখানে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসতে মন চায় না। ডাহুক, ঘুঘু, সারি, দোয়েল-শ্যামাসহ নাম না জানা অসংখ্য প্রজাতির পাখির কূজনে বিমোহিত প্রাণ বনের গভীর থেকে গভীরে হারিয়ে যাবার বাসনা যোগায়। স্বচ্ছ-স্নিগ্ধ পানির উপরে পতিত বৃক্ষের জল ছবিতে পানসির দোলানো ছোট ছোট ঢেঁউ যেন চতুর্দর্শী নর্তকির নৃত্যাভিনয়। ভ্রমণ প্রিয় ব্যক্তি মাত্রই এমন বনে ঘোরে আসতে মন চাইবে। এছাড়া এখানে রয়েছে জলের উপর ভাসমান সারি সারি হিজল ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি। বনের দক্ষিণ পাশ ঘিরে রয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে কাশবন। বনের দক্ষিণ পাশে রয়েছে সারী-গোয়াইনঘাট পাকা সড়ক, উত্তরে রয়েছে সারী ও পিয়াইন নদীর মিলনস্থল। পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল বিলের মধ্যে শাপলা ও পদ্ম ফুলের সমারোহ। পশ্চিম দিকে রয়েছে দেশের অন্যতম মূর্তা বাগান।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক হয়ে ৩৭ কি:মি: অতিক্রম করার পর সারীঘাট হয়ে যেতে হয় মায়াবনে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়কে দিয়ে, সারীঘাট থেকে ৮ কি:মি: অতিক্রম করে বেখরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রা বিরতি করতে হয়। এখান থেকে ভাড়ায় চালিত পানসিতে (ছোট নৌকা) চড়ে বেখরা খাল হয়ে, খালের দু’তীর জুড়ে শ্যামল চাদরে আবৃত লোকায়ত বাংলার রূপ দেখতে দেখতে মিনিট দশেকের মাথায় প্রবেশ করতে হয় মায়াবনে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, বাংলাদেশের মধ্যে গোয়াইনঘাট একটি পর্যটন উপজেলা। উপজেলার অন্যান্য পর্যটনস্পটের মত মায়াবনও পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।

মায়াবনের গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর পাখি। মায়াবনে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। ভরা বর্ষায় এই জলাভূমির যৌবনে পূর্ণতা পায়। ছোট ডিঙি নৌকায় বৈঠা বেয়ে বনের ভেতর যেতেই কানে আসবে পাখির কল-কাকলি, জলের কলকল শব্দ।

এখানে আছে মাছরাঙা, বিভিন্ন প্রজাতির বক, ঘুঘু, ফিঙে, বালিহাঁস, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে বানর, উদবিড়াল, কাঠবিড়ালি, মেছোবাঘ ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রজাতির গুঁইসাপ ও নানা ধরণের সাপের অভয়াশ্রমও এই বনে রয়েছে।
মায়াবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই নি:শব্দে যেতে হবে। কোনো রকম শোর-গোল, চিৎকার, চেচামেচি করলে এর প্রকৃত সৌন্দর্য কোন ভাবেই উপভোগ্য হবে না। নি:শব্দে ঘুরলে পানির ভেতর অবস্থিত এই বনের ঘুঘুর ডাক, বানরের লাফালাফি দেখা যায়। এটাই মায়াবনের সৌন্দর্য।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: