সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘শহর ফাঁকা, তাই পকেটও ফাঁকা’

1-daily-sylhet-0-8জীবন পাল::চলছে ঈদের ছুটি, চলছে ঈদ উৎসব। সেই সাথে চলছে উৎসব আমেজে কাটানো মূহুর্ত। যার কারনে ছুটে যাওয়া আপন মানুষদের কাছে। কেননা, আপন মানুষদের সাথে ঈদ কাটানোর আনন্দের অনুভূতিটায় অন্য রকম। খুব একটা বিশেষ কারণ ছাড়া কেউ ঈদের ছুটিটাকে আপন মানুষের সাথে কাটানোর সুযোগটা হাতছাড়া করেনা বা করতে চাইনা। ঈদের সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে আপন মানুষের টানে শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটে গেছে ঈট-কাঠের শহরের কর্মব্যস্ত মানুষগুলো। যার ফলে শহরগুলো আজ এক প্রকার নিস্ব হয়ে একাকিত্বতার আঙ্গিকে অতিবাহিত করছে সময়। একই ভাবে অতিবাহিত হচ্ছে শহরে থেকে যাওয়া মানুষগুলোর।

শহর ঘুরে এরকম চিত্রই চোখে পড়লো ব্যস্ততম নগরী সিলেটের ব্যস্ততম কিছু পয়েন্ট ও রাস্তায়। ব্যস্ততম অলিগলির চিত্রই ছিল একই রকম। নগরীর অতি ব্যস্ততম পয়েন্ট হিসেবে সিলেট নগরীর সকলের কাজেই অত্যন্ত সুপরিচিত জিন্দাবাজার পয়েন্ট। যেখানে একদিকে যেমন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থাকে কর্মব্যস্ত মানুষের ছুটাছুটি অন্যদিকে যানজটের জটলাটাও থাকে নজরকাড়ার মতই। যে যানজটটা পর্যায়ক্রমে নগরীর যানজটের উদাহরণে পরিনত হয়ে গেছে।

সেই যানজটপূর্ণ জিন্দাবাজার পয়েন্ট আজ একবারেই যানজটমুক্ত। কোলাহলের বদলে এই পয়েন্ট আজ শহরবাসীকে করে দিয়েছে স্বস্থিতে চলাফেলা করার সুযোগ। রাস্তায় কয়েকটা রিক্সা ছাড়া তেমন একটা যান চলাচল করতে দেখা যাচ্ছেনা। অমাবস্যার চাঁদের মত এক,দুটি সিএনজিকে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টার অভিমুখে যাওয়া রিক্সা চালক নূর মিয়া’র কাছে ফাঁকা শহরে রিক্সা চালানোর অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাঁকা শহরে রিক্সা চালাতে ভাল লাগেনা। রাস্তায় মানুষজন নেই। সবাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে চলে গেছে। যার কারণে রিক্সা থাকলেও রিক্সা চড়ার মানুষ নেই। আগে যেখানে ২ ঘন্টায় দুই থেকে আড়াইশো টাকা ইনকাম করা যেত সেখানে আজকে দুই ঘন্টায় ইনকাম করেছি মাত্র ৬০ টাকা। তাছাড়া আগের তুলনায় ঈদের ছুটিতে নগরীতে থেকে যাওয়া রিক্সা চালকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। তাই তেমন একটা টিপ পাওয়া যাচ্ছেনা। নগরীতে ১০ বছর ধরে রিক্সা চালানোর অভিজ্ঞতা নূর মিয়া’র।img_20160914_101333

ফাঁকা শহরের অনুভূতিতে জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে অদূরে দাড়িয়ে থাকা সিলেট শহরে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সিএনজি চালক রমজান আলী বলেন, যানজটে জায়গায় জায়গায় গাড়ি ব্রেক করতে হতো, যা এখন এই ফাঁকা শহরে প্রয়োজন হয়না। যদিও যাত্রী তুলনামূলক ভাবে কম, তবুও বলবো ফাঁকা শহরে গাড়ি চালাতে ভালই লাগছে।

আজিজুল হক নামে অপর এক সিএনজি চালক বলেন, আসলে সিলেট শহরে বাইরের মানুষ বেশি । যেমন গোয়লাবাজার, তাজপুর এলাকার মানুষ সিলেট নগরীতে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করলেও ঈদের ছুটিতে যে যার নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সকলের সাথে ঈদ উৎসব উদযাপন করতে পছন্দ করে থাকেন। সবাইকে নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওযার কারণে নগরী প্রতি ঈদেই এরকম ফাঁকা হয়ে যায়। এই চিত্রটা থাকবে আরো ৩ থেকে ৪ দিন। তারপর নগরী আবার তার পূর্বের চেহারায় ফিরে পাবে।img_20160914_102839

তাছাড়া ফাঁকা শহরের অনুভূতি বলতে আমি বলবো, শহর ফাঁকা মানেই আমাদের পকেট ফাঁকা । প্রতিদিন যেখানে ২ থেকে ৩ টা টিপ পাওয়া যেত সেখানে আজ দুপুর পর্যন্ত একটাও টিপ মিলাতে পারিনি।

রাস্তার পাশের পান দোকানদার মো: আব্দুল বলেন, ব্যস্ত নগরীই ভাল লাগে। কেননা, ব্যস্ততার মধ্যেই আমাদের কেনাবেচা। আমাদের পেট চালানো। নগরীতে মানুষ নেই, তাই বেচাকেনাও নেই। আশা করি এরকম আরো ৩, ৪ দিন কাটাতে হবে।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে সবাই শহরে ফিরলে সব কিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবেবলে তিনি জানান।img_20160914_102133

নগরীর ব্যস্ততম পাঁচভাই রেষ্টুরেন্ট সংলগ্ন রাস্তা দাড়িয়াপাড়ার গলির চিত্রটাও ছিল একদম ফাঁকা। অথচ যে গলিতে জটলা বাধিয়ে থাকে রিক্ষা চালকরা।
ফাঁকা শহরের নিয়ে এরকম অনূভুতি ছিল অনেকরই। তবে ব্যস্ততম নগরীই নগরীর প্রকৃত চেহারা বলে বেশির ভাগ মানুষের অভিমত।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: