সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দক্ষিণ সুদান : হরিলুটের অর্থনীতির দেশ

south-sudan-550x309আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ সুদান একটি নতুন দেশ। এক সময়ের সুদানের দক্ষিণাঞ্চল। এই ভূখ- দু’বার রক্তক্ষয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একবার সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভের সময় আর একবার গৃহযুদ্ধের কালে। একটু বাড়িয়ে বললে, স্বাধীন দেশের ক্ষমতা ভাগাভাগিতে বনিবনা না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যকার সংঘাত পর্বে যেমন রক্তপাত হয়েছে তেমনি হয়েছে সম্পদের লুটপাট।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দক্ষিণ সুদানের অর্থনীতিকে ক্লিপটোম্যানিয়াক ইকোনোমি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লিপটোম্যানিয়াক ইকোনোমি’র ভাষান্তর দুষ্কর। তবে বাংলায় একটা প্রচলিত শব্দবন্ধ ব্যবহৃত হয়- লুটপাটের অর্থনীতি। আরও একটি শব্দ আছে হরিলুট। দক্ষিন সুদানের বেলায় হরিলুটের অথনীতি বলাটাই শ্রেয়। দক্ষিন সুদানে যখন রক্ত ঝরছে তখন দেশটির রাজনীতিক ও সামরিক নেতারা সম্পদের পাহাড় গড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা খির এবং বিরোধী নেতা রিক মাচার আর সামরিক কমান্ডাররা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ সুদানে শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যাপক অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজেও নিয়োজিত। যদিও তারা সম্মানজনক বেতন পেয়ে থাকেন। কেউ কেউ প্রশ্নবিদ্ধ বানিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। কেউ কেউ ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগে অভিযুক্ত।

প্রেসিডেস্ট খির ডিনকা গোত্রের লোক, আর ভাইসপ্রেসিডেন্ট মাচার নুয়ের গোত্রের। স্বাধীন দক্ষিণ সুদাসে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে ২০১৩ সলের ডিসেম্বরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এসময় ব্যাপক হত্যাকা- হয়। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে। উভয় পক্ষই গণধর্ষণকে যুদ্ধের একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। কম-বেশি ২৫ লাখ মানুষকে জোর করে উদ্বাস্তু করা হয়। এদের অর্ধেকই খাদ্য সংকটে পড়ে। দুপক্ষের মধ্যে শান্তি উদ্যোগ ভেস্তে গেলে ওই বছর জুলাই মাসে রাজধানী জুবার পথে পথে সংঘর্ষ শুরু হয়। আর এতে করে এই সংকটের আশু সমাধান সুদুর পরাহত হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই যুদ্ধ ছিলো, দেশের সম্পদের ওপর একটি চোরের দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই। প্রতিবেদনে বলা হয়, খিরের স্ত্রী ও তার সন্তানদের সাতজন বড় বড় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রমাণ আছে যে, খিরের ১২ বছরের ছেলে একটি কোম্পানির ২৫ শতাংশেন মালিক। তার শ্যালক জেনারেল গ্রেগরি ভাসিলের একটি কোম্পানি আছে। এই কোম্পানি সামরিক বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করে। প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট খির ও জেনারেল ভাসিলের মধ্যকার সম্পর্কের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। বলেছে এই দুই পরিবার দু’ডজনেরও বেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের নিয়ন্ত্রণ সকল ক্ষেত্রে। বিমান পরিবহণ থেকে ব্যাংক, তেল ক্ষেত্র, খনি হয়ে ক্যাসিনো ব্যবসায় পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত। দক্ষিণ সুদাসের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে হাতে গোনা কয়েক জন।

ভাইসপ্রেসিডেন্ট মাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ একটি ইউক্রেনীয় কোম্পানির সঙ্গে তার ব্যবসা বা চুক্তি অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যস্থতা করেছে একটি রুশ কোম্পানি, যার সঙ্গে আরো অনেকে যুক্ত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় মাচার গৃহযুদ্বের সময় অস্ত্র সংগ্রহ করার জন্য দেশের তেল সম্পদ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাইয়ের ছেলে দক্ষিণ সুদানে কর্মরত একটি সিকিউরিটি কোম্পানি জোর করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

প্রতিবেদনে যে রাজনীতিক ও সামরিক কমান্ডারদের যে সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রাসাদোপম বাড়ি। নাইরোবির অভিযাত পাড়ায় খির এবং মাচার দু’জনেরই বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে।
শীর্ষ জেনারেলরা দেশ থেকে টাকা পাচারের সঙ্গে যুক্ত। সেনাপ্রধান জেনারেল মালঙ আওয়ান-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি প্রেসিডেন্ট খির-এর ব্যবসার অংশিদার। দুই পরিবারের রয়েছে প্রাসাদোপম বাড়ি। এছাড়া জেনারেল মালেক রেউবেন রিয়াক ও জেনারেল জোক রিয়াক লাখ লাখ ডলার দেশের বাইরে পাচার করেছে। অথচ তাদের বার্ষিক বেতন ৫০ হাজার ডলার।
দক্ষিণ সুদানে একটি বহুজাতিক শান্তি মিশনের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
সূত্র : বিবিসি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: