সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিচার, রোবোটও বর্ণবাদী!

mujta-aiতথ্য প্রযুক্ত ডেস্ক: প্রথমবারের মতো সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এআই) তথা রোবোট। কিন্তু প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশের পর তা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কারণ রোবোট কালো চামড়ার সুন্দরীদের পছন্দ করেনি।
প্রতিযোগিতায় সুন্দরীশ্রেষ্ঠাদের বাছাই করার জন্য মুখম-লের সৌষ্ঠব এবং ত্বকের মসৃনতার মতো বাস্তব বিষয়গুলো ব্যবহারের কথা ছিলো।

চলতি বছর বিউটি.এআই নামে একটি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরী প্রতিযোগিতার সূচনা করা হলে ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশসহ ১০০টিরও বেশি দেশের প্রায় ছয় হাজার প্রতিযোগী তাদের ছবি পাঠান। কিন্তু দেখা গেছে, জটিল অ্যালগোরিদম বা গাণিতিক পরিভাষায় তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অশ্বেতাঙ্গদের পছন্দ করেনি।
৪৪জনকে বিজয়ী হিসাবে বাছাই করা হলেও তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলো শ্বেতাঙ্গ। মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন এশীয় প্রতিযোগী থাকলেও কৃষ্ণাঙ্গ ছিলো মাত্র একজন।

অ্যালগোরিদম কীভাবে পক্ষপাতিত্বের ধারা জিইয়ে রাখে এবং অনিচ্ছাকৃত অথচ প্রায়শ আক্রমণাত্মক ফলাফল প্রকাশ করে সেই প্রক্রিয়া নিয়েই বিতর্ক উস্কে উঠেছে।

গত মার্চ মাসে মাইক্রোসফ্ট যখন ‘মিলেনিয়াল’ নামের চ্যাটবোট (এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ইন্টারনেটে মানুষের সঙ্গে চ্যাট করতে পারে) প্রকাশ করে তখন থেকেই এটি বর্ণবৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহার করতে এবং টুইটারে নব্য-নাৎসি দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে শুরু করে। আবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের নিউজ ফিডে বিকৃত সংবাদ সম্পাদনাকারী মানুষদের সরিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালগোরিদম সেখানে নানা রকম ভুয়া ও অরুচিকর সংবাদ সরবরাহ করতে শুরু করে।
এদিকে কথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে যখন হাস্যরস ও কৌতুকের সৃষ্টি হয়েছে তখন কম্পিউটার সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোটেও হাসির বিষয় নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি অশ্বেতাঙ্গ মানুষদের জন্য পক্ষপাতদুষ্ট ফলাফল দেখাতেই পারে।

ইয়ুথ ল্যাবরেটরিজ নামের একটি সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের গ্রুপ বিউটি.এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মাইক্রোসফ্ট এর পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। গ্রুপটি সৌন্দর্য বিশ্লেষণকারী অ্যালগোরিদম তৈরির জন্য সুন্দরীদের ছবি সংবলিত বিপুল তথ্যভা-ারের উপর নির্ভর করেছিলো। বিউটি.এআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যালেক্স ঝাভোরনকভ বলেন, অ্যালগোরিদমের শ্বেতাঙ্গ সুন্দরীদের প্রাধান্য দেয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। মূল সমস্যা যেটা হয়েছে সেটা হলো, আকর্ষণীয় চেহারা বাছাইয়ের মান নির্ধারণের জন্য প্রকল্পে যেসব তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে সংখ্যালঘুদের (অশ্বেতাঙ্গ) সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য দেয়া হয়নি।
যদিও গ্রুপটি সাদা চামড়াকেই সৌন্দর্যের লক্ষণ হিসাবে চিহ্নিত করার মতো করে অ্যালগোরিদমকে তৈরি করেননি তবু তাকে যে ইনপুট দেয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে রোবোট বিচারকেরা কার্যকরভাবেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

ক্রমবর্ধমান হারে যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল ‘পূর্বাভাসমূলক পুলিশি ব্যবস্থা’ সম্পর্কে গবেষণাকারী কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রাজনীতি বিজ্ঞানের প্রফেসর বার্নার্ড হারকোর্ট বলেন, বিউটি.এআই-এর প্রতিযোগিতার ফলাফল সমস্যার যথাযথ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সৌন্দর্যের ধারণা সম্পর্কে সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি আদর্শ তৈরি করা সত্যিই চমকপ্রদ বিষয়। তিনি বলেন, আসলে মানুষ যা চিন্তা করতে পারে ঠিক তাই করছে, এমনকি যখন বলা হচ্ছে যে এটা অ্যালগোরিদম করছে তখনও।
ঝাভোরনকভ অবশ্য বলেছেন যে, আগামী শরতে বিউটি.এআই যখন আরেকটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে তখন বৈষম্যমূলক ফলাফল যাতে না দেখায় সেজন্য অ্যালগোরিদমে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।
সূত্র : ইন্টারনেট

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: