সর্বশেষ আপডেট : ৩৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের ৫ জনের দাফন সম্পন্ন

1-daily-sylhet-0-15নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ড নিহত ছয় সিলেটির মধ্যে সোমবার পাঁচজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একজনের মরদেহের সন্ধান এখনও মেলেনি বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন- গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের সুন্দিশাইল গ্রামের মজর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫০), তমজিদ আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (৪৮), মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে ওয়ালী হোসেন কুটি মিয়া (৩২), একই এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে এনামুল হক এনাম (৩৫), কানিশাইল গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে রেজওয়ান আহমদ (৩৩) ও নগরীর শিবগঞ্জ সোনারপাড়ার মাহতাবুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (২৭)।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থেকে সাংবাদিক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী জানান, সোমবার সুন্দিশাইল গ্রামে নিহত চারজনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানাজায় উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ নাজমুল ইসলাম এবং পৌর মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার সকালে নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে গোলাপগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
নিহত মিজানের বাড়ি সিলেট সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন বলেন, ‘মিজান ওই কারখানায় মেশিনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিল। সোমবার সকাল ১১টায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।’
এদিকে, কারখানায় নিহত ওই ছয় জনের পরিবারে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। স্বজন হারানোর শোকে তারা মুহ্যমান।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্প নগরীর টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণে সিলেটের ছয়জন মারা যান। কারখানার মালিক ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের বাড়িও সুন্দিশাইল গ্রামে। গ্রামের লোকজনকে তিনিই তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন।
সুন্দিশাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রাম যেন শোকে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। নিহতদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাচ্ছেন। প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে ফোন করে তাদের দুর্ঘটনার সংবাদটি জানিয়ে বলা হয়েছিল, এটাই তাদের জীবনের শেষ সময়। অনেকেই আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শেষ বিদায় নিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই আত্মীয়-স্বজনরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আর উত্তর পাননি।

কারখানার মালিক ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের বাড়িও সুন্দিশাইল গ্রামে। গ্রামের লোকজনকে তিনিই তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন।
নিহত রেদওয়ানের সহোদর মো. শানু মিয়া জানান, তার ভাই ওই ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। এখনও তার মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে না। সাত ভাইয়ের মধ্যে রেদওয়ানের অবস্থান পাঁচ। তবে ঘটনাটি এখনও তাদের বাবা-মাকে জানানো হয়নি। তাদের একটাই দাবি, অন্তত ভাইয়ের মরদেহটা যেন পাওয়া যায়।
নিহত সাইদুর রহমানের চাচাতো ভাই ইমরুল হাসান বলেন, ‘নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় কাজ করছিলেন। আকস্মিকভাবে দুর্ঘটনায় প্রিয়জনদের এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই।’

গোলাপগঞ্জের আমুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহেল আহমদ বলেন, ‘নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের। ঘটনার পর তিনি সকালেই ঢাকায় পৌঁছান।
নিহতদের মধ্যে একজন মিজানুর রহমান মিজান সিলেট নগরীর বাসিন্দা। নিহতের সহপাঠী আতিকুর রহমান নগরী জানান, মিজানের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে শনাক্ত করেন তার বাবা ও চাচা।

তিনি বলেন, ‘এ মাসের বেতন পেয়ে রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আশা আর পূরণ হলো না। মিজানের পরিবারের ঈদের খুশি পুড়ে গেল আগুনেই। সোমবার সকালে মিজানের মরদেহ সিলেটে নিয়ে আসা হয়।

প্রতিষ্ঠানের মালিক ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন বলেন, ‘১৯৭৭ সাল থেকে তিল তিল করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলাম। মুহূর্তের মধ্যেই এতদিনের সাজানো প্রতিষ্ঠানটি ভষ্মীভূত হয়ে গেল। আমার প্রতিষ্ঠানটি পুড়ে গেলেও কোনও দুঃখ নেই। যারা এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পেছনে দিনরাত শ্রম দিয়েছেন, তাদের অনেকেই মারা যাওয়ায় আমি খুব কষ্ট অনুভব করছি। তাদের মতো আপনজনদের হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত।’

জানা গেছে, ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন টঙ্গী শিল্প এলাকার ২৮৮টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড দেশের বাইরেও পরিচিত।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: