সর্বশেষ আপডেট : ২৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিমানে বাড়ছে বিপজ্জনক ঝাঁকুনি; সিটবেল্ট বাঁধতে ভুলবেন না!

images-23আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ইউনাইটেড এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইট হিউস্টন থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই শুরু হয় প্রচ- ঝাঁকুনি। এর তীব্রত এতটাই বেশি ছিল যে সিটে বসা যাত্রীরা সোজা গিয়ে আঘাত লাগে বিমানের কেবিনের সিলিংয়ে। এতে আহত হন ২৩ জন। মাত্র দু সপ্তাহ আগের ঘটনা এটি।
এমন ঘটনার কারণে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্লাইটটি আয়ারল্যান্ডের শ্যানন বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। আর আহত যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কারোই আঘাতই তেমন গুরুতর ছিল না। তবে ঝাঁকুনির কারণে তারা এতটাই আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল যে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আকাশে চলাচলের সময় বিমানের গায়ে এমন তীব্র গতির বাতাসের ধাক্কা লাগে যার প্রভাব বিমানের ভেতরেও পড়ে। আর এ থেকেই তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। বিপজ্জনক এ ঝাঁকুনির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিডিং বিশ্ববিদ্যোলয়ের রয়্যাল সোসাইটির বিশেষজ্ঞ ড. পল উইলিয়াম। তার মতে, ‘বিমানে বিপজ্জনক ঝাঁকুনি সম্পর্কে যতটা ধারণা করা হচ্ছে এটা আগামীতে তার থেকেও বিপজ্জনকভাবে ঘটবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০-৬০ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী শূন্যস্থান বা আকাশে প্রবল বাতাস থাকছে। আর এ বাতাসের ধাক্কাতেই বিমানের ভেতর প্রচ- ঝাঁকুনি হচ্ছে। এমন প্রবল বাতাসের আগাম বার্তাও পাওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, বায়ুম-লে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ যত বাড়বে বাতাসের তীব্রতাও তত বাড়বে। এ ঘটনা নতুনও নয়। গত কয়েক দশক ধরেই এ ঘটনা ঘটছে। তবে বর্তমানে এ ঘটনার সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে।
উইলিয়াম বলেন, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বায়ুম-লের বিভিন্ন স্তরে বাতাসের গতিবেগের তারতম্য ঘটছে। হঠাৎ করেই বাতাসের গতিবেগ বেড়ের যাওয়ার সতর্কবার্তাও পাইলটের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। বাতাসের ধাক্কা এতটাই বেশি থাকে যে এটা মধ্যাকর্ষণের শক্তিকেও ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে যায়।

আর অযাচিত এ ঘটনার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিমানেরই বছরে ৫০ কোটি ডলার গচ্চা দিতে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনাও প্রায়ই ঘটছে সেখানে। এক জরিপে দেখা গেছে, ১৯৮২ সালের তুলনায় ২০০৩ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন উইলিয়াম। তার মতে, বিমানে ওঠার পর থেকেই সিটবেল্ট বেঁধে রাখুন। কেবল সিটবেল্ট বেঁধে রাখলেই দুর্ঘটনা এবং আহত হওয়া থেখে থেকে রক্ষা পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুম-লে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমাতে হলে এ গ্যাস নিঃসরণের হার কমাতে হবে। এজন্য কলকারখানা থেকে কার্বন নির্গত হওয়া কমাতে হবে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।
উইলিয়ামের মতে, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো এখনই যদি কার্বন নির্গতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করলে আগামীতে এ ধরনের আরো অনেক সমস্যা সামনে আসবে। তখন সেইসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এখনও সময় আছে এ ধরনের সমস্যার রাশ টেনে ধরার। নইলে ভবিষ্যতে আরো পস্তাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বিমানের যাত্রা পথে আরো প্রখর অতিবেগুনি রশ্মী দেওয়ার কৌশল বের করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এটা করা সম্ভব হলেই বোঝা যাবে বিমানে কতটা গতির বাতাস ধাক্কা দিচ্ছে। আর তখনই আগে থেকে বলে দেওয়া সম্ভব হবে তীব্র গতির বাতাস বিমানে আঘাত হানবে। ‘

বিমানের চলার পথে এখনও অতিবেগুনি রশ্মী রয়েছে। তবে এর উজ্জ্বলতা আরো বাড়াতে হলে খরচও বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে বিমানের যাত্রী এবং বিমান ইন্ডাজট্রির ওপর।
এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম বলেন, ‘এখনই বিমান ভ্রমণ বেশ ব্যববহুল। আর বায়ুম-লে এভাবে যদি কার্বন নির্গত হতে থাকে তাহলে ফ্লাইট চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে এবং যাত্রী হতাহতের ঘটনা বাড়বে। তাতে লোকসানে পড়বে বিমান শিল্প। এতে সমস্যা আরো বাড়বে। তাই এ সমস্যা আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না।‘ সূত্র: গার্ডিয়ান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: