সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিসিক ও এসএমপিকে বুড়ো আঙুল : নগরজুড়ে পশুর অবৈধ হাট

leead-newspickauymকাইয়ুম উল্লাস, বিশেষ প্রতিবেদক ::

পিকআপভ্যান ও ট্রাকে গরু ঢুকছে নগরীর পশুরহাটে। খবর রটে গেছে, সিলেটে দেশি গরু-ছাগলের চাহিদা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সারি সারি গরু বোঝাই ট্রাক এসে প্রবেশ করছে সিলেটে। মোটরসাইকেলে বিভিন্ন হাটের কর্মীরা এসব ট্রাককে পাহারা দিয়ে এগিয়ে হাট পর্যন্ত নিয়ে আসছেন। শেষবেলায় নগরীর সকল হাটে ক্রেতা সমাগমও ঘটেছে বেশ। বিকিকিনিতে হাটগুলো সরগরম হয়ে ওঠেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগরীর দুটি স্থানে পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়। একটি মাছিমপুরের কয়েদির মাঠে, অপরটি দক্ষিণ সুরমার কদমতলিতে। সিসিক কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইজারা প্রদত্ত ও অনুমোদিত দুটি হাট ছাড়া নগরীর আর কোথাও পশুর হাট বসানো যাবে না। এসএমপিও বলেছিল, অবৈধভাবে পশুর হাট বসালে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সিসিক ও এসএমপিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সারা নগরজুড়েই পশুর অবৈধ হাট বসেছে।

নগরীর সবচেয়ে বড় বাজার কাজিরবাজার। কাজিরবাজার সেতু হয়ে ট্রাকের সারি এসে কাজিরবাজারে ঢুকছে। এসব ট্রাক থেকে বেপারিরা গরু-ছাগল নামাচ্ছেন। হাটে দেখা দিয়েছে উৎসব আমেজ। ক্রেতারা দেখছেন, কিনেও নিচ্ছেন। বিক্রেতারা যদিও প্রথম অবস্থায় দাম বেশি হাঁকেন। কিন্তু বিক্রি কমে যাবার কারণে এবার তারা দামও ছাড়ছেন। গরুর দাম কমায় কাজিরবাজারে ক্রেতা সমাগম উপচেপড়া।

গরুবেপারি ফারুক জানান, তিনি কাজিরবাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে এসেছেন। শুরুতে কোনো গরু বিক্রি করতেই পারেননি। পরে বাজারের অবস্থা বুঝে তিনি কম লাভে গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তাই এখন ক্রেতাও বেশি, গরুও ৬টি তিনি বিক্রি করেছেন। ক্রেতা সোহেল আহমদ বলেন, প্রতি বছর দুটি গরু কুরবানি দেন তার পরিবার। এবার দেশি গরুর দাম হাতের নাগালে থাকায় ৭৫ হাজার টাকা দামের দুটি গরু কিনেছেন।

dsc_0251-copyকাজিরবাজারের ম্যানেজার লোলন মিয়া জানান, ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্য বাজারে পরিচ্ছন্নতা, ছাউনিঘর নির্মাণ, লাইটিং, নিরাপত্তাকর্মীসহ নানা সুবিধা রাখা হয়েছে। বাজারে নিরাপদে ক্রেতা-বিক্রেতা গরু বেচাকেনা করতে পারছেন।
আখালিয়ায় বিজিবির হাটে এবার প্রথম পশুরহাট বসেছে। বিজিবি মাঠটি ইজারা দিয়েছে। এই মাঠের হাটে এসেছে টুকেরবাজার, ছাতক, লামাকাজি থেকে প্রচুর দেশি গরু। একই সঙ্গে তেলিবাজার বাইপাস সড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গের বেপারিরা তাদের গরু নিয়ে এসেছেন। সীমান্ত পার হয়ে আসা নেপালি গরুও রয়েছে হাটে। তবে, ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেশি গরুতে। স্থানীয় গরুগুলোই প্রবাসী ক্রেতারা আগ্রহী হয়ে কিনে নিচ্ছেন।

লন্ডন প্রবাসী মোক্তার আলী বলেন, চাইলে একটি নেপালি গরু কিনতে পারতাম। কিন্তু স্থানীয় কৃষকের পালা গরু কুরবানি দিতে উত্তম, খেতেও স্বাদ হবে। তাই একটি বড় দেশি গরু কিনেছি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামে।
হাটের ম্যানেজার বাবুল আহমদ জানান, এটি বিজিবির নিজস্ব মাঠ। এবার প্রথম বিজিবি তাদের মাঠ ইজারা দিয়েছে। এবার বিজিবি মাঠে জমজমাট পশুর হাট বসেছে। বিকিকিনি খুবই ভালো। এখন থেকে প্রতি বছরই কুরবানির ঈদে পশুর হাট বসবে।
শাহি ঈদগাহ মাঠেও জমজমাট পশুর হাট। যদিও হাটটির কোনো অনুমতি নেই। তারপরও এই হাটে ওঠেছে প্রচুর গরু-ছাগল। ক্রেতাদেরও উপচেপড়া ভিড় সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত লেগেই থাকে।

ক্রেতা সাজ্জাদ হোসেন জানালেন, তিনি শাহি ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা। তার জন্য কাজিরবাজারে গিয়ে গরু কেনা অনেক ঝক্কিঝামেলার। তিনি শাহি ঈদগাহ থেকেই নির্ঝঞ্ঝাটে গরু কিনে বাসায় নিয়ে গেছেন।
ঈদগাহ হাটের কমিটির নেতা এনামুল হক বলেন, শুরুতে একটু ক্রেতা কম ছিলেন। সময় যত যচ্ছে, ক্রেতা ততই বাড়ছে।
কুমারপাড়ায়ও বসেছে বিরাট কুরবানির পশুর হাট। বিক্রেতা আবদুল কাদির জানালেন, তিনি ৫টি দেশি পালিত গরু কিনে এনেছেন। একটি গরু ২৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
কুমারপাড়া হাটের কমিটি প্রধান জুবেদ আহমদ জানালেন, এবার প্রথম কুমারপাড়া এলাকাবাসীর সমর্থনে পশুরহাট বসানো হয়েছে। অন্য এলাকায় কাদাপানি মাড়িয়ে গরু কিনতে যেতে হয়। এখানে ঘরের পাশেই শুকনো জায়গায় পশুরহাট।

সিলেট নগরীর আরেকটি বৈধ পশুরহাট কয়েদি মাঠ। এই হাটে বসেছে পশুর মিলনমেলা। ক্রেতারা দল বেঁধে হাটে প্রবেশ করছেন। সারি সারি গরু বাঁধা। হাটের প্রবেশ পথে আরও গরু-ছাগল ঢুকছে। বিকিকিনিও জমজমাট। এই হাটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে দেশি গরু। নাটোর থেকে আসা গরুবেপারি জাহিদ জানালেন, তিনি ২৩টি গরু এনেছিলেন। ১২টি গরু বিক্রি করেছেন। ৬০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এসব গরুর দাম। তিনি বলেন, এই দামের দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি।

কয়েদি হাটের কমিটির সদস্য কালাম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে গরুবেপারিরা ব্যবসা করছেন। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। বাজারও বেশ জমজমাট। শেষ মুহূর্তে ক্রেতারা হাটমুখী হয়েছেন। এতে বেপারিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
টিলাগাড় মোড়ে একটি অবৈধ পশুরহাট বসেছে। তারপরও এই হাটে বিকিকিনি ভালো। স্থানীয় কিছু যুবকরা হাটটি বসিয়েছেন। সেই হাটে কানায় কানায় পূর্ণ গরু-ছাগল। ক্রেতাদের পদচারণায়ও বাজার সরগরম।
দক্ষিণ সুরমার কদমতলিবাজারে সিটি করপোরেশনের বৈধ হাট বসেছে। সেখানে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় কৃষকরা তাদের গরু-ছাগল বিক্রি করতে এনেছেন। একই সঙ্গে ট্রাকবোঝাই খামারের গরুও প্রবেশ করছে। দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে যুবলীগের নামে স্থানীয় কিছু লোক গরু হাট বসিয়েছেন। সেই হাটে এখনো তেমন গরু নেই। তবে ছোট্ট হাটেও ক্রেতা সমাগম ভালো।

নগরীর স্থায়ী কাজিরবাজার পশুর হাটসহ সদর উপজেলার থেকে ইজারা দেওয়া লাক্কাতুরা, শাহপরান গেইট, এভারগ্রীন মাঠ, মিরাপাড়া পশুর হাটের ইজারাদারদের দাবি, ইজারাদাতা সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে অবগত করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারো সিলেট নগরীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা জোট বেঁধে বেশ কয়েকটি পশুর হাট বসিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আখালিয়া বিজিবি মাঠ, সিলেট নগরীর শাহি ঈদগাহ সদর উপজেলা খেলা মাঠ, নগরীর উপশহরে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথ, পাঠানটুলা, সুবিদবাজার, কুমারপাড়া, এমসি কলেজ সংলগ্ন টিলাগড়, আনন্দ সংসদ মাঠে অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে।

লাক্কাতুরা পশুর হাটের ইজারাদার মো. রিমাদ আহমদ রুবেল জানান, অবৈধ পশুর হাটের মালিকরা শেরপুর টোলপ্লাজা থেকে ট্রাক চালকদের জিম্মি করে গাড়ি নিজেদের হাটে নিয়ে যাচ্ছেন। পশুবাহী ট্রাকের চালককে মারধোরের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এর ফলে হাটে পর্যাপ্ত গরু আসছে না। সিলেট সদর উপজেলার সর্ব্বোচ্চ ইজারাদার হওয়ার পরও আমি অবৈধ পশুর হাটের মালিকদের কারণে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তারা পথে পথে গরুর গাড়ি আটকে পশু নামাচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে ট্রাক চালক ও বেপারিদের মারধরও করা হচ্ছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে যতোটি গাড়ি এসেছে সবগুলোই আটকে রেখেছে অবৈধ পশুর হাটের মালিকরা। বিশেষ করে বিজিবি মাঠ, পাঠানটুলা ও সুবিদবাজারে ট্রাক আটকে চালক ও আমাদের লোকজনকে মারধোরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনা জালালাবাদ থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইজারা নেওয়ার পরও সিলেট সিটি করপোরেশনের পশুর হাট সমঝে না দেওয়ায় ৬৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন নগরীর মাছিমপুরের কয়েদীর মাঠের ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম শামীম। গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন গত ১ সেপ্টেম্বর নগরীর মাছিমপুর কয়েদির মাঠ সংলগ্ন এলাকায় পশুর হাট ইজারা দেওয়ার দরপত্র আহ্বান করে। পরে আমি টেন্ডার জমা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হই। গত ৬ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ পশুর হাট বুঝিয়ে দিতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের বাঁধার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে গত ৭ সেপ্টেম্বর সিসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের কাছে ৪৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি লিখিত আবেদন করি। এ সময় পরদিন পশুর হাট বুঝিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। গত ৮ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ পশুর হাটের দখলদারদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দখলদারদের বাঁধার মুখে ফের ব্যর্থ হন সিসিক কর্তৃপক্ষ।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, নগরজুড়েই অবৈধ হাটের ছড়াছড়ি। অথচ শুরুতে এসব হাটের ব্যাপারে ইজারা দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। কিন্তু তখন কেউ আগ্রহ দেখাননি। এখন অনুমতি না নিয়েই অবৈধ হাট বসাচ্ছেন অনেকেই। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার কামরুল আহসান বলেন, পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। অবৈধ হাটের বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: