সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদ হোক বিষাদমুক্ত আনন্দের

05ইমরান আহমদ জীবন::

বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর তরে আবারো এলো পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আনন্দ আর দারিদ্রদের মুখে হাসি ফোটানোর বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদের আগমন ঘটে। মুসলিম জাহানের জীবনে বিশেষ করে দুই ঈদকে মহিমান্বিত ও উৎসব-আনন্দে পরিপূর্ণ করেছেন মহান রাব্বুল আলামীন। ঈদকে উপলক্ষ্য করে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন হয় দৃঢ় থেকে আরো দৃঢ়। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা হলেও সুখ বয়ে আনে পবিত্র ঈদ। কিছুটা দিনের জন্য হলেও টানা কর্মজীবন থেকে ঈদ আমাদের দেয় অবকাশ। ঘরে ঘরে আনন্দের ফুয়ারা ফুটে উঠে ঈদের চাঁদ পশ্চিম গগনে ভেসে উঠার পর। শুরু হয় শিশুদের মধ্যে আনন্দের ঝলকানি, বাড়ির কর্তাদের মধ্যে ব্যস্ততা। গিন্নিদের হৈ-হুল্লুর পড়ে যায় গৃহ পরিস্কার আর নতুন করে সাজানোর প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি নতুন জামা পরিধানের আনন্দ নতুন করে করে জেগে উঠে সবার মনে। নতুন জামা কেনাকাটা উপলব্ধি করা যায় শহর-নগরের ব্যস্ততা দেখে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত নিয়ে দুই ঈদের এ মহা-আনন্দ মুসলিম উম্মাহর অন্তরকে করে পরিপূর্ণ।

ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন পাড়া-প্রতিবেশিদেরকে সাহায্য-ভালোবাসা দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানো যায়। বিত্তশালীদের নৈতিক কর্তব্য হচ্ছে নিজে যা পরিধান করি, তা দাসদাসীদের পরিধান করানো, যথাসামর্থ অনুযায়ী -আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে ও মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত রাসূল (স.)-এর কঠোর নির্দেশ রয়েছে। যা পালন করলে আমাদের সম্পদ পরিপূর্ণ হালালে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। মহান আল্লাহর এ নির্দেশ পালন সমস্ত মুসলিম উম্মাহর নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

ঈদ-উল-ফিতরের ২ মাস ৯ দিন পর আসে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। যা ত্যাগ-তিতীক্ষা আর মহান আল্লাহর হুকুমে পশু কুরবানির মাধ্যমে পালিত হয়ে থাকে। যা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দ্বারা সৃষ্ট নিয়মে মহান রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ মোতাবেক প্রতি ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি অনুষ্ঠিত হয়। একই মাসে (জিলহজ) হজ পালিত হয় পবিত্র মক্কা শরিফে।

মহান আল্লাহর হুকুমে ইব্রাহিম (আ.) থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজাহা পালিত হয় পশু কুরবানির মাধ্যমে। যা মহান আল্লাহ-ই এই নিয়ম পালনের ব্যবস্থা করে রাখবেন কিয়ামতের আগ পর্যন্ত।

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম জীবনে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয়। প্রতিটি বিত্তশালী পরিবারের প্রতি কঠোর হুকুম রয়েছে ঈদুল আজহায় পশু কুরবানির। আর এ গোশত দরিদ্রদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত বন্টন করা। বিশেষ করে পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি নজর রাখতে বলা হয়েছে ইসলামে। বিত্তশালীদের প্রতি পাড়া-প্রতিবেশিদের হক রয়েছে। যা মহান আল্লাহই আইন জারি করে রেখেছেন। মূলত; কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো- মহান আল্লাহর হুকুম পালনে সচেষ্ট থাকা, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা, গরিবদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো ও নিজের সম্পদকে হালালে পরিপূর্ণ করা। মুসলিম উম্মাহ যদি মহান আল্লাহর হুকুম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, তাহলে কখনোই তারা পথভ্রষ্ট হবে না ইনশাআল্লাহ।

মানবজাতির অনেক ইতিহাসের মধ্যে কুরবানি একটি অন্যতম বড় ইতিহাস। যা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈল-কে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছিলো। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত একই নিয়মে, একই সময়ে পালিত হয়ে থাকে পশু কুরবানির অনুষ্ঠান। এ কুরবানির ইতিহাস আমাদের মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় একটি বিষয়।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, কীভাবে পূর্বেকার নবী-রাসূলেরা আল্লাহর পথে নিজের জীবনকে কুরবানি করেছেন। আল্লাহর হুকুম পালতে তাঁরা সর্বদাই সচেষ্ট ছিলেন।
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে অন্যতম হজরত ইব্রাহিম (আ.)। যিনি মহান আল্লাহর নির্দেশে একের পর এক পরীক্ষা দিয়েছেন, হয়েছেন উত্তীর্ণ। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর শিশুপুত্র ঈসমাইলকে কুরানির এক পরীক্ষা মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয় হয়ে রচিত হয়েছে ইতিহাস। যে ইতিহাস ঠাঁই পেয়েছে মহাপবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআনে। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দীর্ঘ জীবনে তিনি বহু সমস্যার মুখে পতিত হন। অথচ কখনো মহান বিধাতার বিমুখ হননি। সর্বদাই তাঁর মুখাপেক্ষী থাকেন ইব্রাহিম (আ.)। আর মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রতি এতই খুশি হন যে, তাঁকে করে দেন ‘আবুল আম্বিয়া’ (নবীগণের পিতা)। নবীগণের পিতা হিসেবে তাঁকে তাঁর কর্মগুণে মহান আল্লাহ এ আসনে অধিষ্ঠিত করেন। আর তাঁর স্ত্রী সারা-কে করেন ‘উম্মুল আম্বিয়া’ (নবীগণের মাতা)।

হজরত ঈসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.) অপর স্ত্রী মা হাজেরা’র পুত্র। যাঁর বংশে জন্ম নেন মহানবী ও শেষনবী মানবতার মুক্তিদূত হজরত মুহাম্মদ (স.)। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর স্ত্রী নবীগণের মাতা খ্যাত মা সারা ছিলেন বন্ধ্যা। তাঁরই অনুরোধে ইব্রাহিম (আ.) মা হাজেরার পাণি গ্রহণ করেন। মা হাজেরার ঘরে জন্ম নেন ঈসামাইল (আ.)। যিনি ছিলেন সর্বপ্রথম বিশুদ্ধ আরবী ভাষী। এ বিষয়ে নবী করীম (স.) বলেন, ‘ সর্বপ্রথম ‘স্পষ্ট আরবী’ ভাষা ব্যক্ত করেন ঈসমাইল। তিনি ছিলেন ১৪ বছর বয়সের তরুণ।’ এই আরবী ভাষাই ছিলো কুরাইশী ভাষা। যে ভাষায় পবিত্র কুরআন নাযিল হয়। হজরত ঈসমাইল (আ.)-এর আল্লাহপ্রীতি ও পিতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে তিনি হন ‘আবুল আরব’ বা আরবদের পিতা।

মহান সৃষ্টিকর্তার হুকুমে স্ত্রী হাজেরা ও একমাত্র শিশুপুত্র ঈসমাইলকে মক্কার বিজন ভূমিতে রেখে যান ইব্রাহিম (আ.)। মাঝে মধ্যে স্ত্রী ও পুত্রকে মক্কায় দেখতে যেতেন তিনি। সেখানে ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়ায় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সৃষ্টি হয় জমজম কূপের। এভাবে যখন শিশুপুত্র ঈসমাইলে বয়স ১৩/১৪ উপনীত হলেন এবং পিতার সাথে চলাফেরায় সামর্থবান হলেন, ঠিক সেই সময়েই ইব্রাহিম (আ.)-এর মায়ার বাঁধন, ভালোবাসার পুত্তলী একমাত্র শিশুপুত্র ঈসমাইলকে স্বপ্নযোগে কুরবানির নির্দেশ দিলেন মহান আল্লাহ। স্বপ্নের বিবরণে ইব্রাহিম (আ.) ঈসমাইল (আ.)-কে বললেন, ‘হে আমার পুত্র, আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমাকে জবেহ করছি। এখন বলো তোমার অভিমত কী? ঈসমাইল পিতার প্রতি এতই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, তাঁর প্রতিত্তোরে তিনি বললেন, ‘পিতা আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন। আল্লাহ চান তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাবেন। পিতার প্রতি মহান রাব্বুল আলামীনের হুকুম পালনে তিনি এতে সায় দিয়েছেন নির্ভয়ে। অতঃপর মহান আল্লাহর হুমুকের তামিল করে শিশুপুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করতে মন ঠিক করেছেন এবং কুরবানগাহের (মিনা প্রান্তর) পথে করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানেও নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শয়তান শিশুপুত্র ইসমাইলকে বার বার কুমন্ত্রণা দিলেও ইসমাইল একটুও বিচলিত হননি। বরং শয়তানকে কংকর ছুঁড়ে তাড়িয়ে দিয়ে আল্লাহর জন্য নিজেকে কুরবান করতে সচেষ্ট থাকেন তিনি। আর আজ অবদি এই কংকর শয়তানের উদ্দেশ্য ছুঁড়া হয় হজ অনুষ্ঠানে। যা আমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। কিয়ামতের আগ পর্যন্ত এ নিয়ম বলবৎ থাকবে।

এরপর তিনি তাঁর পুত্রকে শায়িত করলেন। ঠিক ঐ মুহুর্তে মহান আল্লাহর রতফ থেকে ঈসমাইলকে সরিয়ে একটি পশু কুরবান করতে দেয়া হয়। যা পরবর্তীদের মধ্যে নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়। বর্তমানে ঐ মিনা প্রান্তরেই হাজিগণ কুরবানি করে থাকেন। মুসলিম সুন্নাত অনুসারে ১০ জিলহজ বিশ্বব্যাপী পবিত্র ঈদ-উল-আজহা অনুষ্ঠিত হয় ও এই ঈদে চিরচারিত নির্ধারিত পশু কুরবানি হয়।

মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা তো তাঁরাই, যাঁরা মহান সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালনে নিজ জীবন কুরবান করেন নির্ধিদ্বায়! আল্লাহর প্রিয় নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইলের এই ঘটনা থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন-
‘মা হাজেরা হৌক মায়েরা সব
যবীউল্লাহ হৌক ছেলেরা সব
সবকিছু যাক সত্য রৌক
বিধির বিধান সত্য হৌক’।

একটু গভীরভাবে আমাদের ভাবা উচিত, ব্যাপারটা কতটা ভয়ানক। নিজ পুত্র সন্তানকে মহান আল্লাহর হুমুকের জন্য জবেহ করা নিতান্ত ব্যাপার নয়। কিন্তু মহান আল্লাহর হুকুম পালনে তিনি তাই করতে ব্রত হয়েছেন। তিনি আল্লাহর হুকুম পালনে প্রিয় পুত্রকে সাজিয়ে নিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়েছেন মহান আল্লাহর দেখানো পথে। এমনকি তিনি এ ব্যাপারটা স্ত্রীর কাছেও গোপন রাখেন। যাতে কোনো মায়ার বাঁধনে আল্লাহর এ হুকুম পালনে কোনোরকম গাফিলতি না হয়। কিন্তু নবী ইব্রাহিম (আ.) ও শিশুপুত্র ঈসমাইল মহান আল্লাহর এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সৃষ্টিকর্তার অন্যতম প্রিয়পাত্র হিসেবে গণ্য হয়েছেন। হয়েছেন মুসলিম জাহানের জন্য নিদর্শন। দিয়ে গেছেন শিক্ষা।

ঈদের চাঁদ যখন মুসলিম বিশ্বে উঁকি দিচ্ছে, তখন বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক হারে চলছে মুসলিম নির্যাতন। বিধর্মীরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে বিশ্বব্যাপী। অপরদিকে ইহুদি-নাসারাদের কূটকৌশলে চলছে মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে হানাহানি।

সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, মিসর, ফিলিস্তিন তথা মুসলিম বিশ্বে মুসলামনদের করুণ দুর্দশা চলছে এখন। ঈদের আনন্দে মশগুল থাকার কথা যেই মুসলিমদের, তারা আজ নিজেদের মধ্যে বিভেদ, ক্ষমতার লোভ ও ইহুদিদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে। আর এই বিভেদের সুযোগ নিচ্ছে ইহুদি-নাসারা’রা। তারা কৌশলে মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইকে, পিতার বিরুদ্ধে সন্তানকে, সন্তানের বিরুদ্ধে বাবাকে লেলিয়ে দিচ্ছে। মুসলিম নিধনে ইহুদিরা বিশ্বব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি করে তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। আইএসএস সৃষ্টিকারী পশ্চিমা ইহুদিরা-নাসারা’রা বিশ্বব্যাপী ধ্বংসলীলা আর হত্যাজজ্ঞ চালিয়ে দোষ চাপাচ্ছে মুসলিমদের ঘাড়ে। কিন্তু মুসলিমের ঐক্যতাবিমুখে ইহুদিদের এহেন কর্মকান্ড প্রতিহত হওয়া তো দূরে থাক, বরং তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক মুসলিম দেশ অন্য মুসলিম দেশে হামলা করে হত্যা করছে নিরীহ মানবকূলকে।

গত রমজানে ফিলিস্তিনে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ইসাইলী ইহুদিরা। এর আগের রজমানে ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মুসলিম শিশু-নারীকে হত্যা করে ইসরাইলী নরপশুরা। কিন্তু মুসলিম দেশগুলো নামমাত্র প্রতিবাদের স্বর তুলেই তারা তাদের দায় মুক্ত করেছেন। বিশ্বের সমস্ত মুসলিম যদি এক হতো, তাহলে ইসলামবিরোধীরা কখনোই মুসলিমদের উপরে নেতৃত্ব ও ইসলাম ধ্বংসে সাহস পেত না।

দুঃখের বিষয়, পবিত্র ঈদের আনন্দ এখন অনেক মুসলিম দেশে বিষাদে রূপ নিয়েছে। দেশে দেশে হানাহানী, মুসলিম হত্যা, সিরিয়ায় শিয়া কর্তৃক সুন্নী হত্যা, আইএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা, মুসলিম নাম দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো, এরই জের ধরে ইহুদিরা মুসলিম দেশগুলোতে তাদের শক্তি প্রয়োগ, গণহারে মুসলিম হত্যা ইত্যাদিতে আজ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অধিকাংশ দেশে এখন বিরাজ করছে অশান্তি। ঈদের আমেজ এখন নেই তাদের ঘরে। এখন তারা শুধু নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় দিনযাপন করছে। ঈদ এখন তাদের আনন্দের বিষয় নয়। তারা এখন শুধু জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন দেশে বা অরণ্যে। কিন্তু ক্ষমতাশালী মুসলিম দেশগুলো চাইলে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তারা তা না করে তাদের ঐশ্বর্য আর নিজেদের জীবনমানের আধুনিকায়নে ব্যস্ত।

বর্তমানে বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। দেশে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এক সময় ঈদুল আজহার চাঁদ দেখার পরপরই পথে পথে দেখা যেত কুরবানির পশুদের আনাগোনা। এখন ঈদের দু’দিন আগেও দেখা যায় রাস্তা ফাঁকা। অভাব, ঋণ, ব্যবসায় ধ্বস ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে সাধারণ মানুষ। একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ার ফলে কঠিন সংকটে পড়ছেন মধ্যবিত্তরা। তাদের জন্য ঈদের চাঁদ বিষাদের বর্ণে উদিত হয় পশ্চিমাকাশে। ঈদ আসার সাথে সাথেও মসল্লার বাজারে বেড়ে যায় দ্বিগুণ দাম। করুণ মুখে কাজের উদ্দেশ্যে বের হতে হয় বাড়ির কর্তাকে। মাস যখন শেষ হওয়ার পথে, তখন হিসেবের ছক করতে করতে ক্লান্ত-বিমূর্ত মধ্যবিত্তরা তাদের আশা-প্রত্যাশা মনোকান্নার জলে বিসর্জন দিতে হয়। আর মাসের শেষে ঈদের আগমন ঘটলে চিন্তার কোনো অন্ত থাকে না তাদের। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে বিমর্ষতা। বিষাদ বর্ণে আচ্ছাদিত হতে থাকে দিন থেকে দিন…।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: