সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে

1473658692নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে বান্দরবানে ভিড় করছেন পর্যটকরা। ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের বরণে প্রস্তুত বান্দরবানের আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো। পবিত্র ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে ট্যুরিস্ট স্পট এবং আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ইতোমধ্যে জেলা শহরসহ আশপাশের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলোর অধিকাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদ হলেও ১১ সেপ্টেম্বর থেকেই পর্যটকদের বাড়তি চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে বান্দরবানে।

গ্রীনল্যান্ড হোটেলের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এগারো সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সবগুলো রুম বুকিং রয়েছে। অতিথিদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পালকি গেস্ট হাউসের পরিচালক শাফায়েত হোসেন বলেন, বাড়তি ঝামেলা এড়াতে অন্যবারের মতো এবার আমরা ঈদের ছুটিতে শতভাগ রুম অগ্রিম বুকিং দেইনি। বেড়াতে আসা পর্যটকরা দেখে পছন্দমতো রুমে উঠতে পারবেন। হলিডে ইন রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আমাদের রিসোর্টের সবগুলো রুম ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে।

বান্দরবান বরাবরই পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের স্থান। এখানকার পাহাড়ি ঝরনা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, বাদুড় গুহা, দেবতা পাহাড়, আলীর সুড়ঙ্গপথসহ সবুজ বৃক্ষরাজিঘেরা বড় বড় পাহাড়ের আকর্ষণ এড়াবে—সে সাধ্য কার। জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন কমপ্লে­­ক্সে লেকের ওপর নির্মিত দুটি ঝুলন্ত সেতু, মিনি সাফারি পার্ক ও চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখছেন পর্যটকরা, পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টাওয়ারে উঠে তারা দেখছেন পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে যাওয়া সমুদ্র। পাহাড়ের সঙ্গে আকাশ মিতালি গড়েছে নীলাচলে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও হারাচ্ছেন সেই স্বপ্নের দেশে। পাহাড়ের মাঝে নির্মিত সেনা নিয়ন্ত্রিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রটি যেন মেঘে ভাসছে। মেঘ এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে সেখানকার কটেজগুলো। জেলা শহরের কাছে অবস্থিত শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসাচ্ছেন পর্যটকরা। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঝরনার স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে অবিরাম ধারায়। পাশেই তাঁতে তৈরি কাপড় বিক্রি করছেন পাহাড়ি তরুণীরা। জেলা সদরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ছাড়াও রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝরনা, রহস্যময় কিংবদন্তি বগালেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডাং ও তাজিংডং বিজয়— প্রতিটি স্পটই এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী পথে নৌকা নিয়েও ঘুরছেন পর্যটকরা। আর বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন চিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপদে এবং স্বচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় থাকবে। পর্যটক হয়রানি বন্ধে পরিবহন, আবাসিক হোটেল এবং রেস্টুরেন্টগুলোর শ্রমিক-মালিকদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যেতে পারেন দোহার-নবাবগঞ্জেও

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা যেতে পারেন রাজধানী ঢাকার খুব কাছের উপজেলা দোহার-নবাবগঞ্জে। সংবাদদাতা মো. কাজী সোহেল বলেন, কোলাহল ছেড়ে একদিনের জন্য কোথাও বেড়াতে যেতে চাইলে চলে আসুন ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা জজ বাড়ি-উকিল বাড়ি, হরিহর ঘোষের তাজা গাছ, খেলারাম দাতার কোঠা, আনসার বিডিবি ক্যাম্প, কৈলাইলের রওশন গার্ডেন, কাশিয়াখালী বেড়ি বাঁধে তিতপালদিয়া, আগলায় কবি কায়কোবাদের বাড়িতে। একটু দূরেই শালিকা ঘাট, চূড়াইনে আসলে আপনি দেখতে পারবেন বানরের আনাগোনা। ভ্রমণের জন্য পার্শ্ববর্তী দোহার উপজেলার মৈনটঘাট, নারিশা পদ্মার পাড়, শাইনপুকুরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও বেছে নিতে পারেন। দোহারের পদ্মার সৌন্দর্য যেমন আপনাকে মোহিত করবে, তেমনি খেতে পাবেন পদ্মার তাজা ইলিশ। ঢাকার গুলিস্তানের গোলাপশাহ্ মাজার থেকে সরাসরি এন মল্লিক পরিবহন, যমুনা পরিবহন বা অন্য কোনো পরিবহনে করে আপনি চলে আসতে পারবেন নবাবগঞ্জ উপজেলায়। এতে আপনাকে ভাড়া গুনতে হবে জনপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। দোহারে রয়েছে মিনি কক্সবাজার। মৈনট ঘাটের বিশেষ করে পূর্বদিকে আছে বিশাল চর আর সামনে বিস্তীর্ণ পদ্মা। এই ঘাটের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই একে মিনি কক্সবাজার নামে ডাকতে শুরু করেছেন। নৌকা কিংবা স্পীডবোটে করে পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়াতে পারেন। আটজনের উপযোগী একটি স্পীডবোটের ভাড়া আধঘণ্টার জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এছাড়া আড়াইশ’ থেকে আটশ’ টাকা ঘণ্টায় ইঞ্জিন নৌকায় চার থেকে ২০-২৫ জন একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো যায়।

স্পীডবোট কিংবা নৌকায় করে পদ্মায় ঘোরার সময় লাইফ জ্যাকেট পরা উচিত। কেননা বর্ষা ও শরতের সময় পদ্মার ঢেউ হঠাত্ করেই বেড়ে যায়। তাই খুব ছোট নৌকা নিয়ে পদ্মার ভেতরে বেড়াতে যাওয়া ঠিক হবে না। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবুও পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকবে। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমীন বলেন, দোহারের দর্শনীয় স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তাছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: