সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এবার ফুটবল অঙ্গনে দুই রকম ঈদ

1473653594খেলাধুলা ডেস্ক: ফুটবল মেয়েদের এমন আনন্দের ঈদ আর কখনো হয়নি। মেয়েদের আনন্দের বিপরীতে পুরুষ ফুটবলারদের অবস্থান। বেদনার ঈদ। ঈদ নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফুটবলারদের। ঈদের ছুটিতে অনেক ফুটবলার নিজেদের গ্রামের বাড়ি গেলেও তারা মনে করছেন আগের মতো খুশি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবেন না।

ফুটবল মাঠে টানা ব্যর্থতা বিব্রত করছে। মালদ্বীপের কাছে ৫-০ গোলের হারের লজ্জার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভুটানকে ঘরের মাঠে পেয়ে হারাতে না পারার ব্যর্থতা। এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে বাংলাদেশ উঠতে পারবে কি পারবে না তা নিশ্চিত না। কারণ খেলাটা ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভুটান সেখানে টার্ফের মাঠে খেলে অভ্যস্ত। তাদের কাছে যেখানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে ভুটান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাদা মাঠে খেলেছে। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই ম্যাচগুলোর টানা খেলা হয়েছে। মাঠ ছিল যাচ্ছেতাই। এমন খারাপ মাঠেও ভুটান বাংলাদেশকে ৯০ মিনিট আটকে রেখে জিততে দেয়নি। ম্যাচটা গোলশূন্য ড্র করেছে। এখন আশঙ্কা হচ্ছে ১০ অক্টোবরের ফিরতি ম্যাচে ভুটানের ঘরের মাঠে বাংলাদেশ জিততে পারবে কি না। এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা জড়সড়।

অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম রানা, জীবন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুর রহমান মিশু, রায়হান, শরিফ, শাখাওয়াত রনির মতো সিনিয়র ফুটবলাররা এবার টেনশনেই রয়েছেন। তপু বর্মণ, হেমন্তরা অন্য ধর্মের হলেও তারাও বিব্রত। এদের মধ্যে কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, আগে কোরবানির ঈদেও তারা গরু কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন। এবার সেটা করবেন না। গেলেই প্রশ্ন উঠবে কী ব্যপার ভুটানকে হারাতে পারল না কেন। প্রশ্ন এড়াতেই পরিবারের অন্য কেউ গরু কিনতে যাবেন। কিন্তু কেন? মিশু বললেন, ‘আমাদের পরিবারের জন্য গরু কিনবে আমার বাবা। আমি কিনব না।’ মিশুর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে। সেখানেই গেছেন তিনি।

হেমন্তও সবার সঙ্গে ঈদের দিন আনন্দে থাকেন। কিন্তু এবার মন ভালো নেই। দিনাজপুরের কসবায় হেমন্তের বাড়ি। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচটা না খেললেও হেমন্ত বাড়ি যেতেও চাইছেন না। বললেন, ‘বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে না। আব্বু ফোন করে বলে কী রে কী খেলিস তোরা।’ তার পরও দিনাজপুর যাবেন হেমন্ত। কিন্তু জড়তা রয়েছে তার মনের মধ্যে। হেমন্ত বললেন, ‘বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজন ফোন করে ভালো বলে না। কসবায় আমরা যে চায়ের দোকানটায় বসি সেখানে গেলেই এবার নানা প্রশ্ন শুনতে হবে। সেখানে গেলেই কথা শুনতে হবে খুব খারাপ লাগছে।’

পুরুষ ফুটবলারদের কাছে এবারের ঈদ জড়তার মধ্যে কাটবে। নিজেদের না পারার ব্যর্থতা তো আছেই সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে মেয়েদের ফুটবল সাফল্য। দেশের সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষের কাছে মেয়েদের ফুটবল সাফল্য, আলো ফেলেছে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে দিনমজুর পর্যন্ত মেয়েদের ফুটবল নিয়ে আলোচনায় মেতেছে। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মামুন মিয়ার কণ্ঠেও সেটাই। ‘দেখলেন না প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন মেয়েরা ১০ গোল করে, ছেলেরা ৫ গোল খেয়ে আসে। আমরা রেজাল্ট দিতে পারলাম না।’

মামুন মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখিপুরে। ঈদ করতে যাবেন। কিন্তু এবারের ঈদ তার কাছে কষ্টদায়ক। মামুন মিয়া বললেন, ‘ঈদ ভালো হবে না চারদিকে সমালোচনা হচ্ছে আমাদের নিয়ে। মিডিয়া, ফেসবুকের প্রেসার আছে। ঈদে বাড়ি যাচ্ছি, তবে প্রফুল্লতা থাকছে না।’

পুরুষ ফুটবলাররা যেখানে হতাশায় সেখানে মেয়ে ফুটবলাররা বিপরীত স্থানে।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা এবার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঈদ করবেন বলে জানিয়েছেন সানজিদা, মারিয়া, তহুরা, মারজিয়া, সামশুন নাহার, তাসলিমা, স্বপ্না, অনুচিং, নাজমা, রুকসানা, কৃষ্ণারা। এই সব ফুটবলার সবাই দরিদ্র ঘরের সন্তান। অনেকেরই ঘর ভাঙা, পরিবারে আয় করার সামর্থ্য কম। তার পরও বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন মেয়ে ফুটবলারা যেন ভাঙা ঘরের আলো। এখন তো তারা প্রতিদিন ঈদ আনন্দে আছেন। সবাই তাদের দেখতে আসে। সাংসারিক অভাব-অনটনের মধ্যেও তারা আনন্দে কাটাবেন বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক কৃষ্ণা। এরই মধ্যে নিজ শহর টাঙ্গাইলে সংবর্ধনা পেয়েছেন আক্রমণভাগের এই কৃতী ফুটবলার।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: