সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাড়তি ভাড়ায় নাজেহাল যাত্রীরা : ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ চরমে

525c3c5ec5ace-untitled-11ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে কখন বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন জানা নেই ঘরমুখো এসব যাত্রীদের। বাসের ছাদে উঠে ছুটে চলছেন তারা। ছাদের চারদিক দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছে। সেই দড়ি ভেতরে কেউ-কেউ নিজেকেই বেঁধে নিয়েছেন। এক দিন পরেই ঈদ। কিন্তু মহাসড়কগুলোর পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাই এখনো ঘরমুখী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চেয়ে উত্তরাঞ্চলগামী লোকজন গতকাল রোববার বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। এক যাত্রী জানান, রাজধানী থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পৌঁছেছেন ১৬ ঘণ্টায়।এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈরসহ টাঙ্গাইলের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছিল। একইভাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মেঘনা সেতু পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকায় গতকালও যানজট ছিল। এ ছাড়া পাটুরিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে।

উত্তরাঞ্চলগামী মানুষের দুর্ভোগ: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর, সূত্রাপুরসহ টাঙ্গাইলের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় গতকাল যানজটে পড়ে উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা। কোনাবাড়ী মহাসড়ক পুলিশের পরিদর্শক হোসেন সরকার বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বিশেষ করে গরুবাহী ট্রাক এবং মহাসড়কে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলায় বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জায়গায় মহাসড়কের ওপর গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় তা সরাতে দেরি হওয়ায় যানজট দীর্ঘ হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ হিসেবে মহাসড়কে যানজট, গাড়ির স্বল্পতা, ট্রিপ কম হওয়া, খালি ফিরে আসাসহ যাত্রীদের বিভিন্ন কারণ দেখানো হচ্ছে। রোববার সকালে মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী ও কাউন্টারে দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।তবে দূরপাল্লার এসব বাসে বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে যাত্রীরা অভিযোগ না করায় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

রংপুর যেতে সকাল সাড়ে ৬টায় মহাখালী বাস টার্মিনালে আসেন আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, টিকিটের মূল্য এখন দ্বিগুণ, তারপরও গাড়ি নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর ছাড়বে বলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে।টার্মিনাল ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বগুড়া ও নওগাঁর উদ্দেশ্যে প্রতি ৩০/৪০ মিনিট পর পর মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাস। নির্ধারিত সাড়ে ৪০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা।অন্যান্য যাত্রীদের মতো বগুড়া যাওয়ার জন্য এ কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এমনিতে বগুড়ার বাসের টিকিট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। কিন্তু সকালে কাউন্টারে টিকিটের জন্য গেলে প্রথমে তারা জানায় গাড়ি নেই। এরপরই ৮০০ টাকায় টিকিট পাওয়া যাবে বলে জানান। এ সময় অনেক যাত্রীকে ৮০০ টাকায় টিকিট কিনতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে বাসের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা গোলাম রাব্বানী বলেন, যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা দেরি করে গাড়ি আসছে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভাড়া বেশি আদায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

শুধু শাহ ফতেহ আলী পরিবহনই নয়, অরিন ট্রাভেলস, সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাওয়া রাজিব এন্টারপ্রাইজ, এসআই এন্টারপ্রাইজ, অভি এন্টারপ্রাইজের বাসও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।এসআই এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ খোকন বলেন, আমরা সারা বছর বাসে এক টাকাও অতিরিক্ত ভাড়া নেই না, ঈদে প্রতি টিকিটে ১০০/১৫০ টাকা বেশি নিয়ে থাকি। যানজটের কারণে দিনে ১৪টি ট্রিপের মধ্যে ৭/৮টা ট্রিপ হয়। এছাড়া যাত্রী নামিয়ে গাড়িগুলো ঢাকায় খালি ফিরতে হয়।টার্মিনালে থাকা বিআরটিএ বুথে গিয়ে পাওয়া যায় প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমান সহকারী মনির হোসেনকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলেই কেবল এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যথায় বিআরটিএ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। সকাল ৯টা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে,সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এলেন রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে। গাড়ি থেকে নেমেই যাত্রীভর্তি গণপরিবহনের দিকে ছুটলেন তিনি। রোববার সকাল সাড়ে দশটার ঘটনা এটি।তখন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন পরিবহনের বাস। এ সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে কি-না বাসের ভেতরের যাত্রীদের জিজ্ঞেস করেন মন্ত্রী।তখন একাধিক যাত্রী বাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা জানান তাকে। সঙ্গে সঙ্গে বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপারকে অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে নির্দেশ দেন তিনি।এক যাত্রী মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, নেত্রকোনার ভাড়া ৩০০ টাকা, আজকে নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। তখন মন্ত্রী অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে বলেন। একই সঙ্গে এসব গাড়ির নাম ও নম্বর লিখে রাখতে পরিবহন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

টার্মিনাল থেকে যাওয়ার সময় মন্ত্রী বাস কর্তৃপক্ষকে যে রোডে যা ভাড়া নির্ধারিত আছে সেই ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো অর্থ না নিতে বলে যান।এ সময় বিআরটিএকে একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে মন্তব্য করেন সড়কমন্ত্রী।টার্মিনালে বেশ কিছু কাউন্টার ঘুরে ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের একাধিক অভিযোগ শোনেন তিনি। এনা পরিবহন ছাড়া প্রায় সব বাসই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়ার জন্য এনা পরিবহনকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

সায়েদাবাদ: পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তে অনেকেই ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। তবে টিকিট থাকলেও বাড়তি ভাড়ায় অতিষ্ট যাত্রীরা। রোববার ভোর থেকেই এমন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে।টার্মিনালের মৌসুমী পরিবহনে বাড়ি নোয়াখালী যাচ্ছেন মোহাম্মদ সেলিম। আগে এ পরিবহনে যেখানে ভাড়া ছিলো ২৫০ টাকা সেখানে এখন তাকে দিতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সেলিম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের জন্য ১০০ টাকাই অনেক টাকা। কিন্তু এখন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এভাবে আমাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। অন্যদিকে লাকসাম রুটে আগে যেখানে যাত্রী প্রতি ভাড়া ছিলো ২০০ টাকা, এখন সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। জোনাকি পরিবহনের বিরুদ্ধে লাকসামের যাত্রী বাড়তি ভাড়া নেওয়া অভিযোগ করেছেন আলিম মিয়া। পেশায় তিনি রিকশা চালক। তিনি বলেন, প্রতি মাসেই বাড়ি যাই, ২০০ টাকা ভাড়া। এখন বৌ-বাচ্চা নিয়া ঈদ করতে যাইতাছি, কিন্তু ভাড়া দেখি ১০০ টাকা বেশি। এইটা কোন আইনে করছে কে জানে। সব বাসেই ভাড়া বেশি। আমরা অসহায়। আমাগোতো যাইতে হবে।
চাঁদপুর রুটের বাসে যেখানে আগে ভাড়া নেওয়া হতো ২০০ থেকে ২২০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।হামিম এন্টারপ্রাইজের বাসের টিকিটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১০০ টাকা। এক কর্মকর্তা জানান, আগে ভাড়া ছিলো ৪০০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। এদিকে আগের তুলনায় ভাড়া বেশি নিলেও তা বাড়তি ভাড়া নয় বলে দাবি করেছেন মোসুমী পরিবহনের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা যে ভাড়া নিচ্ছি তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ভাড়া। অন্য সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নেই। কারণ আসা-যাওয়ায় সম্পূর্ণ বোঝাই করে যাত্রী আনা হয়। কিন্তু ঈদের সময় আমরা যাত্রী নিয়ে যাই, আসি ফাঁকা। তাই আগের চেয়ে কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

গাবতলী: টিকিটের জন্য হাহাকার নেই, হাহাকার গাড়ির জন্য। বেসরকারি পরিবহনগুলোর স্পেশাল সার্ভিসের বাসগুলোর টিকিট পাওয়া যাচ্ছ, তবে মূল্য চড়া।রাস্তার যানজটে সিডিউল বিপর্যয় হলেও রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালনালের বিভিন্ন কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছেন সংশ্লিষ্টরা। গাবতলীতে রংপুরগামী টিআর ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যানেজার সঞ্জীব জানান, সিডিউল গাড়ির টিকিট গত ২৩ আগস্ট বিক্রি শেষ হয়েছে। এখন কিছু স্পেশাল সার্ভিস চালু করা হয়েছে যেগুলোর টিকিট বিক্রি চলছে।রংপুরের টিকিট ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে এই কাউন্টারে। এছাড়া নওগা, বগুড়ার টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়।অন্যদিকে বিভিন্ন বেনামী চেয়ার কোচ ও লোকাল বাসের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে গাবতলীতে। ৭০০-৯০০ টাকায় মিলছে এসব টিকিট। উত্তবঙ্গের বিভিন্ন রুটে রাস্তার যানজটের কারণে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে বাসের সূচি। সূচি অনুযায়ী বাসগুলো ছাড়তে বিলম্ব ঘটছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।ঈদের আগে রোববার সকালে রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসের প্রধান কাউন্টারগুলোয় কল্যাণপুরে যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়েছেন।রংপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, গত রাত সাড়ে ১১টায় বাস ছিল, কিন্ত সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ছাড়েনি। রাত সাড়ে ১০টার গাইবান্ধাগামী একটি বাস সাড়ে ৮টায় ছাড়বে বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। রাতের বাসগুলো সকাল ৯টার আগে ছাড়বে না বলে জানায় কাউন্টারের একজন স্টাফ। তিনি বলেন, রাস্তার যানজটের কারণে শিডিউল বিঘœ ঘটেছে।

এসআর পরিবহনের একজন যাত্রী জানান, রাত সাড়ে ১১টার এসি বাস কখন ছাড়বে তা জানা নেই।তবে এ পরিবহনের নন-এসি বাসগুলো ১-২ ঘণ্টা দেরি হলেও ছাড়ছে।রাজশাহিগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কাউন্টারে নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়েছে, বিকেল ৪টার পর রাতের বাসগুলো ছাড়বে সকাল ৮টার পর। রাতের বাসগুলো সাড়ে ৮টার দিকে ছাড়তে শুরু করলেও রোববার সকালের বাসগুলো ছাড়বে ১২টার পর। ন্যাশনালের এক সুপারভাইজর জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহি থেকে ছেড়ে ঢাকায় এসেছেন রাত আড়াইটায়।বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ঢাকার পথে পুরোটা রাস্তায় যানজটের কারণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান ন্যাশনালের একজন স্টাফ। এদিকে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় কাউন্টারগুলোর সামনে নারী ও শিশুদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। আগের দিন রাত সাড়ে ১১টায় গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও মহাসড়কে যানজটের কারণে শিডিউল বিপর্যয় হওয়ায় ১১ ঘণ্টা দেরিতে বাস ছাড়ে রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায়। কল্যাণপুর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত গাড়ি চলছে কচ্ছপ গতিতে। চার ঘণ্টায় মাত্র ৫০ কিলোমিটার পৌঁছতে পেরেছেন তারা। কখনও থেমে থাকছে গাড়ি, ছোট-ছোট শিশুরা রাস্তার গাড়ির ফাঁক দিয়ে দৌড়া-দৌড়িও করছে।

দীর্ঘ সময়ে রাস্তায় থাকার প্রস্তুতি নিলেও তীব্র গরমের মধ্যে শিশু ও নারীদের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবার মাঝে-মধ্যে বৃষ্টির কারণেও রাস্তায় ধীর-গতি দেখা যায়। বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত কালিয়াকৈরে বাস থেমে ছিলো বলে জানান সেরাজুল ইসলাম। ঈদের দু’দিন আগে থেকে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত এই যানজট লেগে আছে বলে জানান পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, শনিবার রাতের সব গাড়ি রোববার সকাল থেকে ছাড়তে শুরু করলেও এদিন সকালের গাড়ির শিডিউল মেলাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কল্যাণপুর ও গাবতলীতে শ্যামলী, হানিফ, টিআর, এসআরসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সবারই শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে হাজার-হাজার যাত্রী অপেক্ষমাণ। সকালে তীব্র গরমের মধ্যে বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা।

শ্যামলী পরিবহনের আগের রাতের যাত্রীদের সকাল ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ১২টা পর্যন্তও শিডিউল ঠিক হয়নি। বেলা ১২টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের নওগা‍ঁগামী যাত্রীদের বিকাল চারটায় কাউন্টারে উপস্থিত থাকার কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চারঘণ্টা পরও বাস পাওয়া যাবে কিনা-তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না তারা। গাবতলীতে রোজিনা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, শতশত যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষমাণ। আগের রাত সাড়ে ১০টার গাড়ি ওই সময় পর্যন্ত আসেনি বলে জানান যাত্রীরা।

লঞ্চযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়: রোববার সকালে ঢাকার নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরে লঞ্চ এসেছে ৭৬টি আর ছেড়ে গেছে ৪৭টি। সকাল ছয়টার দিকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ঈগল-৩ ও মর্নিং সান টার্মিনালে ভেড়ার সময় সজোরে ধাক্কা লেগে টার্মিনালের ৬ নম্বর পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টার্মিনাল দিয়ে লঞ্চে ওঠার সময় নির্ধারিত পন্টুনে লঞ্চ না পেয়ে যাত্রীরা অন্য পন্টুন দিয়ে লঞ্চে ওঠে। এতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ করতে শেষ মুহুর্তে চলছে ঢাকায় বসবাসরত মানুষের ঘরে ফেরার প্রস্তু‌তি। দেশের দ‌ক্ষিণবঙ্গগামী সকল লঞ্চেই উপচে পড়া ভিড়। কোনো লঞ্চেই তিল ধারণের মতো জায়গাটুকুও নেই। ঘাটে বিআইড‌ব্লিউ‌টিএ’র পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে ব‌রিশালে ১০/১২টি লঞ্চ সন্ধ্যার পর ছেড়ে যাবে। পিরোজপুর, ব‌রিশাল, তুষখালীগামী লঞ্চ এম‌ভি পূবালী-১ ছেড়ে যাওয়ার কথা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। লঞ্চ‌টির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা লেখা আছে ৪৫০ থেকে ৬৪৪ জন। সাড়ে ৫টার দিকে লঞ্চে উঠে দেখা যায় ডেকে কোথাও পা ফেলার মতো জায়গা নাই। অনুমান করা গেল ল‌ঞ্চের ছাদ ও ডেক মি‌লিয়ে ইতোমধ্যেই ৫০০ পার হয়ে গেছে। এখনও যাত্রী আসছে ¯্রােতের মতো।দুপুর থেকেই যাত্রীরা ডেকে বিছানা পেতে বসে আছে, কেউ দাঁড়‌য়ে বাতাস করছে। এম‌ভি পূবালীর যাত্রী নাস‌রিন জানান, দুপুর দুইটা থেকে লঞ্চে বসে আ‌ছি। ছাড়ার কথা সাড়ে ৬টায় এখন কয়টায় ছাড়ে কে জানে। গরমে সেদ্ধ হয়ে যা‌চ্ছি। একই লঞ্চের যাত্রী মহ‌সিন। তি‌নিও বিকেল ৩টা থেকে লঞ্চে দাঁ‌ড়িয়ে আছেন। এদের সবার উদ্দেশ্য ডেকের জায়গা দখল। আগে আসলে জায়গা দখল করা যাবে সেজন্যই গরম উপেক্ষা করেই বসে থাকা জানান যাত্রীরা।

কমলাপুর: রোববার সকাল ৭টায় বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের দু’টি কোচের (কোচ নং ১০২৩ ও ১০১১) এয়ার প্রেসার ব্রেক আউট’ হয়ে যাওয়ার কারণে রেলের শিডিউলে সমস্যা শুরু হয়। এরপর পারাবতের পেছনে আটকা পড়ে সকাল ৭টায় কমলাপুর ছেড়ে আসা সোনারবাংলা এক্সপ্রেস। তেজগাঁও স্টেশনে বসে থাকে তিস্তা এক্সপ্রেস। আর কমলাপুর থেকে কোনো ট্রেনই দু’ঘণ্টায় ছাড়তে পারেনি। দু’ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টায় পারাবতের ‘এয়ার প্রেসার ব্রেক’ ঠিক করে দেওয়ার পর ফের ট্রেন ছেড়ে যেতে শুরু করে।কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, পারাবত ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ভ্যাকুয়াম সমস্যার কারণে আটকে থাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার লাইন ব্লক হয়ে যায়। এ কারণে তিস্তা তেজগাঁওয়ে ও সোনারবাংলা বিমানবন্দরে আটকে পড়ে। এছাড়া আরও ৭টি ট্রেন কমলাপুরে নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। বিমানবন্দরে রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহমুদুল হাসান জানান, পারাবত ট্রেনের ছাদে অবৈধভাবে যাত্রী উঠে বাতাস যাওয়ার কারণে পাই‌প এয়ার প্রেসার ব্রেক নষ্ট করে ফেলে‌ছিলো, যে কারণে সমস্যা হয়। বিমানবন্দর রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ছাদে যাত্রী উঠে যাওয়ায় কারণেই পারাবতের ‘এয়ার প্রেসার ব্রেক আউট’ হয়ে যায়। তবে এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ান নতুন কোচ নিয়ে চলাচল শুরু করে পারাবত। এই প্রথম ট্রেনটি বিকল হয়ে দু’ঘণ্টা দেরি করে বিমানবন্দর ছাড়লো।এদিকে, লাইন ব্লক হয়ে যাওয়া কমলাপুরে যাত্রী ভিড়ে ঠাসা হয়ে পড়ে। সব প্লাটফমে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষা করতে থাকে। তবে শিডিউল জটিলতায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। পরে পৌনে ১০টার দিকে ট্রেনটি কমলাপুর ছাড়ে। ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজর সেলিম। একদিন পিছিয়ে রোববার সকালে ১০-১২ ঘণ্টা পর বাস ছাড়লেও দুপুর পর্যন্ত তা কমে এসেছে ৫-৬ ঘণ্টায়। তবে পূর্বের শিডিউল বিপর্যয়ের জেরে সময় মত গাড়ি না ছাড়ায় অন্য শিডিউলও পরিবর্তন হবে বলে আশঙ্কা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। রাস্তায় দ্বিগুণ সময় লাগায় এতে ঈদের আগের দিনের যাত্রীরা বাড়িতে পৌঁছে ঈদ করতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে কল্যাণপুর থেকে বিআরটিসি বাসগুলো যথা সময়ে ছেড়েছে বলে জানান সেখানকার স্টাফ নজরুল ইসলাম।

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে আজ রোববারও তীব্র যানজট দেখা গেছে। যানজটের কারণে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট দেখা গেছে। একই সময় ভোগড়া বাইপাস থেকে বোর্ডবাজার পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট ছিল। কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় যানজট দেখা যায়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আজ ভোরের দিকে যানজট কিছুটা কম ছিল। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট বাড়ে। সকাল আটটার দিকে এই মহাসড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজট পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মির্জাপুর এলাকায় টাঙ্গাইলগামী যানবাহন থমকে থাকতে দেখা গেছে। রংপুরগামী কাভার্ডভ্যানচালক মো. রানা বলেন, চন্দ্রা থেকে মির্জাপুর ২০ মিনিটের পথ। কিন্তু এটুকু আসতে তাঁর দেড় ঘণ্টা লেগেছে। মির্জাপুরে এসে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বসে থাকতে হয়েছে। কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন সরকার বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট নিরসনে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, সকাল থেকেই ভোগড়া বাইপাস থেকে বোর্ডবাজার পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সকাল আটটার পর হঠাৎ যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এ কারণে যানজট তীব্র হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। মানিকগঞ্জ: পদ্মায় প্রবল ¯্রােত ও দৌলতদিয়ায় একটি ঘাটে পল্টুন বন্ধ থাকার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার উভয় পাড়ে যানজট বেড়েই চলেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষকে।শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঘাটের পাটুরিয়া প্রান্তে কয়েকশ’ এবং দৌলতদিয়া প্রান্তে কয়েকশ’ গাড়ি নদীপথ পারের অপেক্ষায় রয়েছে।আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নৌপথ পারের অপেক্ষায় কমপক্ষে দুই শতাধিক বাস ও তিন শতাধিক ছোট গাড়ি রয়েছে।অপরদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, ঘাটের দৌলতদিয়া প্রান্তে বাস ও পশুবাহী ট্রাক মিলে ৪ শতাধিক যানবাহন রয়েছে।

তবে প্রবল ¯্রােতে ফেরি চলাচল ব্যাহত এবং দৌলতিয়ার চারটি ফেরি ঘাটের মধ্যে তিন নাম্বার ঘাটটি বিকেল থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যানজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ১৯টি ফেরির মধ্যে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে আটটি রো রো, তিনটি কে-টাইপ ও পাঁচটি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করছে। এছাড়া মেরামতে রয়েছে একটি কে-টাইপ ও একটি ইউটিলিটি ফেরি। আর ইঞ্জিন দুর্বল থাকার কারণে প্রবল ¯্রােতে চলাচলে ব্যর্থ হয়ে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় অবসরে আছে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান ও বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান নামের দুইটি ফেরি। টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে গাজীপুরের ভোগড়া মোড় পর্যন্ত এলাকায় বিকালে পর থেকে শত শত শ্রমিককে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাস না পেয়ে অনেকেই ট্রাকের ওপর উঠেছে। অনেক নারীকেও বাসের ছাদে দেখা গেছে।

এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর থেকে গজারিয়া উপজেলার মেঘনা সেতু এলাকা পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট ছিল। এ কারণে ঘরমুখী যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে। সকাল ১০টায় দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর ওপর কথা হয় মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকাগামী রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চালক নাছির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিতাস উপজেলার কাওরিয়ারচর গ্রামের বৃদ্ধা আছিয়া বিবিকে (৬৫) নিয়ে ঢাকায় রওনা দিয়ে তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। রোগীর সমস্যা হলেও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা ছিল না। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশ গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। অন্যদিকে, সারা দিন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আটকে ছিল শত শত গাড়ি। চারটি ঘাটের মধ্যে রোববার দুপুরে ফের ৩ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ১ ও ২ নম্বর ঘাট প্রায় দুই ঘণ্টা করে বন্ধ ছিল। এ ছাড়া চালু থাকলেও ৪ নম্বর ঘাট সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই সকাল থেকে থেমে থেমে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে ভিজেই অনেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: