সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যদি সারাবিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা এমন হতো!

91072178_gettyimages-78241703-550x309নিউজ ডেস্ক : ১৯৭০ সালের কথা, হৃদরোগ সম্পর্কিত রোগে মৃত্যুর হারে এক নম্বরে ছিলো ফিনল্যান্ড। তখনই কপালে ভাঁজ পড়ে নীতিনির্ধারকদের। বড় বড় জ্ঞানীগুনীরা জড়ো হন কিভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায়। তখন থেকেই ফিনল্যান্ডের স্বাস্থ্য সচেতনতায় মনোযোগ বাকী বিশ্বের যে কোনও দেশের চেয়ে বেশি। শিশুকাল থেকেই শুরু হয় এই সচেতনতা। দেশটি নির্দিধায় আপন করে নেয় স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক গবেষকদের পরামর্শ। ফলে ৪০ বছরের ব্যবধানে ফিনল্যান্ডের শিশু কিশোররা এখন শুধু লেখাপড়াতেই এগিয়ে নয়, বরং তারা এখন ইউরোপের অন্যতম সেরা শারীরিকভাবে সক্ষম ছাত্র।

ফিনল্যান্ডের এই যাত্রায় সবসময়েই নতুন নতুন সচেনতনতা যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির সরকারের তরফ থেকে বলা হয় প্রতিটি শিশুর দৈনিক অন্তত তিন ঘণ্টা কায়িক পরিশ্রম হয় এমন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা উচিত। তারা শিশুর অভিবাবককে পরামর্শ দিয়েছেন যাতে শিশুরা শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন শখ লালন করেন।

এই কাজের জন্য টার্গেট করা হয়েছে আট বছর বা তার কম বয়সী ছাত্রছাত্রীদের।
ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সানি গ্রান-লেসনেন বলেন, যখন শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে ব্যায়াম করবে তখন তারা একে অপরের মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে পারবে, সামাজিকতা বাড়বে সঙ্গে সুস্বাস্থ্য তো আছেই।

দৈনিক তিন ঘণ্টা! এতে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় প্রভাব পড়বে না তো? প্রসঙ্গত, ফিনল্যান্ডের ছাত্রদের ফলাফল উন্নত দেশগুলোর ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। এই ধারা অব্যহত রাখতে শিক্ষার বিষয়টিও ভাবতে হবে। ফিনল্যান্ড এই বিষয়টিতে একটি অসাধারন সমাধান আনতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে বিবসির একটি প্রতিবেদনে। কিছু কিছু স্কুল শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেস্ক সরিয়ে দেওয়া চিন্তা করছে! এর পেছনে যুক্তি হচ্ছে, ছাত্ররা শ্রেণিকক্ষে হাঁটাচলা করে শিখবে, একে অপরের সঙ্গে কথা বলবে এতে পারষ্পরিক যোগাযোগ যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি লেখাপড়া ও শারিরীক ব্যায়ামের বিষয়টিরও সুরাহা হবে।

দেশটির প্রাথমিক শিক্ষা প্রধান আনেলি রটেইনিন বিবিসিকে বলেন, আমাদের নতুন পাঠক্রমে আমরা সাপ্তাহিক দুই থেকে তিন ঘণ্টা শারীরিক শিক্ষার পাঠ রাখছি সেই সঙ্গে বাড়ছে শ্রেণিকক্ষের বাইরের শিক্ষার পাঠও। আমরা সনাতনী পাঠদান পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এসে একেবারে নতুন কিছুও ভাবছি।

যার মধ্যে থাকবে কিছু শ্রেণিকক্ষের ডেস্ক ও চেয়ার সরিয়ে দেওয়া। যাতে নিয়মিত বিষয়গুলো শিখতেও শিক্ষার্থীদের বেশিক্ষণ বসে থাকতে না হয়।

রটেইনিন আরও বলেন, কিছু কিছু শিক্ষার্থী চেয়ার ও ডেস্কে বসে ভালো শিখতে পারে। অন্যরা হাঁটাচলা করে ক্লাসমেটদের সঙ্গে কথা বলে শেখার সুযোগ পাবে এই পদ্ধতিতে। আমরা ‘পার্সোনালাইজড’ পাঠাদান পদ্ধতির দিকে গুরুত্বারোপ করছি। শিক্ষার পরিবেশ অবশ্যই আধুনিক ও ভিন্ন ভাবে শিক্ষায় আগ্রহী ছাত্রদের জন্য বন্ধুসুলভ হতে হবে।
এই বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে শ্রেণিকক্ষের লেখাপড়ার মধ্য থেকেই শারীরিক ব্যায়ামের সুবিধা আদায় করা প্রথম দেশ হবে ফিনল্যান্ড।
বিষয়টি নিয়ে তরুণদের ওপর জরিপও হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে দেশটির শিক্ষার্থীরা স্কুল সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত সময় ব্যায়াম ও পাঠদান শেষে অতিরিক্ত সময় জিমে কাটাতে আগ্রহী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ হচ্ছে ৫ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের দৈনিক অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। এর চেয়ে বেশি হলে পরবর্তী জীবনেও সুবিধা পাবে ও সঙ্গে স্বাস্থ্যগত লাভ তো থাকছেই।
প্রশ্ন হচ্ছে ফিনল্যন্ডের শিক্ষার্থীরা যদি এতো ফিট হবে তাহলে নতুন করে বাড়তি সময় কেন? ডব্লিউএইচওর তথ্য মোতাবেক, ফিনল্যান্ডের শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য অবশ্যই বিশ্বমানের। তবে স্বাস্থ্য বিষয়ক অসাম্য বাড়তির দিকে।
প্রসঙ্গত, ফিনল্যান্ড এতটাই স্বাস্থ্য সচেতন যে প্রতি বছর একজন শিক্ষার্থীর ওজন মাপা হয়। যদি সেখানে কোনও সমস্যা ধরা পড়ে তাহলে ডাক্তারকে ডাকা হয় ও তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি স্কুল থেকেই স্বাস্থ্যকর দুপুরের খাবার দেওয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: