সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হংকং-এর রাতের গোপন খাবার

hong-550x347আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভিক্টোরিয়া হার্বারের উপর দিয়ে যখন সূর্যটা অস্ত যায়, হংকং-এর রাস্তাগুলো তখনও জনাকীর্ণই থেকে যায়। একটি দারুণ মধ্যরাতের আগে আগে দর্শণার্থীরা চাইলে কাঠের তৈরী নৌকার খোঁজ করতে পারেন যেগুলো চাঁদের আলোয় চিকচিকে জলে দাঁড়িয়ে আছে আপনারই অপেক্ষায়। জটিল নিয়ন সাইনে রাস্তার রঙিন বাতিগুলোর তখন অন্য রূপ। কোলাহলময় রাতের বাজারগুলোতে তখন কেনা কাটায় ব্যাস্ততা বাড়ে। জুতা থেকে শুরু করে ব্যাগভর্তি গোল্ডফিশ সবই বিক্রি হয় এসময়। কুয়াশার মতো আর্দ্রতাকে টুকরো টুকরো করে দেয় রাতের কূজন। কিন্ত এসময় সমবেত কোলাহল আরও একটি প্রস্তুতি নেয় রহস্যময় এক খাবারের গন্ধকে অনুসরণ করে।

আসলে হংকংবাসীরা খাদ্যকে এতটাই ভালোবাসে যে, তিনবেলা স্বাভাবিক খাবারের বাইরেও তারা একটি চতুর্থ খাবারের আয়োজন করে; যা খেতে হয় রাতের গভীরে। তারা এর নাম দিয়েছে ‘সুই ইয়েহ’। রাত বাড়লে এটি খেতে হয়। সাধারণত রাত ৯টা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত সময়ের ভেতরেই এই খাবারটি খাওয়া হয় হংকংয়ে। বলা যায়, ডিনার সেরে বিছানায় যাওয়ার পূর্ব মহুর্তে। হংকংয়ের অল্প সংখ্যক রেস্তোরাঁ ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। তবে বেশির ভাগই রাত ৯টার পর খোলে; আর তা কেবল ‘সুই ইয়েহ’ ব্যাবসার জন্যই। প্রত্যেক রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং ফুটপাত স্টলের নিজস্ব সুই ইয়েহ মেন্যু রয়েছে। এমনকি রাতের নাইটক্লাবগুলোও তাদের ডিজে পার্টির জন্য নিজস্ব লেটনাইট খাবারের আয়োজন করে।

‘হংকং ফুডি টেস্টিং ট্যুরস’-এর সিলভানা লিয়াং বলেন, চায়নিজদের একটি কথা প্রচলিত আছে, আর তা হলো- খাওয়ার জন্য তুমি কাজ করে টাকা কামাও।
হংকংয়ের ফুডি ম্যাগাজিনের সম্পাদক এবং রান্না বিষয়ক ব্লগার সেলিয়া হু জানান, হংকংয়ের সুই ইয়েহ গভীর রাতের অন্যান্য স্ন্যাকস সংস্কৃতির চেয়ে মান এবং বৈচিত্রে আলাদা।

তিনি বলেন, এটা (সুই ইয়েহ) কেবল নরম কাদাটে কাবাবই নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও অভ্যস্থতা। তিনি বলেন, হংকংয়ে বেশিরভাগ লেট নাইট কিংবা সারা রাতের হোটেলগুলোর মেন্যুতে নানা রকম সামুদ্রিক খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও থাকে জটিলভাবে ভাঁজ করা শুকরের মাংস দিয়ে প্রকৃয়াজাত ওনটনস, যেগুলো অল্প আঁচে সিদ্ধ করা থাকে।
হোটেল বুফেই হোক আর ফুটপাতের খাবারের দোকানই হোক, হংকংয়ের খাবার চিত্রের আকারায়তন দেখলে হতবুদ্ধিতে পরিনত হতে হয়। স্থানীয়রা ভালো ডিম পেস্ট্রি কিংবা ওয়াইন মাখানো রাজহংসের জন্য প্রতিদিনই লাইন ধরে ভিড় করেন। মিচেলিস্টার রেস্তোরাঁ থেকে মিটার কয়েক দূরেই সাধারণ, সস্তা এবং মজাদার স্বাদের ওনটনস বিক্রি হয়। আর ওই রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় অল্প আঁচে সিদ্ধ করা ঝিনুক এবং ব্রিটানি ব্লু চিংড়ি।

কিন্তু বেশিরভাগ সুই ইয়েহ শপই থাকে একটু খোলামেলা জায়গায়, যেখানে ব্যাস্ততার মাত্রা একটু কম।
হু বলেন, এই খাবারগুলো যেসব মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে থাকে তারা ওই খোলামেলা জায়গাগুলোতে নিত্য যাতায়াত করে এবং এগুলো সঙ্গেই বেড়ে ওঠে। ভালোবাসায় পরিপূর্ন মানুষেরা এর মাধ্যমে একত্রে বসবাস এবং ভাগাভাগি করার অনুপ্রেরণা পায়।
দাই পাই দং নামে একটি ফুটপাতের খাবারের দোকানে গভীর রাতে আপনি পাবেন, প্যানক্যাক, সিদ্ধ করে ভাজা ঝিনুক, পুডিং, মাছের বল, থাকে মাংসজাত কয়েক প্রজাতির খাবার, ডিম দিয়েও কয়েক প্রকারের খাবার বানানো হয়।

সুই ইয়েহ-এর জন্য অল্প আঁচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাজারো খাবারের ভিড়ে এই খাবারটিকে গভীর রাতের খাদকরা ঠিকই বেছে নেয়।
খাদ্য বিষয়ক লেখক এবং হংকংয়ের সবচেয়ে বড় কৃষক বাজার ‘আইল্যন্ড ইস্ট মার্কেট’র প্রতিষ্ঠাতা জেনিস লিয়াং হায়েস বলেন, সুই ইয়েহ খাবারটি মূলত চিনের গুয়াংডং প্রদেশ থেকে আবিষ্কৃত হয়। সেখানকার সংস্কৃতিতে এটি একসময় রাতের খাবারের পর ওয়াইন পানের সময় মানুষ খেতো।

হংকংয়ের গ্রীষ্মপ্রধান তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা দিনের বেলার ক্ষুধাকে নীরস করে দেয়। ফলে যে সেখানকার স্থানীয়রা সূর্য ডুবার পর থেকেই খাওয়ার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে।

হায়েস বলেন, বিশ্বে যে কোন এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে আমাদের এখানে বেশি রেস্তোরাঁ আছে। কিন্তু আমি মনে করি এটা আমাদের অল্প জায়গায় অধিক সহবস্থানের জন্যই। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা আমাদের ডিনার পর্টিগুলোকে কখনোই ছাড়তে পারবোনা।
মজা করে তিনি আরও বলেন, প্রচুর খাবারের জন্য হংকংয়ে আপনি কখনোই ক্ষুধার্ত হবেন না।
তিনি আরও বলেন, চিনা সংস্কৃতি দারুণভাবে খাদ্য নির্ভর; প্রত্যেক উৎসবেই এই ব্যপারটি লক্ষ করা যায়।
মানুষেরা কাছাকাছি হওয়ার জন্য খাদ্য একটি অন্যতম মাধ্যম বলে তিনি যোগ করেন। বিবিসি অবলম্বণে

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: