সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গোলাপগঞ্জে একাধিক মামলার আসামী কর্তৃক ওসি দারোগাসহ বিশিষ্ট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

1182গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জের এক সন্ত্রাসী কর্তৃক ওসি, দারোগাসহ সমাজের বিভিন্নস্তরের লোকজনের উপর মামলা দায়ের করায় সর্বমহলে বিরোপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দীর্ঘ দেড়মাস জেল খেটে বের হয়ে আবার উৎপাত শুরু করায় উপজেলা কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী জনপদে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে যাতে কোন পদক্ষেপ না নেয় এজন্য পুলিশকে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা করল একাধিক মামলার আসামী ফলিক খান। ফলিক খানের অত্যাচার আর নির্যাতনে এলাকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সর্বস্তরের জনতার পক্ষ থেকে জোরালো দাবী উঠেছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারী বাজার ইউনিয়নের লামাচন্দরপুর গ্রামের অধিবাসী, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফলিক খান বহুল আলোচিত এক ব্যক্তি। বিভিন্ন অপকর্মের কারনে অতীতেও তিনি বার বার নিজ এলাকা ছাড়াও গোলাপগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়ে মিডিয়ায় স্থান পেয়েছিলেন। গত ১৩ জুন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করে অহেতুক মোবাইলে ভিডিও চিত্র রেকর্ড করতে থাকলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফলিক খান ও তার সহযোগীরা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে ভাংচুর চালায়।

এ সময় উপজেলা প্রাঙ্গনে আতংকের সৃষ্টি হলে পুলিশের আগমন টের পেয়ে এক পর্যায়ে সে তার দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক ওসমান গনি বাদী হয়ে ফলিক খানসহ তার সঙ্গীয় ১৪ জনের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করলে এক পর্যায়ে ফলিক খান পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এছাড়া নিজ এলাকার ফয়জুর রহমান খানের পুত্র জিলাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে সন্ত্রাসীর অভিযোগ এনে গত ৫ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি এজহার গণ্যে রেকর্ড করার জন্য আদালত গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে অনুরূপ ভাবে বিভিন্ন অভিযোগে ফলিক খানকে জেল খাটতে হয়েছিল। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ, মেম্বার, চেয়ারম্যান তথা প্রতিবাদী জনতার বিরুদ্ধে সব সময় তার অবস্থান থাকায় এলাকার লোকজন তার প্রতি অতিষ্ঠ।

গত বৃস্পতিবার ফলিক খান বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও দু’জন এসআই, একজন এএসআই ও নিজ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী, চন্দরপুর আল-এমদাদ কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিজাম উদ্দিন, অসুস্থ মুমূর্ষ রোগী, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহানসহ বেশ ক’জন লোককে আসামী করে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। সম্প্রতি নিজ এলাকা লামা চন্দরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নার্গিস আক্তারকে উত্যাক্ত করে এলাকায় নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ফলিক খান। এর রেশ কাটতে না কাটতে আবার ওসি-দারোগা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সদস্য, পঙ্গুরোগাক্রান্ত মুমূর্ষ রোগীসহ সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের অভিযুক্ত করে আদালতে এজহার দাখিলের বিষয়টি তোলপাড় সৃষ্টি করে। এতে আবারও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়ে আলোচিত হলেন লামা চন্দরপুর গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মৃত আলতাব আলী খানের পুত্র ফলিক খান।

এ ব্যাপারে বুধবারী বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে, তাদের ব্যাপারে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: