সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতক-দোয়ারায় কোরবানীর পশুরহাট, ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হয়ে ওঠেছে জমজমাট

file-25-800x450জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাতকঃ ছাতক-দোয়ারা বাজারের বিভিন্ন পশুর হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে এখন জমজমাট। সারা বছর ধরে এ দু’টি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পশু বিক্রি হলেও কোরবানীর ঈদে বেচাকেনা বেড়ে যায় কয়েকগুণ বেশি। এবার ভারতীয় গরু না এলেও এসব হাটে গরু ও ছাগলের আমদানীর কমতি নেই। ক্রেতারা বলছেন দাম বেশি, অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন দাম স্বাভাবিক রয়েছে। হাট এলাকার আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি পশুর হাটে রয়েছে পুলিশি নজরদারি। জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্যও বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকণ মেশিন। আর মাত্র কয়েক দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা (কোরবানীর ঈদ)।

আর এ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ছাতক-দোয়ারার সবকটি স্থায়ি পশুর হাটসহ নতুন-নতুন হাট। এসব হাটগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করাগেছে । ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ছাতক-দোয়রাবাজারে এ বছর ছোট বড় ৮/১০ টি স্থানে পশুর হাট বসেছে বলে জানা গেছে। ছাতক উপজেলার বহুল প্রচারিত জাউয়া বাজার, গোবিন্দগঞ্জ বাজার। দোয়ারা উপজেলার বালিউড়াবাজার, বোগলাবাজার ও পশ্চিম বাংলাবাজার পশুহাট অন্যতম।

এছাড়া ছাতক পৌরসহরের ছাতক বাজার দোয়রা উপজেলয় নরসিংপুর বাজারসহ দু’উপজেলায় কোরবানী উপলক্ষে প্রায় ৮/১০টি পশুরহাট জমে উটেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ও পরিবেশ ভাল থাকায় দূর- দুুরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসছেন এসব হাট গুলোতে। কোরবানীর হাটে পশুর দাম ভাল পাবেন এই আশায় এলাকার ব্যবসায়ীরা অনেক যতœ সহকারে লালন পালন করেন তাদের পশু গুলি। অধিক লাভের আসায় পশু গুলোকে সাজিয়ে হাটে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।

এসক হাট গুলোতে সর্বোচ্চ ১লক্ষ, ১লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা মুল্যের গরু থেকে শুরু করে ৮০ হাজার, ৭০ হাজার, ৬০ হাজার, ৫০ হাজার, ৪০ হাজার ও ৩০ হাজর টাকার গরুর আমদানি করে থাকেন বিক্রেতারা। এছাড়া ৫হাজার, ১০হাজার, ১৫হাজার থেকে ২০হাজর টাকার ছাগলও আমদানি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে দাম থাকায় বেচা-কেনাও ভাল হচ্ছে বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। জাউয়া বাজার হাটে গরু কিনতে আসা দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার মাহমদপুর গ্রামের আফসার উদ্দিন বলেন, হাটে ভিবিন্ন দামের পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু আছে এবং মূল্যও আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। কোরবানী দেওয়ার জন্য গরু ক্রয় করেতে বাজারে এসেছি। কোরবানি দেওয়ার সার্থে দাম কমি-বেসি কোন সমস্যা নয় পছন্দ মত গরু পেলে ক্রয় করব।

বাজারে গরু কিনতে আসা দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ব ও দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা রাজন আহমদ লিমন বলেন, কোরবানী দেওয়ার জন্য গরু কিনতে হাটে এসেছি। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গরু হাটে দেখছি পছন্দ মত গরু ক্রয় করতে হাটে গুড়ে দেখছি । পছন্দ হলেই গরু ক্রয় করে নেব। নাসির উদ্দিন নামের অপর এক ক্রেতা বলেন অন্যান্য বছর থেকে গরুর দাম এবছর কিছুটা বেশী বলে মনে করছেন তিনি । গত বছর যে গরু ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করে ছিলেন এবছর তিনি গরুটি ৫০হাজার টাকায় ক্রয় করেেছন।

জাউয়াবাজারে কোরবানির পশু ক্রয় করতে আসা ছাতক সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, আ.লীগ নেতা আব্দুল লতিফ খান জানান ঐতিহ্যবাহী জাউয়া বাজার পশুর হাটে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে আসেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর দাম একটু বেশি। ভারতীয় গরু বাজারে না আসায় দাম ছাড়তে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা। গত বছর তিনি যে গরু ৯০ হাজার টাকায় ক্রয় করে ছিলেন এবছর গরুটি ১লক্ষ ১০হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন।
জাউয়াবাজর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন বলেন- প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নির্বিঘ্নে ক্রেতা-বিক্রেতারা কোরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করছেন। হাট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদা করা হয়েছে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্তক থাকতে এবং যে কোন সমস্যার সৃষ্টিহলে জাউয়াবাজর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও হাট ইজারাদার কতৃপক্ষের আশিলে যোগা-যোগ করতে হাট কতৃপক্ষ মাইকিং করে জানিয়ে দিচ্ছেন। পাশা-পাশি হাট কতৃপক্ষ রয়েছেন সব সময় নজরদারিতে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান বলেন, আমি প্রতি বছরই কোরবানীর ঈদের আগে গ্রাম এলাকা থেকে গরু ক্রয় করে নিজে যতœ করে কোরবানীর সময় দোয়ারার বাংলাবাজার, বালিউরা বাজার ও ছাতক উপজেলার ছাতকবাজার ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি লাভও হয় ভাল।

উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী পশু বিক্রি করতে এসেছেন পৌর শহরের ছাতকবাজারে । তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাজারের দাম বেশী হওয়ায় অনেক ক্রেতা কোরবানির পশু না কিনে চলে যাচ্ছেন। যার ফলে আমরা আশানুরূপ বিক্রি না করতে পারায় গরুগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছিল। আজও একটি গরু ৮০ হাজার টাকা দাম চাইলে ক্রেতারা ৫০/৬০ হাজার টাকা দাম করছেন। তাই বিক্রি করতে পারিনি। তবে ঈদের আগের দু’দিন বাজার আরো অনেক ভাল হবে বলে আশা করছি।

দোয়ারা উপজেলার নরসিংপুর বজারে আসা ক্রেতা নওসাধ জামিল জানান, প্রতি বছর দু’টি গরু কোরবানী দিয়ে থাকি। গত বছর নরসিংপুর বাজার থেকেই ৫৫ হাজার টাকায় একটি কোরবানির পশু ক্রয় করে ছিলাম। এবারও একটা গরু ক্রয় করেছি ৬০হাজার টাকায়। এবছর দাম একটু বেশই মনে হচ্ছে। উপজেলার বালিউরা বাজারেও গিয়ে ছিলাম। সেখান দাম বেশি হওয়ার কারনে ক্রয় করিনি। এখানে আরো একটি গরু পছন্দ হয়েছে দামও করেছি অপেক্ষা করছি আরেকটু সময় যাক কমবেশি করে গরুটা ক্রয় করার আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন বাজারে একাধিক বিক্রেতার সাথে কথা হলে তারা বলেন লোক সমাগম অনেক হলেও বেচা বিক্রি তেমন জমেউঠেনি । ঈদের আর মাত্র ২/৩ দিন বাকী তাই পশুর হাটের ভিড় ও আস্তে আস্তে বেড়েই চলছে। শেষ মুহূর্তে আরো বেশী ভিড় বাড়বে এবং রাত ১২-১টা পর্যন্ত বেচা কেনা চলবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ছাতকের বাজার গুলোতে আসা পশু স্বাস্থ্য সম্মত কিনা জানতে চাইলে ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস শহিদ হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বাজার আমরা গুড়ে দেখেছি । স্থানীয় বাজারে আসা পশুগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে যা স্বাস্থ্য উপযোগী। তবে আমাদের ভেটেনারী দল বিভিন্ন পশুরহাটে কাজ করছে যাতে করে কোন অসুস্থ পশু বিক্রি করা না হয়। ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন বলেন এখানের প্রতিটি পশুরহাটে ব্যপক পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান উপজেলার সবকটি সড়কে পুলিশি নজরদারি রয়েছে যাতে করে ব্যবসায়ীদের গাড়ি আটক করে কোন সমস্যার সৃষ্টি করা না হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, কোরবানীর পশুর হাটগুলোতে জালটাকা শনাক্তকরন মেশিন বসানো হয়েছে যাতে কোন প্রকার অপরাধীচক্র হাট গুলোতে জাল টাকা ছড়াতে না পারে। এছাড়া সড়ক পথে যাতে ব্যবসায়ীরা কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি বলে তিনি জানান। ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন ছাতকের সবকটি হাটে আইনসৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন নজরদারি করছে। সবকটি হাটে জালটাকার ছড়া-ছড়ি বন্দ করতে জালটাকা সনাক্তত করন মেশিন বসানো হয়েছে। তবে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জরে পশুর হাট এলকা সম্পুর্ণ সিসি কেমেরার আওতায় আনা হয়েছে। এখান আসা ক্রেতা-বিক্রেতাগন যাতে কোরবানীর পশু গুলো নিরাপদে রেখে এবং শান্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন সে লক্ষ্যই হাট এলাকায় চাউনিসহ নিরাপত্তা বেষ্টনির ব্যবস্থা করেছেন হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: