সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে মৎসজীবির মেয়ে লোকগীতিতে জাতীয় পুরস্কার লাভ

02145বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: দারিদ্রতাকে জয় করে বিশ্বনাথের নিভৃত পল্লীর এক মৎসজীবির কিশোরী মেয়ে প্রমা রানী সরকার (১২) লোকগীতিতে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। সে বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। প্রমার এই সাফল্যে তার বিদ্যালয়ে যেমন আনন্দের বন্যা বইছে ঠিক তেমনী আনন্দ বইছে তার নিজ গ্রাম দৌলতপুর ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও গ্রামেও । হাজার হাজার ছাত্রীকে পেছনে ফেলে দিয়ে নিজ গ্রাম কিংবা নিজ উপজেলার জন্য এমন গৌরবজনক সম্মান বয়ে নিয়ে আসা সামান্য এক মৎসজীবির কন্যা প্রমার এমন চমৎকার প্রতিভা থাকলেও তার নেই কোন সংগীত শিক্ষক এমনকি কোন প্রকার বাদ্যযন্ত্রও।

জানাগেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও গ্রামের হতদ্ররিদ্র মৎসজীবি জগিন্দ্র সরকার ও নির্মলা রানী দম্পতির ঘরে ২০০৪ সালে জন্মগ্রহন করে তাদের ৫ম সন্তান প্রমা রানী সরকার। সে দিন কে জানত শ্যামলবর্ণ রঙ নিয়ে দরিদ্র মৎসজীবির ঘরে জন্ম নেওয়া সেই প্রমা একদিন বাংলাদেশ জয় করবে। প্রমা লেখাপড়ায় তেমন ভাল না হলেও ছোট বেলা থেকেই সে ছিল সংগীতের প্রতি অনুরোক্ত । রেডিও বা টিভিতে কোন গান একবার শুনলেই সে হুবহু করে সুর তুলে গাইতে পারত। এক সময় তার এই অভ্যাসের কথা সহপাঠী ও শিক্ষকরা জানতে পারেন। যার কারণে বিদ্যালয়ের কোন অনুষ্ঠান হলেই তাকে বাধ্যতামূলকভাবে গান গাইতে হত। এবার সে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনোহর আলী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আনছার আলীর উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০১৬ তে লোকগীতিতে সে অংশ নেয়। প্রথমে সে উপজেলা পর্যায়ে ১ম , পরবর্তীতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ১ম স্থান অর্জন করায় সে ঢাকায় গিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়ে ১ম স্থান অর্জন করে নিজ বিদ্যালয় তথা বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর জন্য এমন গৌরব এবং সম্মানজনক সাফল্য নিয়ে আসে।

জানাগেছে, শীঘ্রই সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় এ পুরস্কার গ্রহন করবে। সে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কন্টশিল্পী সাবিনা ইয়াছমিনের ভক্ত। প্রমা ভবিষ্যতে দেশের এই গুণী শিল্পীর মত দেশজুড়ে গান চাইতে চায়। ভিটেমাটি ও সহায় সম্বলহীন এক মৎসজীবির ঘরে জন্ম নেওয়া প্রমা একবেলা খেতে পারলেও পরের বেলার খাবারের নিশ্চয়তার ব্যাপারে যার গ্যারান্টি নেই, এমনকি সংগীত চর্চার জন্য যার কোন শিক্ষক এমনকি সাধনার জন্য কোন বাদ্যযন্ত্র নেই তার পক্ষে সাবিনা ইয়াছমিনের মত শিল্পী হওয়া তো দারুন এক কঠিন কাজ । অথচ স্রষ্টা প্রদত্ত তার গলার চমৎকার সুর ও প্রতিভা আছে । নিজ প্রতিভার গুনে বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর জন্য এই গৌরবপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার এনে দেওয়া প্রমার জন্য কি আমাদের কোন কিছুই করার নেই ? তার প্রতি সহযোগিতার হাত না বাড়ালে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমরা কি এই দায় এড়াতে পারব? মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে যদি প্রমার জন্য একসেট বাদ্যযন্ত্র এবং ১ বৎসরের জন্য একজন সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায় তাহলে নিংসন্দেহে তার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের প্রাথমিক ধাপ পূর্ণ করা সহজ হবে। তাই বিশ্বনাথের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার অনুরোধ রইল ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: