সর্বশেষ আপডেট : ৩৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ পবিত্র হজ : লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

hazzডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আজ রোববার পবিত্র হজ। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে হাজিরা মিনা থেকে যাবেন সেই ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে, যেখানে দাঁড়িয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বিদায়ী হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। আর সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামের পূর্ণতা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে গিয়েছেন। দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন সারা মুসলিম উম্মাহর জন্য। সেখানে গিয়ে ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলবেন হজযাত্রীরা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন। হজ ভিসা নিয়ে যাঁরা সৌদি আরবে গিয়ে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে। কারণ, আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ।

আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া করে) গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় যাবেন। মিনার কাজ শেষে আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। যাঁরা হজের আগে মদিনায় যাননি, তাঁরা মদিনায় যাবেন।

শুক্রবারই হজের প্রস্তুতি হিসেবে লাখ লাখ হজযাত্রী সমবেত হতে থাকেন পবিত্র মক্কা নগরীতে। গ্রান্ড মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রায় ১৫ লাখ মুসল্লি। সূর্যের প্রখর রোদ তাদের গতিবিধি, উদ্দেশ্যে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নি। শুক্রবার মক্কায় দিনের তাপমাত্রা ছিল ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার মধ্যেই আল্লাহকে রাজি, খুশি করার জন্য মুসল্লিরা, হজযাত্রীরা ছুটে যান গ্রান্ড মসজিদে। আদায় করেন জুমার নামাজ। তবে এবার মক্কা থেকে মদিনা, মদিনা থেকে আরাফাত আবার ঠিক উল্টো যাত্রা মসৃণ, নিরাপদ করতে পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক বাদশা সালমানের নেতৃত্বে সরকার চমৎকার ব্যবস্থাপনা করেছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মানসুর আল তুর্কি হজযাত্রীদের এই বিশাল সমাবেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের সফরকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সব রকম আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। হজ সিকিউরিটি ফোর্সেসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ আল হারবি বলেছেন, যা করা হয়েছে তা মহান আল্লাহর অতিথিদের সম্মানে করা হয়েছে। পবিত্র এই মক্কা নগরীকে আল্লাহ বেছে নিয়েছেন। আমরা সৌদি নাগরিকরা হজযাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, মিনায় যাত্রার আগে জুমার নামাজের আগে হজযাত্রীরা পবিত্র কাবা ঘর তাওয়াফ করেছেন। জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মাম থেকে হজযাত্রীবাহী শত শত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন শুক্রবার ছুটে যায় মক্কায়। কোনো কোনো গাড়ি সরাসরি চলে যায় মিনায়। মিনায় পৌঁছে তাদের মাঝে আনন্দের যেন সীমা নেই। জীবনে হজের আনুষ্ঠানিকতায় পৌঁছাতে পেরে আনন্দে কাঁদেন অনেক হজযাত্রী।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: