সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নোট-গাইড পড়ালে এমপিও বাতিল, শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত

educationbangladeshশিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ::
নোট-গাইড প্রকাশ ও পড়ানো, কোচিং সেন্টার পরিচালনা ও শিক্ষকদের বাইরে কোচিং বন্ধে কঠোর বিধান রেখে আসছে প্রথম শিক্ষা আইন।

জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশের আলোকে ‘শিক্ষা আইন-২০১৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যে আইনে নোট-গাইড বন্ধে সংযোজন করা হয়েছে কড়া বিধান।

নোট-গাইড বই প্রকাশ ও পড়ানো, কোচিং সেন্টার পরিচালনা করলে হবে অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ড। শিক্ষকরা এ কাজে সম্পৃক্ত হলে বাতিল হবে এমপিও। ইংরেজী মাধ্যমের প্রতিষ্ঠানেও বাংলা ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয় হবে বাধ্যতামূলক। এক ব্যক্তি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবর্নিং বডির প্রধান হতে পারবেন না।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই জাতীয় সংসদে আইনটি পাস করা যাবে। জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষা আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হলেও এতদিন বিষয়টি ঝুলেছিল।

তবে এবার বেশকিছু নতুন ও যুগান্তকারী বিষয় যুক্ত করে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার।

বেশকিছু নতুন ও যুগান্তকারী বিষয় যুক্ত করে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, আলাদা আইন থাকায় প্রস্তাবিত খসড়া থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে দশ বছরের সাজার প্রস্তাব এবং সরকারী কলেজ শিক্ষকদের শাস্তির বিধান বাদ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অডিট ও আইন) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষা আইন একেবারে চূড়ান্ত না হলেও প্রায় চূড়ান্ত বলতে পারেন। আরেকটি মিটিং হলেই চূড়ান্ত করা যাবে।

তিনি জানান, সকল ক্যাডারেই নিজস্ব আইনে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। এজন্য শিক্ষা আইনে সরকারী কলেজ শিক্ষকদের জন্য শাস্তির আলাদা বিধান রাখার প্রয়োজন নেই।

বেসরকারী শিক্ষকদের বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, ‘কোন শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত, কর্তন ও বাতিল করা যাবে। তবে স্থগিতকৃত বেতন-ভাতার সরকারী অংশের (এমপিও) কোন বকেয়া প্রদান করা যাবে না। সরকারের অনুমোদনক্রমে স্থগিতকৃত বেতন-ভাতার সরকারী অংশ পুনরায় চালু করা যাবে। এক্ষেত্রে বকেয়া প্রদান করা যাবে না।’

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এর শিক্ষা প্রশাসন অধ্যায়ে প্রথমেই বলা হয়েছে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রনয়নের কথা। বলা হয়, ‘শিক্ষা সংক্রান্ত সকল আইন, বিধি-বিধান ও আদেশাবলী একত্রিত করে এ শিক্ষানীতির আলোকে এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

গত দুই বছরে শিক্ষানীতির সুপারিশ মেনে কয়েকবার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।

শিক্ষানীতি প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টরা একটি কার্যকর শিক্ষা আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়ে বলেছেন, অনিয়মের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম মোকোবেলা করতে আইনের প্রয়োজন। তারা বলেছেন, কোন মহলের চাপে বা কোন কারণে যেন এ আইন তৈরির কাজ বন্ধ না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদরা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে খসড়ায় শিক্ষার চারটি স্তর রাখা হয়েছে।

প্রাক-প্রাথমিক (চার থেকে ছয় বছর), প্রাথমিক (প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম), মাধ্যমিক (নবম থেকে দ্বাদশ) এবং উচ্চশিক্ষা (দ্বাদশ শ্রেণী থেকে স্নাতক ও তদুর্ধ)। স্তরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকসহ প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক এবং এ শিক্ষা শিশুর অধিকার হিসেবে গণ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, ইংরেজী মাধ্যমসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি সরকারের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারণ করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। ইংরেজী মাধ্যমের প্রতিষ্ঠান হলেও বাংলা ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয় পড়ানো হবে বাধ্যতামূলক।

আইনের খসড়া অনুসারে এক ব্যক্তি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির প্রধান হতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজী মাধ্যম ও এবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধনের এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জরিমানা, ছয় মাসের কারাদ- বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ইংরেজী মাধ্যম বা বিদেশী কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশী কোন শাখাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন নিতে হবে।

এ নিয়ম লঙ্ঘন করলেও সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

বিশিষ্ট নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে নোট ও গাইড বই প্রকাশের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি, নোট ও গাইড বই পড়ে ছাত্রছাত্রীদের মেধার বিকাশ ঘটছে না, বরং তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী শিক্ষা আইনে সহায়ক বইয়ের নামে নোট ও গাইড বই প্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত করা হয়েছে।

খসড়া আইনের ৫১ নম্বর ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘গাইড বই, নোট বই তৈরি এবং এর সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। তবে এক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক পাণ্ডুলিপির অনুমোদন গ্রহণ করাইয়া কোন প্রকাশক অতিরিক্ত হিসাবে সহায়ক শিক্ষা উপকরণ বা পুস্তক প্রকাশ করিতে পারবে। এ বিষয়ে পাণ্ডুলিপি অনুমোদনে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেবে এনসিটিবি।’

একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালী সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির পরিপন্থী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কার্যক্রম অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্যও জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতেই পূর্বের খসড়া থেকে কিছু কিছু বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে, আবার কিছু কিছু বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। বিশিষ্ট নাগরিকরা নোট-গাইড বইয়ের বিষয়ে যেসব প্রস্তাব করেছেন সেগুলোকে মূল্যায়ন করে খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খসড়া আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কারণে কোন বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, মাদ্রাসার সুপার বা প্রধান শিক্ষক অথবা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারী অংশ এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক বন্ধ, আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্তন কিংবা বাতিল করা যাবে।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারী নির্দেশনা মোতবেক প্রতিষ্ঠানের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও আয়-ব্যয় নিরীক্ষা না করা, ভুয়া তথ্য প্রদান, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ, ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি/ শাখা প্রদর্শন, পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন এবং বোর্ডের আপীল ও আরবিট্রেশন সিদ্ধান্ত প্রতিপালন না করলে, জাল সনদে এমপিওভুক্ত, মহিলা কোটা অনুসরণ ব্যতীত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্যাটার্নবহির্ভূত পদে এমপিওভুক্তি, এনসিটিবি অথবা যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নয় এমন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই অনুসরণ করলে, আদালত কর্তৃক কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে, অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় প্রমাণিত হলে, প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বাণিজ্যে জড়িত প্রমাণিত হলে, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী কোন কার্যক্রম প্রমাণিত হলে অথবা নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আইনে নারীশিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। খসড়ার ৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, বাজেটে নারীশিক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে। শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যসূচীতে অধিকসংখ্যক মহীয়সী নারীর জীবনী এবং নারী মুক্তি বা শিক্ষায় অবদান রেখেছেন এমন পুরুষদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ভৌত অবকাঠামো ও সামাজিক পারিপার্শি¦কতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, মাধ্যমিক স্তরের শুরুতে নবম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে জেন্ডার স্টাডিজ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা কাজের জন্য দরিদ্র, মেধাবী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তাভুক্ত ছাত্রীদের বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা, সুদমুক্ত, স্বল্প সুদে ও সহজশর্তে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার সকল স্তরের নারী-পুরুষ বিভেদে সমতা ও সাম্যতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বিদেশী কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতায় ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল বা সমপর্যায়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিচালনা করা যাবে। কোন এলাকায় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা না থাকলে সরকার প্রয়োজনে একীভূত/স্থানান্তর/বিলুপ্ত করতে পারবে। অষ্টম শ্রেণী শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষার বিধান রেখে শিক্ষা আইনের নতুন খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীতকরণে কাজ করছে সরকার। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নীত করার পর প্রাথমিক সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা থাকবে কি-না তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ধারা লঙ্ঘন করলে তিনি অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদ- বা ছয় মাসের জেল বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বিষয়ে বলা আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন মানসিক বা শারীরিক শাস্তি দেয়া যাবে না। এটি লঙ্ঘন করলে শিক্ষক অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদ- বা তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নির্ধারিত পাঠ্যবই না পড়িয়ে বাইরের বই পড়ালে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের জেল বা উভয় দণ্ড রাখা হয়েছে খসড়ায়।

খসড়ার উচ্চশিক্ষার অংশে বলা হয়েছে, কলেজ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা পাঁচ বছর জেল বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। অনুমতি ছাড়া বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় চালালে বা শাখা ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার বা টিউটোরিয়াল কেন্দ্র স্থাপন করলে পাঁচ বছর কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে যার আইনগত কোন ভিত্তি নেই। এ কারণে কেউ কোর্টে মামলা করলে আমরা হারি। এজন্য আমরা আইনটি করতে যাচ্ছি, যেখানে সমন্বিতভাবে শিক্ষার বিভিন্ন খাতকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এতে সরকার, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান সবাই এটা মেনে চলতে বাধ্য হবে।

খসড়া আইনে প্রশ্ন ফাঁসের জন্য শাস্তির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকলের বিষয়ে আলাদা একটি আইন আছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস বা বিভ্রান্তি ছড়ালে ১৪ বছরের জেল বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। যেহেতু আলাদা আইন আছে তাই শিক্ষা আইনের খসড়ায় বিষয়টি রাখা হয়নি।

সূত্র : দৈনিক শিক্ষা

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: