সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে ১৮ কোটি টাকার চামড়া কিনতে চান ৬০ জন চামড়া ব্যবসায়ী

dailysyletnews_kaumullashবিশেষ প্রতিবেদক ::
সিলেটে ১৮ কোটি টাকার চামড়া কেনার লক্ষ্য নিয়ে ঈদের দিন মাঠে থাকবেন ৬০ জন বড় চামড়া ব্যবসায়ী। যদিও এবার লক্ষ্যমাত্রার চামড়া সংগ্রহে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যে প্রধান তিন সমসা হচ্ছে, লবণের দামবৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও পাচারকারীদের উৎপাত।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের ঝালোপাড়ার শাহজালাল বহুমুখি সমবায় সমিতির অধীনে সিলেটে ৬০ জন বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা আছেন। তারা প্রতি বছর কুরবানির ঈদে তাদের কর্মীদের মাধ্যমে তৃণমল পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন। প্রতি বছর ঢাকার আড়তদার ও ট্যানারি কোম্পানিগুলো চামড়া ব্যবসা করার জন্য বকেয়া টাকাগুলো দেয়। সেই টাকা নিয়েই সিলেটের ব্যবসায়ীরা মাঠে নামেন চামড়া কিনতে। এবার সিলেটের পাওনা সারা বছরের চামড়া বাবদ ১৩ কোটি টাকা ও গেল বছরের কুরবানির ঈদের ৫ কোটি টাকা। সেই টাকা ফেরত দিচ্ছে এসব কোম্পানি ও আড়ৎদারেরা।

সিলেটের চামড়া সমিতি সূত্র জানায়, এবার লবণের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৪২ টাকা হয়েছে। গেল বছর এক বস্তা লবণের দাম ছিল ৪ শ টাকা। এবার তা বেড়ে বস্তা প্রতি ১৫শ’ টাকা হয়েছে। একটা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ লাগে ১৫ কেজি। লবণের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক চামড়া নষ্ট হওয়ার আশক্ষা রয়েছে। কেউ কেউ দাম কমার আশায় কাঁচা চামড়ায় লবণ কম দিয়ে রেখে দেবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চামড়ার দাম ৫০ টাকা; এই দামে চামড়া কিনে প্রক্রিয়াজাত করে সেই চামড়ার দাম ৭০ টাকা ফুট পাওয়া অনেক কঠিন। তবু ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, কেননা ঢাকার পোস্তায় সিলেটের চামড়া ৮০ থেকে ৯০ টাকা ফুট হিসেবেও বিক্রির রেকর্ড রয়েছে।

চামড়া ব্যবসায়ী হাজি লিয়াকত আলী জানালেন, একজন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঈদের দিন থেকে ঈদের পরের দিন পর্যন্ত ৬০/৭০ জন শ্রমিক কাজ কাজ করেন। তাদের প্রত্যেককে এক রাত এক দিনের জন্য ৩ হাজার টাকায় ভাড়া আনা হয়। এর পর লবণের মূল্যবৃদ্ধির, চামড়ার দাম কমে যাওয়া-এসব কারণে লাভ করাটা কঠিন। পাশাপাশি চামড়া পাচারকারীরা সিলেটে ঢুকে পড়ে।

সূত্র আরও জানায়, সিলেটে প্রতিবছর মৌসুমি কিছু চামড়া ব্যবসায়ীরা ঈদের দিন চামড়া কিনতে মাঠে থাকেন। মূলত, এরা উত্তরবঙ্গ থেকে আসেন সিলেটে গরু বিক্রি করতে। কিন্তু গরু বিক্রি করে তারা আর ফেরত যান না। সিলেটে ঈদের নামাজ পড়ে মাঠে নেমে পড়েন তাদের বিক্রি করা গরুর দালালের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করতে। তারা একটু বেশি দামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারত পাচার করে দেন। গেল বছর কুরবানির ঈদে এরকম ৩০ জন পাচারকারী সিলেটে এসেছিলেন। যে-কারণে, সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভ করতে পারেননি। তবে কোনো লোকসানও গুনেননি।

চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের দিন সিলেট নগরীর সকল চামড়া সংগ্রহ করা হয় রেজিস্ট্রারি মাঠে সুরমা মোড়ে। এখান থেকে লাখ লাখ চামড়া পিকআপ ভ্যানে তোলে নেওয়া হয় কারখানায়। কিন্তু ছাত্রলীগসহ এলাকার কিছু উঠতি চাঁদাবাজরা চামড়া লোডিং পয়েন্টে এসে অস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। তারা প্রতি পিস চামড়ায় ৫০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। পুলিশকে বলেও কোনো লাভ হয় না। কেননা, এসব চাঁদাবাজদের মদদ দেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা ফোন করে পুলিশ আটকে রাখে। পরে ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে চামড়া গাড়িতে তোলেন।
শাহজালাল বহুমুখী চামড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছমির উদ্দিন বলেন, এবার একটু ঝুঁকির মধ্যে চামড়া ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে, পাচারকারী, চাঁদাবাজ ও লবণের দাম বাড়া। চাঁদাবাজ ও পাচারকারীদের ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আশ্বস্ত করা হয়েছে, পাচারকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকবে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার কামরুল আহসান বলেন, পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে, চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সিলেটের হাইওয়ে সড়ক ও সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা পুলিশ টহলে থাকবে, যাতে সিলেট থেকে কোনো চামড়া পাচার হতে না পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: