সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গোলাপগঞ্জে শেষ পর্যায়ে জমে উঠেছে পশুর হাট

unnamedজাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ: আর মাত্র দুইদিন পর ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানীর ঈদ। এ ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর গোলাপগঞ্জে সপ্তাহ খানেক পূর্ব থেকে পশুর হাট জমে উঠলেও এবার জমে উঠেছে মাত্র ৩/৪ দিন আগে। অন্যান্য বছর পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড থেকে কোরবানী উপলক্ষ্যে চোরাই পথে গরু আসলেও এই বছর তা একেবারে নেই বললেই চলে। ফলে উপজেলাবাসীকে কোরবানীর জন্য এবার দেশী গরুর উপর নির্ভর করতে হবে। বাহিরের গরু না আসাতে দেশী গরুর দামও চড়া। বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় দেশী গরু লালন পালন করতে খরচ বেশী হয়েছে তাই কম দামে গরু বিক্রী করতে পারছেনা বিক্রেতারা। ঈদের আগে বাহিরের গরু না আসলে বেশী দামে দেশী গরু দিয়েই এবার কোরবানী করতে হবে গোলাপগঞ্জবাসীকে। তবে এসব বাজার থেকে ক্রেতারা এক বাজার থেকে অন্য বাজারে গিয়ে যাচাই-বাচাই করে গরু কিনছেন। অনেক বিক্রেতাও তাদের পশুগুলো চওড়া দামে বিক্রি করার জন্য একেকদিন একেক বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক ক্রেতা বাজারের মূল্য আরো বৃদ্ধি হতে পারে ভেবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগেভাগেই গরু ক্রয় করে ফেলছেন।

ইতিমধ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাজারে শেষ পর্যায়ে জমে উঠেছে কুরবানীর পশুর হাট। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার বাজারগুলোতে যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার শুরু থেকে প্রত্যেকটি বাজারে গরু-ছাগল বেচাকেনা শুরু হলেও প্রথম দিকে হাটগুলো জমে উঠেনি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হেতিমগঞ্জ বাজার, গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমী মাঠ, পুরকায়স্থ বাজার, ঢাকাদক্ষিণ মাদ্রাসা মাঠ, মীরগঞ্জ মাদ্রাসা মাঠ, শরিফগঞ্জ মাদ্রাসা মাঠ ও রিকাবী বাজারে ঈদুল আযহা উপলক্ষে বসেছে কোরবানীর হাট। এসকল বাজারে শুধু গোলাপগঞ্জ উপজেলা বা সিলেট জেলার নয় অন্যান্য জেলা থেকেও বিক্রেতা ও ক্রেতারা এসে থাকেন।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণের দেশী গরু নিয়ে বিক্রেতারা বসে আছেন।
এই বছর কোরবানীর হাটে বাহিরের গরু কম আশায় দেশী গরুর দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা। দেশীয় পশু কেনার ক্ষেত্রে মোটতাজা পশুতে পাম ইনজেকশান ব্যবহার হয়েছে কিনা এমন ভয়ে অনেকে দেশী পশু কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

ঈদের আরো ২ দিন বাকি থাকলেও এখনো বাজারে গরু বিক্রি হচ্ছে কম। যেসব বাড়ীতে কুরবানীর পশু দেখাশুনার লোক রয়েছে এমন পরিবার আগে থেকে পশু কেনা শুরু করেছেন। আর যেসব পরিবার চাকুরীজীবি বা পশু দেখাশুনা করার মত কেউ নেই ওইসব পরিবার এখনো পশু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে এক্ষেত্রে অনেকে যতদিন যাচ্ছে তত দাম কমবে এমন বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। উপজেলার সবচেয়ে বড় অস্থায়ী পশুর হাট এম,সি একাডেমী স্কুল কলেজ মাঠ। এ মাঠে পুরোদমে শুরু হয়েছে গরু বেচা-কেনা। তবে অন্যান্য বছর ঈদের ৪/৫দিন আগ থেকে গরু ক্রয়ের হিড়িক পড়লেও এবার তা অনেকটা কম। এখানকার গরু বিক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানাযায়, প্রতিবছর ভারতীয় গরুর সংখ্যা বেশি থাকে। এ জন্য গরুর মূল্যও কম থাকত। কিন্তু এবার ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় গরুর সংখ্যা বেশি এবং মূল্যও বেশি। তবে সময় সময় যে হারে গরুর সংখ্যা বাড়ছে হয়ত মূল্য কমে আসতে পারে বলেও তারা জানান।এখানে টানা ঈদের রাত পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় চলবে বলেও কর্তৃপক্ষ জানান।

উপজেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় পশুর হাট হচ্ছে মোগলাবাজার (পাহাড়লাইন) রোডে অবস্থিত পুরকায়স্থ বাজার।এ বাজারে বেশি ভাগই ঘরোয়া গরু বিক্রি হয়ে থাকে।উপজেলার সকল এলাকার মানুষই এ বাজারে এসে থাকেন।গরু বিক্রির হার এ বাজারে সবচেয়ে বেশি।রয়েছে ক্রেতাদেরও উপচে পড়া ভীর।গরু কিনতে আসা জয়নুল আহমদ নামের ব্যক্তি জানান, এবার বিদেশে গরু না আসাতে দেশি গরুর চড়া দাম।
উপজেলার প্রতিটি গরুর হাটে প্রতিবছর জাল টাকা সনাক্ত করতে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থা সনাক্তকারী মেশিন বসালেও এবার তা দেখা যায়নি।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অসি এ,একে,এম ফজলুল হক শিবলি বলেন, কোরবান উপলক্ষে থানার আওতাধীন পশুর বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রত্যেক বাজারে একজন অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি করে টিম কাজ করতেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: